Home » Bengali, Conspiracy, Dhaka, News, সংগ্রাম

ঈদের আগেই মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি চায় শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদসহ বিশিষ্টজনেরা

1 September 2010 Author: স্টাফ রিপোর্টার Original Source: Link

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও শেরপুর গণমানুষের প্রিয় নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে পবিত্র ঈদের আগেই নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে শেরপুর জেলার সদর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। কামারুজ্জামানকে গ্রেফতারের পর শেরপুর সদর উপজেলার পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ তার মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল, প্রতিবাদ সভা, গণসংযোগসহ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। মামলা হামলার ভয়ের কারণে অনেকে মুখ না খুললেও ভিতরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শেরপুরে যারা সম্মুখ সারিতে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সামেদুল হক মাস্টার বলেন, আমরা শেরপুরে রাজাকারদের চিনি। কামারুজ্জামান রাজাকার ছিলেন না। উনি তখন শেরপুরে ছিলেন না। শেরপুরের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ১১নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক থানা কমান্ডার কাজী মাসুদ রানা বলেন, আমি শেরপুরে যুদ্ধ করেছি, কখনও আমরা তার নাম শুনিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
সদর উপজেলার পরিবহন শ্রমিক সমেজ, মোটর সাইকেল মিস্ত্রি সমিতির সেক্রেটারি পরাগ বলেন, রোজার সময় তিনি অনেককে দান করতেন। আজ তিনি কারাগারে থাকায় অনেকের ঈদ সাদামাটাভাবে পালন করতে হবে।
এলাকার বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মমতাজ উদ্দিন বলেন, ওনার মতো ইসলামী ব্যক্তিত্বকে পবিত্র রমযান মাসে অন্যায়ভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করে সরকার তার প্রতি জুলুম করেছে। শুধু তাই নয় সাওম পালনকালে তাকে জেলে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে যা খুবই অমানবিক।
শেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, যুদ্ধের সময় কামারুজ্জামান কোন মানবতা বিরোধী কাজের সাথে জড়িত ছিল না, শেরপুরে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ আজ পর্যন্ত দায়ের করেনি অথচ সরকার তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে নির্যাতন চালাচ্ছে।
শেরপুর সরকার কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র জাহিদ আনোয়ার ও মফিজুল ইসলাম বলেন, সরকার মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মত জনপ্রিয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার মাধ্যমে এদেশে বাকশাল কায়েমের পথকে সুগম করতে চায় কিন্তু শেরপুরবাসী সরকারের সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে দেবে না। প্রয়োজন হলে ছাত্রসমাজ সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দিবে।
সদর উপজেলা বাজিতখিলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা এলাকাতেই ছিলাম এ সময়ে তাকে আমরা দেখিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন।
সদর উপজেলা বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমরি কালিনগর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব হাজী ইদ্রিস আলী, মুদিপাড়ার মোফাজ্জল হক, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আমেজ উদ্দিন তার সম্পর্কে বলেন, আমাদের এলাকার খবর আমরাই ভাল জানি। যুদ্ধের সময় ইনসান হাজীর ছেলে কামারুজ্জামান বাড়িতে কখনও আসে নাই, এলাকাবাসী তাকে দেখে নাই। সে তখন ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের ১ম বর্ষের ছাত্র ছিল। যুদ্ধের সময় যে এলাকায় ছিল না, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হাস্যকর।
জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এম আর মোস্তাক বলেন, শেরপুরের ছাত্রজনতাসহ আপামর জনসাধারণ এর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে ছাত্রজনতার রুদ্র রোষ ঠেকাবার সাধ্য কারও নেই।
শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, এদেশের ইসলামী আন্দোলনকে নেতৃত্ব শূন্য করার অংশ হিসেবে কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে শেরপুরে যাতে কোন আন্দোলন সংগঠিত হতে না পারে সেই জন্য নেতাকর্মীদের মামলা হামলা নির্যাতনের ভয় দেখানো হচ্ছে । শত ভয়ভীতি উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে যেতে চায় কিন্তু সরকার সভাসমাবেশ বন্ধ করে সংঘাতের দিকে যেতে চাইলে এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

Keywords/Tags: , ,

Added by: Shoeb

Comments are closed.