TwitterFacebook

জেএমবির ফান্ড নিয়ে সাইদুরের সঙ্গে ভাগ্নে শহীদের দ্বন্দ্ব!

বিশ লৰ টাকার হিসাব চাইতে গিয়েই সাবেক জামায়াত নেতা ও জেএমবির আমির মওলানা সাইদুর রহমান গ্রেফতার হয়েছে। জেএমবিতে দীর্ঘদিন ধরেই অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে জেএমবিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে। বর্তমানে জেএমবির দলীয় ফান্ডের পুরো টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে থাকা গ্রেফতারকৃত জেএমবি আমির সাইদুর রহমানের ভায়রা নাজমুল শহীদ ওরফে ভাগ্নে শহীদ। জেএমবির আমিরের দায়িত্ব পাওয়াকে কেন্দ্র করেই সাইদুর রহমানের সঙ্গে ভাগ্নে শহীদের চরম দ্বন্দ্ব চলছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেএমবির গ্রেফতারকৃত আমির মুফতি মাওলানা সাইদুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। জেএমবির রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে নাজমুল শহীদ ওরফে ভাগ্নে শহীদ। ভাগ্নে শহীদ সাইদুর রহমানের স্ত্রী হিমুর বোন জামাই। অর্থাৎ সাইদুর রহমানের ভায়রা। প্রসঙ্গত, হিমু জেএমবির অর্থ শাখার দায়িত্বে ছিল। পরবর্তীতে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। হিমু খেজুর খেয়ে জেএমবির আমির সাইদুর রহমানকে বিয়ে করেছিল। এজন্য জেএমবিতে হিমু খেজুর কনে হিসাবে পরিচিত।
জেএমবির প্রচুর পরিমাণ দলীয় অর্থ রয়েছে। এসব অর্থের মাসিক হিসাব দিতে হয় জেএমবির সদস্যদের। দেশের প্রতিটি জেলায় জেএমবির জেলা আমির বা কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য রয়েছে। শূরা সদস্যদের মাসিক হিসাব দিতে হয় কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে। রাজশাহী বিভাগ জেএমবির অর্থ উর্পাজনের সবচেয়ে উর্বর জায়গা। রাজশাহী থেকে জেএমবির জন্য সবচেয়ে বেশি টাকা আদায় হয়। এ টাকার হিসাব থাকে জেএমবির জেলা শাখার আমিরের কাছে। রাজশাহী বিভাগের আমির গ্রেফতারকৃত মওলানা সাইদুর রহমানের ভায়রা ভাগ্নে শহীদ।
সাইদুর রহমান গোয়েন্দাদের বলেছে, তার ভায়রা ভাগ্নে শহীদ দীর্ঘ দিন জেএমবির কেন্দ্রীয় শাখায় অর্থের হিসাব দিচ্ছিল না। আজ দেয় কাল দেয় করতে করতে ৭ মাস পার হয়ে যায়। এ নিয়ে জেএমবির শূরা কমিটির মধ্যে অসনত্মোষ দেখা দেয়। পরবতর্ীতে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপের মুখে তার ভায়রার কাছে রাজশাহী বিভাগের দলীয় ফান্ডের হিসাব চায়। ভাগ্নে শহীদ হিসাব দিচ্ছিল না। পরবতর্ীতে জেএমবির তরফ থেকে বিষয়টির তদনত্ম হয়। তদনত্মে দেখা যায়, ভাগ্নে শহীদ জেএমবির দলীয় ফান্ডের অনত্মত ২০ লাখ টাকা আটকে রেখেছে। ভাগ্নে শহীদ জেএমবির দলীয় এসব টাকা দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পাকা বাড়ি তৈরি করছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে জেএমবির কেন্দ্রীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই ভায়রার মধ্যে এ নিয়ে তুমুল ঝগড়া হয়। এরপর থেকেই দুই ভায়রার মধ্যে সম্পর্ক ভাল নয় বলে জানান মাওলানা সাইদুর।
সাইদুর রহমান বলেছে, ২০ লাখ টাকা হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাগ্নে শহীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। ভাগ্নে শহীদের সঙ্গে বেশকিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে। সেই যোগাযোগের ভিত্তিতেই ভাগ্নে শহীদ তাকে (সাইদুর রহমান) পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। শুধু তাই নয় সাইদুর রহমানের প্রথম স্ত্রীর সনত্মান ফাহিম ওরফে বাশারকেও তার ভায়রা ভাগ্নে শহীদ ভারতীয় সীমানত্মরৰী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। ভাগ্নে শহীদ জোরপূর্বক জেএমবির আমির হতে চাইছে।
গত ২৩ মে রাতে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ধনিয়া এলাকায় জঙ্গী গ্রেফতারে পুলিশের সিআইডি, এসবি ও ডিবির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। অভিযানে জেএমবি বিশেষ দলটির ওপর হাতে তৈরি গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে ৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় জেএমবির কয়েক সদস্য পালিয়ে যেতে সৰম হয়। কিন্তু স্থানীয়দের সহযোগিতায় জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান আবুবক্কর সিদ্দিক ওরফে নজরম্নল ওরফে শিবলু গ্রেফতার হয়।
শিবলুর তথ্য মতে, ২৫ মে নারায়ণগঞ্জের পাইনাদী এলাকার বাড়ি থেকে জেএমবির শামরিক শাখার সমন্বয়ক আমির হোসেন ওরফে শরীফ ও এহসার সদস্য নূর হোসেন ওরফে সবুজকে গ্রেফতার করা হয়। বাড়িটি গ্রেফতারকৃত সামরিক শাখার সমন্বয়ক আমির হোসেনের। গ্রেফতারকৃতদের তথ্য মতে, একই দিন জেএমবির এহসার সদস্য আব্দুলস্নাহর রাজধানীর পূর্ব ধনিয়ার বাসা থেকে তৃতীয় স্ত্রী নাইমা আক্তার ও সহচর আব্দুলস্নাহেল কাফীসহ জেএমবি প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমান জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জেএমবির ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ওই বাসা থেকে ৯টি হাতে তৈরি শক্তিশালী গ্রেনেডসহ আত্মঘাতী হামলা চালানোর তাজা গ্রেনেড, বিস্ফোরক, কোমরে গ্রেনেড রাখার বিশেষ বেল্ট, একটি বিদেশী পিসত্মল, দুটি গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, জেএমবির সামরিক সদস্যদের তৈরি কিছু গুলি, গুলি তৈরির সরঞ্জাম, লেদ মেশিন, গ্রেনেড রাখার বিশেষ বেল্ট তৈরির উপকরণসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
সাইদুর রহমানকে টানা ১৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সাইদুর রহমান বলেছে, ২০ লাখ টাকার হিসাব চাওয়ায় তার ভায়রা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। তবে জেএমবির দলীয় ফান্ডে কত টাকা আছে তার কোন পরিসংখ্যান জানায়নি। জেএমবিতে অর্থ ও ৰমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব এখন চরমে। বর্তমানে সাইদুর রহমানকে নারায়ণগঞ্জের একটি মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us