Home » Article, Bangladesh, Bengali, Dhaka, Freedom Fighter, History, Memorial, Mobilisation, প্রথম আলো

উদ্যোগ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পাশে দাঁড়াই

23 August 2010 Author: মাসুম আলী Original Source: Link

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভবনের নকশা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য খুব প্রতিকূল একটি সময়ে এ দেশের সবচেয়ে গৌরবের সময়টিকে চিরদিনের জন্য ধরে রাখতে উদ্যোগী হয়েছিল একদল স্বাপ্নিক। তাঁদেরই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এই কয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তির শুভ উদ্যোগে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়েছিলেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
প্রায় দেড় দশকের সফল পথ চলার পর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর হাতে নিয়েছে আরেকটি বড় কাজ। প্রতিষ্ঠানটি এখন তার নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য দরকার বেশ বড় অঙ্কের অর্থ। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ চাইছে শুরুর মতো এই মহতি উদ্যোগেও সব স্তরের মানুষের অবদান থাকুক।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতার জন্য অনুদানের কয়েকটি ব্যবস্থা রেখেছে। ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি প্রতীকী ইটের দাম দিতে পারেন কেউ। অনুদানকারীদের নাম বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কেউ ১০০ টাকা দিলেও জাদুঘরে তাঁর নাম সংরক্ষিত থাকবে। এরই মধ্যে বেশ দ্রুত সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সহযোগিতা পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাবে খরচ হবে ৬০ কোটি টাকা। ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের লক্ষ্যে প্রচার চালানো হবে। ভবন নির্মাণের খরচ শেষে বাকি অর্থ স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা হবে। ওই টাকা দিয়ে ভবিষ্যতে জাদুঘর পরিচালনা করা হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাদুঘরের নিজস্ব ভবনের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরে মূল কাজ শুরু হবে। তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। ভবন নির্মাণে সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। ব্যক্তিগতভাবেও এগিয়ে আসছেন সর্বস্তরের মানুষ।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি মফিদুল হক জানালেন, সব করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সুধিসমাজ এবং দেশবাসীর প্রতি জাদুঘর নির্মাণ তহবিলে অর্থসহায়তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। ব্যাপক সাড়া মিলছে জানিয়ে তিনি বললেন, ‘সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি জাদুঘর হচ্ছে এটি। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি আমরা।’
অন্যতম ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরী বলেন, ‘এটা জনগণের জাদুঘর হিসেবে গড়ে উঠছে। কাজেই আমরা চাই জনগণের সম্পৃক্ততা। একজন ছাত্র কিংবা শ্রমিক যদি ১০০ টাকা দিয়েও সহযোগিতা করেন, তাহলে তাঁর নাম জাদুঘরের সহযোগিতাকারীদের তালিকায় আজীবন লিপিবদ্ধ থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানবে কাদের সহযোগিতায় এমন মহান কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, সেগুনবাগিচার বর্তমান ভাড়া করা ভবনটিতে এত দিন কাজ চালানো হলেও মুক্তিযুদ্ধের মতো বিশাল পরিসরের একটি বিষয়কে ধারণ করার কাজটি সেখানে আর চলছে না।
জাদুঘরের মহাব্যবস্থাপক সাবেক যুগ্ম সচিব এ কে এম মাহবুব উল আলম জানান, ২০০৭ সালে ভবনের নিজস্ব জমির জন্য তাঁরা সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দশমিক ৮২ একর (প্রায় ৫০ কাঠা) জমি দেয়। এক কোটি ৪৯ লাখ নয় হাজার ৯১ টাকার বিনিময়ে ৯৯ বছরের জন্য জমিটি ইজারা পায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
সরকার এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সহায়তায়। ২০১০-১১ অর্থবছরে সরকার পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জাদুঘরের জন্য। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকার নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে জমা পড়েছে ১৯ কোটি টাকা। ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেকে অর্থ দিচ্ছেন।
যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অর্থসহযোগিতা করেছে সেগুলো হলো: সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটিব্যাংক এনএ, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, আল আরাফাহ ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ট্রান্সকম লিমিটেড, ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, রেনেটা লিমিটেড, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, মাইলস্টোন কলেজ, নিট এশিয়া লিমিটেড প্রভৃতি। এ পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে নগদ অর্থসহায়তা দিয়েছেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, মনিরুজ্জামান, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক প্রমুখ।
রামেন্দু মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কালের সবচেয়ে বড় ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগিয়ে রাখতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থায়ী ভবন খুব জরুরি। সবাই এগিয়ে এলে এটা খুব সহজ হবে।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভবন নির্মাণের অনুদান জনতা ও ব্র্যাক ব্যাংকের নিম্নোক্ত হিসাবে জমা নেওয়া হবে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ
এসটিডি হিসাব নম্বর ৩৬০০০৪০৮
জনতা ব্যাংক, তোপখানা রোড শাখা, ঢাকা।
(বাংলাদেশ ও বিদেশের জনতা ব্যাংকের সব শাখায় অর্থ জমা দেওয়া যাবে)
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ
এসটিডি হিসাব নম্বর ১৫০১১০১৬৫৮৬৩৭০০১
ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড
গুলশান-১ শাখা, ঢাকা।
(ব্র্যাক ব্যাংকের সব শাখায় অর্থ জমা দেওয়া যাবে)

Keywords/Tags: , ,

Added by: Mohammed Munim

Leave your response!

Add your comment below, or trackback from your own site. You can also subscribe to these comments via RSS.

Be nice. Keep it clean. Stay on topic. No spam.

You can use these tags:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

This is a Gravatar-enabled weblog. To get your own globally-recognized-avatar, please register at Gravatar.