মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারীরা পরে স্বাধীনতার ঘোষক সেজেছে : প্রধানমন্ত্রী
স্বাধীনতার ঘোষক-পাঠক দাবি করে মহল বিশেষের নানা বিতর্কের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামে যখন বাঙালিরা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যারিকেড দেয়, সে দিন পাকিস্তানিদের কিছু বাঙালি অফিসারও আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের হত্যা করেছেন। তাঁরা স্বাধীনতার ঘোষক সেজেছেন। সেনাবাহিনীর অফিসারদের কাছে এর প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণেই স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে সব রকম হুকুম দিয়ে ফেলেছিলেন। সেই ভাষণের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : আন্তর্জাতিক ও লোকায়িত মাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির জন্য মাইলফলক_একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই এই ভাষণের তাৎপর্য ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জানাতে, বোঝাতে। তিনি বলেন, তৈরি করা মিথ্যা এবং মনগড়া ইতিহাস নয়, সত্য জানার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের চারিত্রিক দৃঢ়তা আসবে, দেশপ্রেম জাগ্রত হবে। এই প্রজন্ম উন্নত দেশ গড়তে উদ্বুদ্ধ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু জনগণ সুফল পায়নি। দরিদ্রতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও শিক্ষার হার আশানুরূপ হয়নি। গত নির্বাচনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব। সেই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, যাতে সুবর্ণ জয়ন্তীতে উন্নত দেশ উপহার দিতে পারি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের মতো পৃথিবীর আর কোনো ভাষণ এত আবেদন রাখতে পারেনি। এর ভিন্ন মাত্রা আছে। যতবার এই ভাষণ শুনি, মনে হয় নতুনভাবে সত্তাকে আবিষ্কার করি। কোনো দিন এর আবেদন মুছে ফেলা যাবে না।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু আগেই লন্ডনে বসে মুক্তিযুদ্ধের সব পরিকল্পনা ঠিক করে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন হবে, আমরা বিজয় অর্জন করব। কিন্তু আমাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না, মুক্তিযুদ্ধ হবে, আমরা বিজয় অর্জন করব, বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যেই সব নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি তখনই বঙ্গবন্ধু বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মতো স্বাধীনতার সরাসরি ঘোষণা দিতেন, তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসত না, বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না।
সেমিনারে ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : আন্তর্জাতিক লোকায়তিক মাত্রা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক গবেষক মফিদুল হক। প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, শিক্ষাবিদ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, জাহানারা বেগম, ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান।
Keywords/








