এ সরকারের সময়ে বিশ্বে দেশের মর্যাদা বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী
‘যুদ্ধাপরাধের জন্য একাধিক লোকের বিচার হবে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়েছে। এটা ধরে রাখতে হবে। গতকাল রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক সাতই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এদিকে সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত মূল এক বা একাধিক ব্যক্তির বিচার করা হবে। লাখ লাখ লোকের বিচার হবে না। যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদেরই বিচারের সম্মুখীন করা হবে।
আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী: শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কী পেলাম, সেটা বড় কথা নয়; দেশকে কী দিলাম, সেটাই বড় কথা।’
শেখ হাসিনা বিএনপির নাম উল্লেখ না করে বলেন, ষড়যন্ত্র করে যেনতেনভাবে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সম্পদ লুটপাট করাই ওদের কাজ। প্রতিপক্ষকে শেষ করে দেওয়া ওদের চরিত্র। তাই ষড়যন্ত্র থাকবে। ওদের গায়ের জ্বালা থাকবে। সংসদে ওদের আচরণ তা-ই প্রমাণ করে। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ এগিয়ে চলছে, এগিয়ে যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সাতই মার্চের ভাষণের মতো পৃথিবীর আর কোনো ভাষণ এতবার বাজেনি, এত মানুষ শোনেনি। এখনো এ ভাষণ শুনলে মানুষ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়। তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল শত্রুরা। পরাজিত পাকিস্তানি ভাবধারা ও নীতি চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল তারা।
শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের তাত্পর্য তুলে ধরে বলেন, যেনতেন ঘোষণা দিয়ে কখনো কোনো দেশের স্বাধীনতা আসে না। এ স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। ঐতিহাসিক সাতই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল। ওই ভাষণের পর তত্কালীন পূর্ব বাংলায় বর্তমান বাংলাদেশে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কোনো নির্দেশ পালিত হয়নি। পাকিস্তানের কোনো অস্তিত্বই আর এ বাংলায় ছিল না। বাংলাদেশের সবকিছু চলত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। তিনি বলেন, সত্তর সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে দেশের মানুষ নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট দিয়েছিল। তাই স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার একমাত্র অধিকারও ছিল বঙ্গবন্ধুর।
ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা স্বাধীনতা ঘোষণার ইতিহাস বিকৃত করে তাদের উদ্দেশ্য একটাই—একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া। প্রতিশোধ নিতে এরা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল। তারা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল; কিন্তু পারেনি। বারবারই এ গোষ্ঠীর সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বাঙালি জাতি মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
যথাযোগ্য মর্যাদায় সাতই মার্চ পালন: বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গতকাল ঢাকাসহ সারা দেশে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক সাতই মার্চ। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে সরকারের পক্ষে এবং পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এর আগে ভোর সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচার হবে। নুরেমবার্গসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত মূল এক বা একাধিক ব্যক্তির বিচার করা হবে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার মানে লাখ লাখ লোকের বিচার হবে তা নয়। যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদেরই বিচারের সম্মুখীন করা হবে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। ২৬ মার্চ প্রথর প্রহরে বঙ্গবন্ধু বিডিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যাঁরা অন্যকে ঘোষক বানানোর অপচেষ্টা করছেন, তাঁরা এর পর থেকে বিরত থাকবেন। জোর করে কাউকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানো যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের পর একে একে মহানগর আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, স্বাধীন বাংলা চিকিত্সক পরিষদসহ দলের সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
Keywords/








