TwitterFacebook

গোলাম আযমের পক্ষে বিদেশি সাক্ষী আনার জন্য সমন চেয়ে করা আবেদন খারিজ গোলাম আযমের পক্ষে বিদেশি সাক্ষী আনার জন্য সমন চেয়ে করা আবেদন খারিজ

Published/Broadcast by :
Date : Friday, 19 October 2012
Author : চিফ ল’ করেসপন্ডেন্ট
Published at (city) :
Country concerned :
Regarding alleged perpetrator :
Regarding Justice process :
Keywords :
Language :
Entry Type : Feature, News, Uncategorized
Source : http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=49348ed37f833a99d70fdb621f29d883&nttl=18102012146217
Content :

ঢাকা: জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের পক্ষে সাফাই সাক্ষীদের তালিকায় দু’জন বিদেশি সাক্ষী আনার জন্য সমন চেয়ে করা আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার আবেদনটি খারিজ করে দেন।

গোলাম আযমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক মঙ্গলবার গোলাম আযমের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করেন। ওই দু’জন বিদেশি সাফাই সাক্ষী হচ্ছেন ন্যাটোর সাবেক কর্মকর্তা জেনারেল জ্যাক ডেভারেল এবং মিডলসেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার বিভাগের অধ্যাপক উইলিয়াম সাবাজ। তারা দু’জনই যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তাদের মধ্যে ডেভারেল গোলাম আযম যে যুদ্ধাপরাধের ‘সুপিরিয়র কমান্ডার’ ছিলেন সেই অভিযোগের বিষয়ে এবং সাবাজ আইনগত দিক নিয়ে সাক্ষ্য দেবেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আসামিপক্ষের আবেদনের ওপর গত মঙ্গলবার ও বুধবার দু’দিন শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত আদেশ দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল।

ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেন, ‘‘ট্রাইব্যুনাল এ আবেদন খারিজ করলেন। তবে আসামিপক্ষ যদি চান, তাহলে তারা নিজ উদ্যোগে এ সাক্ষীদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার উদ্যোগ নিতে পারেন।’’

ট্রাইব্যুনালের আদেশের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গোলাম আযমের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এই আদেশ একটি ভুল ও ভ্রান্ত আদেশ। এতে করে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছি।’’

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আসামিপক্ষের এ আবেদন এখতিয়ার ও আইন বহির্ভুত। এ আবেদনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা এটা করে দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রোপাগান্ডা তৈরি এবং বিশ্ব জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর ১০(৩)-এর এইচ ধারা অনুযায়ী আসামিপক্ষ সমনের আবেদন করতে পারেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল মনে করলে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারেন, অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ নিয়োগ দিতে পারেন।’’

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের পক্ষে আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষী সংখ্যা ১২ জন হবেন বলে গত ৯ অক্টোবর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওই সাফাই সাক্ষীদের নামের তালিকা ১৪ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে এবং সাফাই সাক্ষীরা কে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন তাও লিখিতভাবে জানাতে আসামিপক্ষকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আসামিপক্ষ গোলাম আযমের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ২৯৩৯ জন সাফাই সাক্ষীর নামের তালিকা দিয়েছিলেন। রোববার এ তালিকা বাদ দিয়ে সাফাই সাক্ষীর তালিকা কমানোর আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। ওই আবেদনের শুনানি শেষে সাফাই সাক্ষী সংখ্যা ১২ জনে নির্ধারণ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে সাক্ষ্য দেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের ১৭তম ও শেষ সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে জেরা করছেন আসামিপক্ষ।

এছাড়া ৮ জন ঘটনার সাক্ষী ও ৭ জন জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ১৫ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার সাক্ষীরা হলেন, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষক ড. মুনতাসীর মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবউদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, মানবাধিকার কর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা দক্ষিণপাড়া গ্রামের সোনা মিয়া, একজন শহীদ পরিবারের নারী(ক্যামেরা ট্রায়াল), বরেণ্য গীতিকার ও সুরকার মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এবং রাজধানীর নাখালপাড়ার ফরিদ আলম।

আর জব্দ তালিকার সাক্ষীরা হলেন বাংলা একাডেমীর সহ গ্রন্থাগারিক মো. এজাব উদ্দিন মিয়া, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) রাজনৈতিক শাখার উচ্চমান সহকারী সেলিনা আফরোজ, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের উচ্চমান সহকারী কাজী আইয়ুব হোসেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার কামালের বোন ডা. মুনিয়া ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় যাদুঘরের কিপার ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কর্মরত সাঁট মুদ্রাক্ষরিক জামিনুর শেখ।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের ১৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষী মহসিন আলী খানের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মানবতাবিরোধী ৫ ধরনের অপরাধের ৬১টি অভিযোগে অভিযুক্ত করে গত ১৩ মে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ১০ জুন তার বিরুদ্ধে ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের অভিযোগ হলো, মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, উস্কানি, পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করা এবং হত্যা-নির্যাতনে বাধা না দেওয়া।

অভিযোগগুলোর মধ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা ও তাদের সঙ্গে চক্রান্ত করার জন্য ছয়টি, তাদের সঙ্গে পরিকল্পনার তিনটি এবং উস্কানি দেওয়ার ২৮টি এবং তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ২৪টি অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি গোলাম আযমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কারাগারে পাঠানোর পর চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বিচার চলছে।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ওই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মোট ৬২টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৬১টি গ্রহণ করে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পরে কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের মাধ্যম। মোট ৩৬০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়।


Uploaded By : anonymous
This item has been recorded here as part of ICSF's Media Archive Project which is a crowd sourced initiative run by volunteers, a not for profit undertaking to facilitate education and research. The objective of this project is to archive media items generated by different media outlets from around the world - specifically on 1971, and the justice process at the International Crimes Tribunal of Bangladesh. This archive also records items that contain information on commission, investigation and prosecution of international crimes around the world generally. Individuals or parties interested to use content recorded in this archive for purposes that may involve commercial gain or profit are strongly advised to directly contact the platform or institution where the content is originally sourced.

Facebook Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Comments

comments

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.