আজ লন্ডনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধাপরাধ আইন পর্যালোচনা করবেন
যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য প্রনীত ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট পর্যালোচনার জন্য আজ লন্ডনে এক পর্যলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। একদল আন্তর্জাতিক আইনজীবীর সমন্বয়ে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশন এই সভার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিও এই পর্যালোচনা সভায় অংশ নেবেন।
এর আগে আইনজীবীদের আন্তর্জাতিক ঐ সংগঠন বাংলাদেশের আইনটিকে ‘সেকেলে’ বলে সমালোচনা করেছিলো। তাদের যুক্তি ছিলো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য নির্ধারিত ১৯৭৩ সালের আনত্মর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্টে অপরাধের সংজ্ঞা, তদন্তের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অধিকারের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বিচারাধীন ব্যক্তির মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি বাদ দেয়া হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞরা ১৯৭৩ সালে প্রণীত এই আইনটির ১৭ জায়গায় সংশোধন আনার প্রস্তাব করেন। যুক্তরাজ্যের অল পার্টি পার্লামেন্টারি হিউম্যান রাইটস গ্রুপের অনুরোধে যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কমিটি ও আন্তর্জাতিক বার এসোসিয়েশন যৌথভাবে এই মতামত দেয়।
তবে গতকাল এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, লন্ডনে যে পর্যালোচনা সভা হবে তার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই তার আইনটির যে সমালোচনা করেছেন সেগুলোর বিষয়ে সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এবং তাদের সমালোচনার একটি জবাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার আজকের পর্যালোচনা সভায় এই জবাব উত্থাপন করবেন।
আন্তর্জাতিক বারের অভিযোগগুলো বাস্তবভিত্তিক নয় জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ঐ সংগঠনটি তার প্রতিবেদনের শুরুতেই বলেছে যে, মানবতার বিরুদ্ধে বিচারের জন্য বাংলাদেশের আইনটি বেশ ভালো। তারপর তারা এর কিছূ সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে। আমরা ইতিমধ্যে আইনটির বেশ কিছু সংশোধনী এনেছি। আগের আইনটিতে বিচারক হিসেবে সেনা আদালতের বিচারক হবার যোগ্যতা সম্পন্ন সামরিক অফিসার বিচারক হতে পারতেন। কিন্তু আমরা তা বাদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারককে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারমান করেছি। বাকি যে দুজন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও অন্যজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি।
আমরা এই আইনটিকে হয়তো আরো নিখূঁত করতে পারতাম কিন্তু তাতে বিচার প্রক্রিয়াটি আরো দীর্ঘায়তি হতো যা কাম্য নয়। তাছাড়া আমাদের কেবল অপরাধীর মানবাধিকার দেখলেই চলবে না। যারা বিচারের জন্য গত ৩৯ বছর ধরে অপেক্ষায় আছেন তাদের বিষয়টিও ভাবতে হবে। এত দীর্ঘ সময় ধরে বিচার না পাওয়াটাও মানবাধিকার লংঘন এটাও ভাবতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না হওয়ায় দায়মুক্তির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সেটাও বন্ধ করতে হবে।
Keywords/Tags: IBA, Internationak crimes (tribunal) act 1973, law minister, Shafique Ahmed, War Criminal, war criminal trial









Leave your response!