ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে জঙ্গীবাদ উস্কে দেয়া হবে:নিজামীর নসিহত
স্টাফ রিপোর্টার
জামায়াত আমির নিজামী বলেছেন, দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার অর্থই হবে ইসলামের ওপর আঘাত, সরকারের চরম আত্মঘাতী সিদ্ধানত্ম। ধর্মীয় রাজনীতির মূল ধারায় সম্পৃক্তরা কখনও জঙ্গীবাদকে সমর্থন করে না। সেখানে প্রকাশ্যে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে প্রকারানত্মরে তা জঙ্গীবাদকেই উস্কে দেয়া হবে। মহানগর জামায়াত আয়োজিত পেশাজীবী সমাবেশে নিজামী আরও বলেন, অতীতের সরকারগুলোর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণেই ভারত তাদের স্বার্থ এদেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে। তবে জামায়াতে ইসলামী ভারত বিরোধী নীতিতে বিশ্বাসী নয়। বরং প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় বিশ্বাসী। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের স্থপতির কন্যা উলেস্নখ করে জনগণের স্বার্থ যথাযথভাবে ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলে জামায়াতকেও পাশে পাবেন বলে মনত্মব্য করেন। তাই বলে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে কোন গোপন চুক্তি করা হলে তা দেশের জনগণ মানবে না উলেস্নখ করে নিজামী প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, জনগণকে নিয়ে রাজপথেই তার সমুচিত জবাব দেয়া হবে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই পেশাজীবী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াত আমির নিজামী বলেন, বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি হয়েছে। আপনারা ভাল করেছেন না মন্দ করেছেন তা নিজেরাই বিশেস্নষণ করে দেখুন। আত্মসমালোচনা করম্নন। তাহলে ভবিষ্যতে ভাল করার সম্ভাবনা থাকবে। ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াবেন বলেছিলেন, মরিচের কেজি হবে ৫ টাকা, কৃষক বিনামূল্যে সার পাবে। বাসত্মবতা হচ্ছে, যে মোটা চাল জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত চারদলীয় জোট সরকার ১৬ থেকে ১৮ টাকার মধ্যে রেখে এসেছিল, তাই আজ ২৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তিনি কৌতুক করে বলেন, আপনারা যদি বলতেন চালের দাম তখন যা ছিল তার থেকে ১০ টাকার বেশি বাড়বে না তাহলেও ঠিক ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরকে উদ্দেশ করে বলেন, জামায়াত ভারতবিরোধী রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। বরং পাশর্্ববতী দেশ বা প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্কে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীকে দেশের স্বার্থ তিনি যথাযথভাবে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনে রাখবেন আপনি দেশের স্থপতির কন্যা। অতীতের সরকারগুলোর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণেই ভারত তাদের স্বার্থ এ দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে। যদি দেশের সমস্যা যথাযথভাবে উপস্থাপনে সমর্থ হন তাহলে তারাও হয়ত বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে। জামায়াতকেও তাহলে পাশে পাবেন। কিন্তু কোন অবস্থাতেই দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করলে জনগণ তা মানবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী গোপন চুক্তি করা হলে জামায়াত জনগণকে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। তিনি, আইনমন্ত্রীর সম্প্রতিক মনত্মব্যে বিচারালয় প্রভাবিত করার আভাস সুস্পষ্ট মনত্মব্য করে এ ধরনের কথা বলে যারা সরকারকে বিব্রত করে তাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে সজাগ থাকারও পরামর্শ দেন।
‘জামায়াত যে জঙ্গীবাদকে সমর্থন করে না তার প্রমাণ অতীতে অনেক বার দিয়েছে’, বললেন জামায়াত আমির নিজামী। ধর্মের নামে জঙ্গীবাদে সম্পৃক্তদের বিপথগামী হিসেবে চিহ্নিত করে নিজামী বলেন, জামায়াত সরকারে থাকার সময়ই জঙ্গীদেরকে শাসত্মি দেয়া হয়েছে। সে সময় জঙ্গীরা বলত, জামায়াত ভুল পথে চলছে। আজ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর কর্মকা- গোপনে চালাতে হবে। ইসলামকে রৰার তাগিদে জঙ্গীরাই যে ঠিক ছিল বলে সে সময় বক্তব্য দিয়েছে তারও যথার্থতা ফুটে উঠবে। প্রকারানত্মরে সরকারের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধানত্ম চরম আত্মঘাতী হবে এবং প্রকারানত্মরে তা জঙ্গীবাদকেই উস্কে দেবে বলেও মনত্মব্য করেন তিনি।
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আসলে রাজনৈতিকভাবে জামায়াতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা ভিন্ন কিছু নয়। কিছু আলেম-ওলামাকে সঙ্গে নিয়ে সরকার ষড়যন্ত্র করে তাদের বুঝিয়েছিল, যুদ্ধপরাধের বিচারের নামে জামায়াতকে নিষ্ক্রিয় করা গেলে তারাই এই রাজনৈতিক দলের অবস্থান ভোগ করবেন। কিন্তু পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করা হলে কেউই যে তাঁরা আর রাজনীতি করতে পারবেন না তা তাঁরাও বুঝে গেছেন। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেৰ রাষ্টের মানে এই নয় যে, সেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল থাকবে না। এটিকে পাশর্্ববতর্ী দেশের প্রেসক্রিপশন বাসত্মবায়নে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার উলেস্নখ করে তিনি ভারতের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলেন, সেখানে কি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নেই। বিজেপি কি ধর্মভিত্তিক দল নয়। আসলে টার্গেট হচ্ছে জামায়াত, ইসলাম ধর্ম। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর কারণেই আজ আওয়ামী লীগের মতো দলও রাজনীতি করতে পারছে উলেস্নখ করে এজন্য তাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত বলে মনত্মব্য করেন নিজামী। এছাড়া সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বিডিআরে পরিকল্পিত সেনা হত্যাকা-ের বিচার এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের ছাত্র সংগঠনের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পেরেছেন কিনা বলে তিনি সরকারের কাছে জানতে চান।
মহানগর জামায়াত আমির রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে পেশাজীবী সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় এবং মহানগরীর নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
Keywords/









Leave your response!