বিচারের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ হয়েছে
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আগামী মাসে তদন্ত শুরু হবে। এ জন্য শিগগিরই জনবল নিয়োগ করা হবে। গতকাল বুধবার এক সঙ্গে ছয়জন মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের পুরনো হাইকোর্ট ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। পরে মন্ত্রীরা গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ওই ভবনের কক্ষগুলো ঘুরে দেখেন।
হাইকোর্ট মাজারের পেছনে অবস্থিত ভবনে স্থাপন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়। ওই ভবনের
দোতলার যে কক্ষে পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বসতেন সেই কক্ষটিকে সাজানো হয়েছে এজলাস কক্ষ হিসেবে। ওই কক্ষের সঙ্গেই রাখা হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুজন সদস্যের কক্ষ। এ ছাড়া ভবনের নিচতলায় রয়েছে চিফ প্রসিকিউটর ও অপরাপর প্রসিকিউটরদের কক্ষ, হাজতখানা, রের্কড রুম, আইটি কক্ষ, তদন্ত কর্মকর্তাদের কক্ষ, রেজিস্ট্রার ও প্রধান তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষ। ভবনের বাইরে চলছে নানান সাজসজ্জার কাজ। প্রস্তুত হচ্ছে বাগান। ভবনে হচ্ছে চুনকাম।
অবকাঠামোগত অবস্থা পরিদর্শনের আগে মন্ত্রীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদ সদস্য সানজিদা খাতুন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আব্দুর রশিদ, মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের চেয়ারম্যান ও সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ, সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী, ফোরামের যুগ্ম সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি কাজী মুকুল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এফ এম মেজবাহউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শ ম রেজাউল করীম প্রমুখ।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম প্রস্তাব হিসেবেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি গ্রহণ করা হয়েছে। এর পর থেকেই ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, এখন জনবল নিয়োগ করা হবে। এই বিচার কার্যক্রমের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এই সরকারের ১২ মাস সময় গেছে। দেশের মানুষ সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরুর জন্য। তিনি বলেন, ‘আমরা চার বছর ধরে দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেরিয়েছি এই বিচারের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য। এই সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে আশা করছি সরকার আরো দ্রুত সামনে এগোবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করব। সেটা করেছি। এখনো যারা পালিয়ে আছে তাদের ধরে এনে রায় কার্যকর করতে পারব বলে আশা করি। একইভাবে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলেছি, সেটাই হবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি যেন মার্চের প্রথম সপ্তাহেই বিচারের জন্য তদন্তকাজ শুরু হয়। তবে এটাও ঠিক যে, সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটু সময় লাগবেই।’
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের পক্ষে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, এক বছর আগেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে মানুষের মধ্যে যতটা স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল এখন কিন্তু তা নেই। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীরাও এক বছর আগে যতটা কোণঠাসা ছিল, এখন কিন্তু তেমন নেই। তারা সংঘবদ্ধ হচ্ছে, একের পর এক খারাপ আলামত দেখা যাচ্ছে। তাই যত দ্রুত এই বিচার করা যাবে ততই ভালো।
Keywords/








