TwitterFacebook

৩৯তম বিজয় দিবস পালিত গ্রামের পরিবর্তন কী?

Published/Broadcast by :
Date : Friday, 18 December 2009
Author : প্রফেসর রঞ্জন দেবনাথ
Content :

শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০০৯, ৪ পৌষ ১৪১৬

২০০৯ আর ১৯৭১, যারা প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা অথবা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাদের কাছে মনে হয় এই তো সেদিন। বাস্তবে তো ‘এই তো সে দিন’ নয়। ৩৭-৩৮ বছর আগের ঘটনা। আমাদের প্রথম বিজয় দিবস হচ্ছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। আজকের বিজয় দিবস হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর বিজয় দিবস, ২০০৯ সালের বিজয় দিবস। যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তা পালিত হয়েছে গত বুধবার। মাত্র দু’দিন আগে। বিজয় দিবসকে উপলক্ষ করে যেসব আলোচনা হয় তাতে বলা যায় একে আমরা স্মরণ করি এবং এ দিবসটি উদযাপন করি সামরিক বিজয় দিবস হিসেবে। নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৬ ডিসেম্বরে। এই দিন পাকিস্তানী বর্বর সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বা সমন্বিত বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং এর মাধ্যমে জন্মলাভ করে আজকের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ দিবসটি তাই সামরিক বিজয় হিসাবেই চিহ্নিত হয়। পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটেছে আজ ৩৭-৩৮ বছর। ৩৭-৩৮ বছর পর আমরা কি আজ দাবি করতে পারি যে আমরা দারিদ্র্যকে জয় করতে পেরেছি, আমরা কি দাবি করতে পারি যে আমরা অশিক্ষা কুশিক্ষা জয় করতে পেরেছি? আটত্রিশতম বিজয় দিবসে আমরা কি বলতে পারি যে বাঙালী জাতি হিসাবে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা জয় করে আমরা একটা উদার গণতান্ত্রিক দেশের ভিত্তি গড়তে পেরেছি? আমাদের গণতন্ত্রের শত্রুদের কী চিরতরে খতম করতে পেরেছি? ৩৮ বছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই গেছে স্বৈরশাসনের অধীনে, সামরিক শাসনের অধীনে। আমরা কি আজ দাবি করতে পারি যে এ জাতি ভবিষ্যতে আর কোনদিন এরশাদ-জিয়ার সামরিক শাসনের মতো আরেকটি সামরিক শাসনের কবলে পড়বে না? এ রকম শত ধরনের প্রশ্ন আজ আমার মনে উদয় হয়। কোনটারই সদুত্তর পাই না। আলোচনা করি বন্ধুদের সঙ্গে। যা পাই তা হচ্ছে হতাশার খবর। যা পাই তা হচ্ছে নিরাশার খবর। এ খবর রাজনীতিতে সমাজে, অর্থনীতিতে। চারদিকের খবর পরিবর্তনের। রাজনীতি পরিবর্তিত হচ্ছে, সমাজ পরিবর্তিত হচ্ছে, অর্থনীতি পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবর্তিত হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজ। কোন কিছুই বসে নেই। তবে এ পরিবর্তন ভালর দিকে না খারাপের দিকে এ প্রশ্ন এখন কারও মাথায় নেই। ৩৮ বছর পর গ্রামীণ অর্থনীতির নানা পরিবর্তনের কথা গত দু’দিন আগে কথা প্রসঙ্গে বলছিলেন বন্ধু সেলিম, যার সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগ আমার চেয়ে নিবিড়। তিনি যা বললেন তা অনুধাবনযোগ্য। বেশ কিছুটা আমার পর্যালোচনার সঙ্গে মেলে। আজকে এ বিষয়টিই আলোচনা করা যাক।
আমার একটা প্রশ্ন বরাবরই ছিল। প্রশ্নটি অবশ্য মূলত আমার নয়, এটি আমার মনে জাগে জোট সরকারের মন্ত্রীদের কথা শুনে। জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রীরা প্রায়শই বলতেন, গ্রামে কাজের লোক পাওয়া যায় না। শ্রমিকের এত চাহিদা যে গ্রামাঞ্চলে কোন কাজের লোক পাওয়া যায় না। এ কথা শুনতে শুনতে ভেবেছি এত কাজ কোথায় সৃষ্টি হলো যে গ্রামের সমস্ত উদ্বৃত্ত শ্রমিক কাজ পেয়ে যাচ্ছে? বন্ধুটির সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারলাম এ ঘটনাটি মৌসুমী ঘটনা। ফসল লাগানো এবং ফসল তোলার সময় গ্রামের কৃষকরা শ্রম সঙ্কটে পড়ে। তখন শ্রমের চাহিদা বাড়ে, শ্রমিকের সরবরাহ কম হয়। এতে চাহিদা-যোগানের মধ্যে তারতম্যের সৃষ্টি হয়। এটি মৌসুমী বিষয়, সারা বছরের ঘটনা নয়। বছরের বড়জোর চার মাস এটি ঘটে। বাকি সময়ে গ্রামাঞ্চলে ভূমিহীন ক্ষেতমজুর, দিনমজুর ইত্যাদি শ্রেণীর লোকের কাজের অভাব ঠিকই থাকে। তখন এ শ্রেণীর লোক শহরের দিকে ধাবমান হয়। এই সাময়িক ঘটনাকেই জোট সরকারের লোকেরা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করত। বলত গ্রামাঞ্চলে এত কাজের সৃষ্টি হয়েছে যে কাজের লোক খুজে পাওয়া যায় না। এ বিষয়টিকে দারিদ্র্যসীমার নিচের লোকের তথ্যের সঙ্গে মেলালেই একটা সদুত্তর পাওয়া যায়। সারা বছর যদি গ্রামাঞ্চলের শ্রমিক-মজুররা কাজ পেত তাহলে দারিদ্র্যসীমার নিচের লোকের সংখ্যা এত বেশি হতো না। এখানে একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অবশ্য এ বিষয়টার ওপর জরিপ ও গবেষণা হওয়া দরকার, যাতে প্রকৃত ঘটনাটি কি তা আমরা বুঝতে পারি।
বিগত ৩৮ বছরে গ্রামের অর্থনীতিতে একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে, তা অনস্বীকার্য। এখন অর্থকরী ফসলের সংখ্যা অনেক। আগের দিনে পাট, তামাক, ইক্ষু ইত্যাদি কয়েকটি পণ্যের কথা শুনতাম, যা ছিল কৃষকের জন্য ক্যাশ ক্রপ। কিন্তু অর্থকরী ফসলের সংখ্যা এখন অনেক। শাক সবজি, ফলমূল ইত্যাদিও এখন অর্থকরী ফসল। গ্রামাঞ্চলে এখন এসব ফসল কৃষকরা করে। কৃষি এখন শুধু ধান, পাট, তামাক ও ইক্ষুনির্ভর নয়। কৃষক প্রয়োজনানুসারে এখন নানা ধরনের চাষাবাদ করে এবং এতে বিপুলসংখ্যক কৃষক লাভবান হয়। অর্থকরী ফসলের আওতা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি পাশাপাশি বর্গাচাষের ব্যাপারেও ঘটছে ব্যাপক পরিবর্তন। আগে জমির মালিকদের নিকট থেকে চাষীরা জমি নিত বর্গার ভিত্তিতে। কোথাও এ বর্গার দু’ভাগ হতো কোথাও তিনভাগ। তা নির্ভর করত উপকরণের ওপর। কৃষি উপকরণের মূল্য পরিশোধ কিভাবে হবে তার ওপর নির্ভর করত বর্গা চাষের ফসল বণ্টন প্রক্রিয়া। ধীরে ধীরে এ বর্গাচাষের গুরুত্ব হ্রাস পাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমার বন্ধুটি যা বললেন তার সঙ্গে আমার কাছে যে খবর আছে তার মিল আছে। এক রিঙ্াওয়ালাকে কয়েকদিন আগে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে তার রোজগারের টাকা কিভাবে খরচ করে। বলল সে ঢাকায় টাকা জমিয়ে গ্রামে যায়। সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে জমি ভাড়া নেয়। অর্থাৎ যাদের জমি আছে তাদের কাছ থেকে বর্গা না নিয়ে তা সে বার্ষিক বা ফসলভিত্তিক ভাড়া নেয়। মনপ্রাণ দিয়ে খাটে। এতে ফলন বেশি হয়। মালিক-বর্গাচাষীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকে না। যে জমি ভাড়া নেয় সেজানে এ জমিতে যে ফলন হবে তার পুরোটাই তার। এজন্য সে সার, বীজ, পানি ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোন গাফিলতি করে না। আবার ফলন না হলে পুরো টাকাটাই গচ্চা যাবে। অতএব মন লাগিয়ে সে চাষাবাদ করে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি পরিবর্তনও হচ্ছে শ্রম বাজারে। আগে কৃষকরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে দিনমজুর নিয়োগ দিত। তিন বেলা খাওয়াতে হতো। এতে শ্রম ঘণ্টার হিসাব থাকত না। এতে লাভক্ষতির অঙ্ক মেলানো কঠিন হতো। গ্রামের যা খবর তাতে দেখা যাচ্ছে এখন এ ধরনের শ্রম নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটছে। এখন শহরের মতো সব কিছুই চুক্তিভিত্তিক। এক বিঘা জমি চাষ, ঐ জমিতে ফসল লাগানো, এক বিঘা জমির ধান কেটে বাড়িতে তোলা, ধান মাড়াই_ এসব কাজই এখন চুক্তির ভিত্তিতে হতে শুরু করেছে। এসব কাজে এখন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। আমার বন্ধুটির ভাষায় কৃষি থেকে ‘সামন্ত প্রথা’ বিলুপ্ত হচ্ছে। পুঁজিবাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে কৃষিতে। ফলে পুরনো ধ্যানধারণা সব বদল হয়ে যাচ্ছে। আগের চিন্তা ভাবনা দিয়ে কৃষির আলোচনা করা আর নিরাপদ নয়।
গত বছরের কথা। দুই বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম মুন্সীগঞ্জে। অবশ্যই প্রাইভেট গাড়িতে। এক সময় সিদ্ধান্ত নিলাম যে কাজ শেষে ঘুরে বেড়াব মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। পাকা রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় মাঠে ময়দানে কোন গরু দেখলাম না। বিষয়টি আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হলো। গ্রামের পর গ্রাম দিয়ে চলেছি, চারদিকে মাঠ আর মাঠ। ঘাসভর্তি মাঠে কোন গাই গরু থাকবে না _এ কেমন চিত্র। আমার মনে পড়ল বর্ষাকালের কথা। মুন্সীগঞ্জে যাওয়ার আগে নদীপথ দেখার সুযোগ হয়। দেখলাম পাল তোলা কোন নৌকা নেই নদীতে। সব মেশিনচালিত নৌকা। ও কথা মনে করে ভাবলাম একই ঘটনা ঘটছে গরু নিয়ে। গ্রামে ধীরে ধীরে গরু দিয়ে হালচাষের প্র্যাকটিস উঠে যাচ্ছে। গরু পালতে বহু হ্যাপা আছে। গরু পালনের জন্য রাখাল রাখতে হয়। তার খাবার যোগান দিতে হয়। গরুর সেবা করতে হয়। দুর্ঘটনায় একটা গরু মারা যেতে পারে। গরু চুরি হতে পারে। আজকাল একটা দুটো গরুর মূল্য প্রচুর। তাই গরু পালন এখন আর পোষায় না। তাহলে হালচাষ? হালচাষে পাওয়ারটিলার ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক্টর। বিঘার ভিত্তিতে এবং চাষের সংখ্যানুপাতে জমি আবাদ করে দিচ্ছে এক শ্রেণীর মালিক। এ কারণে গরুর ব্যবহার চাষাবাদে কমছে বলে খবর। গরুর উপকারিতা ছিল অনেক। গরু হাল চাষ করত, দুধ দিত, চামড়া দিত। গরুর গাড়ি ছিল। এসব কাজ এখন ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। রাস্তাঘাট এখন পাকা হয়ে গেছে। কাজেই গরুর গাড়ির প্রয়োজন উঠে গেছে। হালচাষে ব্যবহৃত হচ্ছে পাওয়ারটিলার। দুধের জন্য গরু দরকার। এর জন্য আলাদাভাবে গরুর ফার্ম হচ্ছে। তা এখন আলাদা একটা ব্যবসা। এর জন্য ব্যাংকগুলো ঋণ দেয়।
দেখা যাক সুদের ব্যবসার অবস্থা কী ? ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি সুদের ব্যবসা কৃষককে ফতুর করছে। গ্রামাঞ্চলে ঋণের ওপর সুদের হার ১০০ টাকায় সপ্তাহে ১০ টাকা। পাকিস্তান আমলেও এ হার কার্যকর ছিল। এক শ্রেণীর মহাজন গ্রামাঞ্চলে এ সুদের ব্যবসা করত। ঘটনাক্রমে এরা ছিল হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের। সেই মহাজন শ্রেণীর লোকদের অধিকাংশই এখন আর এ দেশে নেই। দেশ বিভাগের পর তারা দেশান্তরিত হয়েছে। কিন্তু এ ব্যবসা কি বিলুপ্ত হয়েছে? সুদের ব্যবসা বা মহাজনী ব্যবসা মোটেই বিলুপ্ত হয়নি। বরং তা বিস্তৃত হয়েছে। আসল কথা হলো গ্রামাঞ্চলে টাকার চাহিদা আছে_ এ কথা ভেবেই ১৯৭২ সালের পর সরকারী ব্যাংকগুলো গ্রামাঞ্চলে তাদের শাখা খোলে যাতে কৃষকদের নিয়মিত সুদে ঋণ দেয়া যায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ চাহিদা মেটাতে না পারায় এ ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ে নানা ধরনের এনজিও। আজ গ্রামাঞ্চলে হাজার হাজার এনজিও কাজ করে। এদের অধিকাংশই ঋণ বিতরণের কাজে নিয়োজিত। এরাও ঋণের ওপর অতিরিক্ত সুদ চার্জ করে। সরকারী ব্যাংক ১০-১২ শতাংশ হারে কৃষিঋণ দিলেও এনজিওগুলো কৃষিঋণ দেয় ২০-৩০ শতাংশ সুদে। এমন কি গ্রামীণ ব্যাংকও তা করে। ব্র্যাকও তাই করে। দেখা যাচ্ছে এরপরও গ্রামীণ চাহিদা পূরিত হচ্ছে না। কৃষকরা ঋণ চায় পরিমাণ মতো। ঋণ চায় সময়মতো। ঋণ চায় বিনা কাগজে। ডকু্যমেন্টেশন কৃষকদের জন্য ঝামেলাপূর্ণ। এ শর্ত পূরণ করে গ্রামের সুদ ব্যবসায়ীরা। দেখা যাচ্ছে এ কারণে গ্রামাঞ্চলে সুদের ব্যবসা বিলুপ্ত তো হচ্ছেই না বরং এ ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটছে।
ভূমিহীনতার ব্যাপারে আমাদের ধারণা একটা ছিল। আগে গরিব কৃষকরাই ভূমিহীন হতো কালের ব্যবধানে। মাঝারি কৃষকরাও ভূমিহীনতার মধ্যে পড়ত। আমার যে বন্ধুটির সঙ্গে দু’দিন আগে কথা হচ্ছিল উনি বললেন, একটা নতুন কথা। এখন নাকি মাঝারি কৃষকরা আর ভূমিহীন হচ্ছে তা, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে। তবে গরিব ও প্রান্তিক চাষীরা যথারীতি ভূমিহীন হচ্ছে। আর তাদের আশ্রয় হচ্ছে শহর। বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ায় উত্তরবঙ্গের লোক এখন ঝাঁকে ঝাঁকে ঢাকায় চলে আসছে। উত্তরবঙ্গের খেটে খাওয়া লোক, ভূমিহীন, ক্ষেতমজুর, দিনমুজর শ্রেণীর লোকের একটা বড় আশ্রয় ঢাকা শহর। এটা আমরাও ঢাকায় বসে টের পাই। টঙ্গী, উত্তরা, গুলশান, বাড্ডা, শান্তিনগর ইত্যাদি অঞ্চলে এখন রিঙ্াচালক হিসাবে প্রচুর সংখ্যক লোক পাওয়া যায় উত্তরবঙ্গের। এ শ্রেণীতে অবশ্য আছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোক। পাকিস্তান আমলে এমন কি স্বাধীনতার পরের দশ বছরেও উত্তরবঙ্গের লোক ঢাকায় আসত না। ঐ সময়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রচুর লোক যেত উত্তরবঙ্গে কাজের সন্ধানে। এখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ উত্তরবঙ্গের লোকের একটা বড় আশ্রয় হয়েছে ঢাকা শহর। তারা এখন হাজারে হাজারে ঢাকায় আসছে। ঐদিন দেখলাম উত্তরবঙ্গের রিঙ্াওয়ালা দোহার নবাবগঞ্জে। বোঝা যাচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশে উত্তরবঙ্গের লোক ‘মোবাইল] হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের লোকের খবর কি? বিশেষ করে খুলনা, কুষ্টিয়া অঞ্চলের লোকের খবর কি? তারা কি ঢাকায় সেভাবে আসছে? আমার কাছে মনে হয় তারা সেভাবে ঢাকায় আসছে না। তাদের মধ্যে দারিদ্র্য প্রকটতর। তবু কেন তারা টাকার সন্ধানে জায়গা ছাড়ছে না এটি আমার কাছে একটি প্রশ্ন।
স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে গত ৩৮ বছরে গ্রামের সমাজে ও অর্থনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে তার একটা খণ্ডচিত্র ওপরে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। আমি নিশ্চিত এ চিত্রটি শুধু খণ্ডচিত্র এবং আংশিক নয়, এটি অসম্পূর্ণ চিত্রও বটে। এমতাবস্থায় আমার প্রত্যাশা কোন না কোন সামাজিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এর ওপর জরিপ করবে। দেশে হাজার হাজার এনজিও। তারা কত মানববন্ধন করে। বিদেশের টাকায় তারা কত কিছু করে। তারা কি এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিতে পারে না? জানি না বাধা কোথায়। তবে তাদের কেউ এ ক্ষেত্রে কাজ করে আমাদের প্রকৃত চিত্র জানালে আমরা কৃতার্থ হব। বলা দরকার দেশের জন্য এ ধরনের জরিপ গবেষণা দরকার। সমাজের পরিবর্তন কিভাবে ঘটছে, অর্থনীতির পাশাপাশি কিভাবে সমাজ বিবর্তিত হচ্ছে তা জানার দরকার আছে। এ ক্ষেত্রে সরকারও অনেক কাজ করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

Published at (city) :
Language :
Entry Type : Op-Ed, Uncategorized
Uploaded By : anonymous
This item has been recorded here as part of ICSF's Media Archive Project which is a crowd sourced initiative run by volunteers, a not for profit undertaking to facilitate education and research. The objective of this project is to archive media items generated by different media outlets from around the world - specifically on 1971, and the justice process at the International Crimes Tribunal of Bangladesh. This archive also records items that contain information on commission, investigation and prosecution of international crimes around the world generally. Individuals or parties interested to use content recorded in this archive for purposes that may involve commercial gain or profit are strongly advised to directly contact the platform or institution where the content is originally sourced.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Facebook Comments

comments

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us