Home » Article, Bengali, Dhaka, Intellectuals, Politics, War Crime, War Criminal, প্রথম আলো

যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘না’ জয়যুক্ত হয়েছে

31 December 2008 Author: সৌরভ সিকদার: সহযোগী অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। Original Source: Link

জাতীয় নির্বাচন

ত্রিশ লাখ শহীদ এবং কয়েক লাখ মা-বোনের সম্£মহানির মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ন হয়েছিল। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি সংগঠন এবং তাদের নেতা-কর্মীরা যে জঘন্য হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতন চালিয়েছিল তা বিশ্বের ইতিহাসে এখনো বর্বরোচিত বলে চিহ্নিত। আজও এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। বাংলাদেশে কখনো এরা সাধারণ ক্ষমা, কখনোবা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নিয়ে নতুনরূপে আবির্ভুত হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এরা চার দলের জোট সরকারের মন্ত্রী হয়ে গাড়িতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে কলঙ্কের কালিমা মেখে দিয়েছিল ত্রিশ লাখ শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মুখে।
২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দেশের মানুষ এসব যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তাদের ‘না’ জয়যুক্ত করেছে। ২০০১ সালে যেখানে জোট সরকারের শরিক জামায়াত ১৭টি আসন লাভ করেছিল। নবম জাতীয় নির্বাচনে তারা মাত্র দুটি আসন লাভ করেছে। তাদের প্রথম সারির প্রায় সব নেতা এবার পরাজিত হয়েছে। এ পরাজয়ের কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সচেতন নতুন প্রজন্ন এবং বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের প্রাপ্য। এ ছাড়া সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্র্মুল কমিটি, প্রজন্ন একাত্তরসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গণমাধ্যম এ বিষয়ে বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছে নিঃসন্দেহে। এঁরা সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, মানব হত্যাকারী, ধর্ষণকারী জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং তাদের ‘না’ বলার যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, এবারের নির্বাচনে বলা চলে তারই সুবিবেচনাযোগ্য রায় আমরা পেয়েছি।
এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সত্যিকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এসব যুদ্ধাপরাধী ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতিকারী। বাংলাদেশের কোনো সরকারই এসব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ১৯৯৬-এর নির্বাচনে জয়লাভ করেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নবম জাতীয় নির্বাচনে যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং ১৯৭১ সালের লাখো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অবশ্যই সরকার গঠন করে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে একদিকে যেমন যে বিপুলসংখ্যক ভোটার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে তাদের ‘না’ ভোট দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা হবে না, তেমনি এ দেশের রক্তভেজা মাটিতে শহীদের আত্মা কোনো দিনও শান্তি পাবে না। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি নতুন সরকারের কাছে।
সৌরভ সিকদার: সহযোগী অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Keywords/

Added by: Selina

Comments are closed.