TwitterFacebook

প্রথম রায়ে আযাদের ফাঁসি

Published/Broadcast by :
Date : Monday, 21 January 2013
Author : নিজস্ব প্রতিবেদক
Published at (city) :
Country concerned :
Regarding Justice process :
Keywords : , , , , , , , , , ,
Language :
Entry Type : News, Uncategorized
Source : http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article580471.bdnews
Content :

নিজস্ব প্রতিবেদক,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

চার দশক আগে বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামকে দমাতে ব্যাপক গণহত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার ১১২ পৃষ্ঠার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম রায়।

পলাতক আযাদের বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল প্রধান।

এর মধ্যে বোয়ালমারী থানার কলারন গ্রামের সুধাংশু মোহন রায়, সালথা থানার (সাবেক নগরকান্দা) পুরুরা নমপাড়া গ্রামের মাধব চন্দ্র বিশ্বাস ও ফুলবাড়িয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ার চিত্তরঞ্জন দাসকে গুলি করে হত্যা এবং বোয়ালমারী থানার হাসামদিয়া গ্রামে লুটপাট- অগ্নিসংযোগের পর গণহত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া ফরিদপুর শহরের খাবাশপুরের রণজিৎ নাথ ওরফে বাবু নাথকে ধরে নিয়ে নির্যাতন, নতিবদিয়া গ্রামে দুই নারীকে ধর্ষণ এবং সালথা থানার উজিরপুর বাজারপাড়া গ্রামের এক হিন্দু তরুণীকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধ প্রমাণিত হলেও অন্য চার অভিযোগে ফাঁসির আদেশ হওয়ায় এ তিন ঘটনায় নতুন কোনো শাস্তির আদেশ দেয়নি আদালত।

তবে আলফাডাঙ্গা থেকে ধরে এনে আবু ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় এই অভিযোগ থেকে আযাদকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আযাদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক থাকায় এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে না বলে জানিয়েছেন তার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের নিয়োগ করা আইনজীবী মো. আবদুস শুকুর খান।

এমনিতে রায়ের এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকলেও আত্মসমর্পণ না করলে বা ধরা না পড়লে আযাদ সে সুযোগ পাবেন না।

রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “ঐতিহাসিক এই রায়ে জাতির আশা পূরণ হয়েছে।”

২০০৯ সালের ২৫ মার্চ এই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর দুই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মোট নয়টি মামলার কার্যক্রম শুরু হয়, যার মধ্যে আযাদের মামলার রায় হলো এবং আরো দুটি মামলা রায়ের পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে রায়ের তারিখ থাকায় পুরাতন হাইকোর্ট ভবন এলাকায় সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থান সংকুলান না হওয়ায় আদালত বসে ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

আদালত শুরুর আগে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সবার সহযোগিতা চান। এরপর জনাকীর্ণ আদালত কক্ষে তিনি রায় পড়া শুরু করেন। এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারপতিও উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন গত বছর ২ সেপ্টেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যাতে লুট, ধর্ষণ, হত্যা, গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়।

এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র আযাদ ছাত্রসংঘের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৫ মার্চের কালরাতের পর তিনি সহযোগীদের নিয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান।

গত এপ্রিলে আযাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও পুলিশ তার বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল গত ৯ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে বলে।

আযাদ পলাতক থাকায় এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির না হওয়ায় গত ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়।

এরপর ৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আযাদের বিরুদ্ধে ৬ ধরনের ৮টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সাতটিতে আযাদকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় রায়ে।

রায়ে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের ৫ মার্চ ফরিদপুরের বড়খাড়দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী আবুল কালাম আযাদ রাজেন্দ্র কলেজে লেখাপড়া করেন।

তিনি জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদেরও বিচার চলছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠনের আগ পর্যন্ত আযাদ পাকিস্তানি সেনাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।

১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল তিনি ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলোর সঙ্গে একত্র হয়ে’ ফরিদপুরে পাকিস্তানি সেনাদের ‘অভ্যর্থনা’ জানান। আযাদ স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন এবং আলবদর বাহিনীরও প্রধান ছিলেন।

পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মিলে আযাদ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও স্বাধীনতার পক্ষের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ গঠনের আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আযাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হলে তার পক্ষে শুনানি করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুস শুকুর খানকে নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২ জন সাক্ষ্য দেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেননি।

শুনানি শেষে গত ২৬ ডিসেম্বর এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আর সোমবার আযাদের ফাঁসির রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে চল্লিশ বছরের অসমাপ্ত এই বিচার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল।

Published: 2013-01-21 05:51:55.0 Updated: 2013-01-21 09:59:08.0


Uploaded By : অনার্য
This item has been recorded here as part of ICSF's Media Archive Project which is a crowd sourced initiative run by volunteers, a not for profit undertaking to facilitate education and research. The objective of this project is to archive media items generated by different media outlets from around the world - specifically on 1971, and the justice process at the International Crimes Tribunal of Bangladesh. This archive also records items that contain information on commission, investigation and prosecution of international crimes around the world generally. Individuals or parties interested to use content recorded in this archive for purposes that may involve commercial gain or profit are strongly advised to directly contact the platform or institution where the content is originally sourced.

Facebook Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Comments

comments

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.