যুদ্ধাপরাধ আইন বাতিল চেয়ে জামায়াতের রিট
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ৩৭ বছর আগে ১৯৭৩ সালে করা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত বছর করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে ট্রাইব্যুনাল গঠনসহ আইনের সাতটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রথম মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
জামায়াতের কারাবন্দি দুই নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা আইনজীবীর মাধ্যমে গতকাল সোমবার এই রিট করেন। আবেদনে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, ২০০৯ সালের সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইনের সাতটি ধারা এবং জামায়াতের শীর্ষ চার নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলা বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা এবং বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের বেঞ্চে রিট আবেদনটি গতকাল উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে। গতকাল রিট আবেদনের পক্ষে শুনানির জন্য আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও ব্যারিস্টার ফকরুল ইসলাম।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র, প্রতিরক্ষা ও সহযোগী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বিচার এবং যুদ্ধবন্দিদের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধান সংশোধন করা হয়। এ জন্য সংবিধানের ৪৭(৩) এবং ৪৭ক অনুচ্ছেদ হিসেবে প্রতিস্থাপিত বিধানাবলি সংবিধানের প্রথম সংশোধনী নামে পরিচিত।
সংশোধিত ৪৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোনো সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহযোগী বাহিনীর সদস্য কিংবা যুদ্ধবন্দিকে আটক, ফৌজদারিতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোনো আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোনো বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনি বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনো বাতিল বা বেআইনি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।’
এ ছাড়া ৪৭ক অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘(১) যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোনো আইন প্রযোজ্য হয়, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ, ৩৫ অনুচ্ছেদের (১) ও (৩) দফা এবং ৪৪ অনুচ্ছেদের অধীন নিশ্চয়কৃত অধিকারসমূহ প্রযোজ্য হইবে না। (২) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোনো আইন প্রযোজ্য হয়, এই সংবিধানের অধীন কোনো প্রতিকারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করিবার কোনো অধিকার সেই ব্যক্তির থাকিবে না।’
জামায়াত নেতাদের দাখিল করা রিট আবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৭(৩) ও ৪৭ক অনুচ্ছেদকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা মূল সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের পরিপন্থী হিসেবে বাতিলযোগ্য।
রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৭৩ সালে করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হয়েছে ২০০৯ সালে। সংশোধিত আইনের ৩(১) ধারা বসিয়ে সেখানে ট্রাইব্যুনালকে যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটা সংবিধান পরিপন্থী। রিট আবদনে আরো বলা হয়, সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল গঠন ও নিয়োগকে দেশের কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। এতে হাইকোর্টের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে বিচারের সময় ফৌজদারী কার্যবিধি, প্রচলিত সাক্ষ্য আইন প্রযোজ্য হবে না। কোনো সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই সাধারণ প্রচলিত কথা বিশ্বাস করে ট্রাইব্যুনাল সাজা দিতে পারবেন। এটা মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। সংশোধিত আইনের ৩(১), ৬(২ ও ৮), ১৯(১ ও ৩), ২০(২) ও ২৩ ধারাকে সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। রিট আবেদনে আরো বলা হয়, এই আইনের অধীন গঠিত ট্যাইব্যুনালের কার্যক্রমও অবৈধ ও অসাংবিধানিক।
উল্লেখ্য, জামায়াতের শীর্ষ চার নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে যে অভিযোগ পড়েছে তা-ই ট্রাইব্যুনালের প্রথম অভিযোগ মামলা হিসেবে বিবেচিত। এই অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ চার নেতাকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সরকার গত ২৫ মার্চ বিচারপতি নিজামুল হককে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।
Keywords/Tags: International Crimes (Tribunal) Act of 1973, Jamaate islami, war crimes trial, জামায়াত ইসলামী, যুদ্ধাপরাধী বিচার, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুনালস) আইন









[...] আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল গত ১৬ আগস্ট। এ চ্যালেঞ্জের মীমাংসা হাইকোর্টে [...]
Leave your response!