৫ মামলায় নিজামীদের ১৬ দিন করে রিমান্ড
ঢাকা, জুন ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মামলায় জামিন দিলেও অপর পাঁচ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৬ দিন করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ওই মামলায় গত মঙ্গলবার বিকালে জামায়াত ইসলামী নেতা নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার বিকালে পৃথক পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম এস কে তোফায়েল হাসান ও তিন নম্বর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলী হোসাইন এসব আদেশ দেন।
মামলাগুলোয় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। একই সময়ে মামলাগুলোয় তাদের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়।
শুনানির সময় আদালতে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আইনজীবী এবং চারদলীয় জোটের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
প্রথমে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের তিনটি মামলার প্রত্যেকটিতে নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিন করে হেফাজতে নেওয়ার আদেশ দেন আলী হোসাইন।
এ মামলা তিনটির প্রত্যেকটিতে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিন করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ।
এরপর মহানগর হাকিম তোফায়েল হাসানের আদালতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলা, উত্তরা থানায় দায়ের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ও রমনা থানায় দায়ের ২৭ জুনের হরতালে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও গাড়ি ভাংচুরের মামলার শুনানি হয়।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মামলা জামিনযোগ্য ধারায় হওয়ায় আদালত নিজমী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে জামিন দেন।
তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উত্তরার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তিনদিন এবং রমনা থানার মামলায় চারদিন পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে একই আদালত।
এর আগে কড়া নিরাপত্তায় বুধবার বিকাল ৪টা ৫মিনিটে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় এই তিন নেতাকে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বাদি উত্তর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন।
এ মামলায় বলা হয়, এজাহারভুক্ত এই তিন আসামির সবাই মিলে চলতি বছরের ১২ ফেব্র”য়ারি উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টর ১৮ নম্বর সড়ক ৪৫ নম্বর বাসায় বসে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ� করাসহ দেশের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করে। তাদের কর্মীদের তারা এ ব্যাপারে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়। পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিঘ� ঘটানোর চেষ্টা করে।
শুনানির সময় নিজমী, মুজাহিদ ও সাঈদীর পক্ষে সানাউল্লাহ মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, মশিউল আলম, এস এম কামাল উদ্দিনসহ প্রায় ২৫ জন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে শুনানিতে অংশ নেন তিন থেকে চারজন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালত পিপি আব্দুল্লাহ আবু ও ঢাকার জেলা জজ আদালতের পিপি খন্দকার আব্দুল মান্নানসহ তিনজন অংশ নেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে প্রায় ৩০ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন ।
নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলায় গ্রেপ্তারের পর বুধবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হামিক আদালতে রাজধানীর পল্ল�বী ও পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা হত্যার দুটি মামলা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারুক হোসেন হত্যা মামলা এবং গত ফেব্র”য়ারি মাসে পল্টন এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার এক মামলাসহ কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।
সাঈদীর বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ১৯৭১ সালে পিরোজপুর থানায় মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও করা হয়।
ওদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াত ইসলামী বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করেছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর গ্রেপ্তারকৃত কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
গত ১৭ মার্চ মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে ছাত্র শিবিরের এক সভায় নিজামীকে হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ২১ মার্চ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী।
এরপর ১ এপ্রিল এ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি হয়।
Keywords/Tags: amaat leader, mujahid, Nizami, remand, Saydee, sedition charge, জামায়াতে নেতা, নিজামী, মুজাহিদ, রাষ্ট্রদোহী মামলা, রিমান্ড, সাঈদী









Leave your response!