রফিকুল গ্রেপ্তার, গোলাম আযমের বাসায় অভিযান
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে গতকাল বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর মিরপুরের ১০ নম্বর ব্লকের ৯ নম্বর সড়কের নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাঁকে নিয়ে যায়। জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের মগবাজারের বাসায় গতকাল দুপুরে গোয়েন্দারা গেলেও তাঁকে আটক করেনি।
পুলিশের মিরপুর জোনের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা গ্রেপ্তার অভিযানে সহযোগিতা করেছেন। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণের মধ্যে ডিবি পুলিশ রফিকুল ইসলামকে মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
মিরপুর থানার ওসি ওয়াজেদ মিয়া জানান, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মতিঝিল, পল্টন, রমনা, শাহবাগসহ বিভিন্ন থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর ও অগি্নসংযোগের অভিযোগে একাধিক মামলা তদন্তাধীন। এ ছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি তিনি। এই মামলায় তিনি ছাড়াও নিজামী, মুজাহিদ, সাইদীসহ পাঁচজন আসামি ছিলেন। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর পুলিশ নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে রফিকুল ইসলাম আত্মগোপনে ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দেশে শিবির নেতা-কর্মীদের মদদ দিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি চেষ্টার অভিযোগ আছে। তবে গ্রেপ্তারের পর গতকাল জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রফিকুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলায় জামিন নিয়েছেন। কোনো পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।
গোলাম আযমের বাসায় গোয়েন্দা : জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের মগবাজারের কাজী অফিস গলির বাসায় বুধবার দুপুরে হানা দেয় গোয়েন্দাদের একটি দল। গোলাম আযম একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হত্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। গোলাম আযম গুরুতর অসুস্থ_জামায়াতের পক্ষ থেকে এ রকম দাবি করা হচ্ছিল। এ ছাড়া গোয়েন্দারাও অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁকে আপাতত গ্রেপ্তার না করে নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু সোমবার রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে জামায়াতের ইফতার পার্টিতে যোগ দেন তিনি। সেখানে উপস্থিত বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে দেখা করেন তিনি এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। এরপর গোয়েন্দারা নড়েচড়ে বসেন। মঙ্গলবারও গোয়েন্দাদের একটি দল তাঁর বাসায় যান বলে জামায়াতের একটি সূত্রে জানা যায়। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গোলাম আযমের বাসায় যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
জামায়াতের প্রতিবাদ : দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, রফিকুল ইসলাম খান তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলায় মঙ্গলবার হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা আইনের শাসন, বিচার ও মানবাধিকার পরিপন্থী। সরকার জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে জুলুম ও নিপীড়ন চালাচ্ছে_অভিযোগ করে তাঁরা অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন।
বিক্ষোভ : রফিকুল ইসলাম খানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বুধবার কাকরাইলসহ রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে মহানগর জামায়াত। ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ফরিদ হোসাইন ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এতে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মিরপুর-পল্লবী এলাকায় জামায়াত মিছিল করেছে বলে দাবি করা হয়।
Keywords/Tags: গোলাম আযম, গ্রেফতার, তল্লাশী অভিযান, রফিকুল ইসলাম খান









Leave your response!