পল্লবীতে আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলে বোমা হামলা
মহিলা আওয়ামী লীগের ১০ জন স্থানীয় নেতা আহত। আহতদের মধ্যে ৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি
রাজধানীর পল্লবীতে আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মহিলা আওয়ামী লীগের ১০ জন স্থানীয় নেতা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত ওই দোয়া এবং ইফতার মাহফিলে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মাগরিবের আজানের অল্পক্ষণ পর ড. হাসানের বক্তব্য শুরু হতেই মঞ্চের ডানপাশে বিকট শব্দে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ধোঁয়ায় গোটা এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বোমার শব্দে এবং ধোঁয়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখনই আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শাহিদা তারেক দিপ্তী এমপি বলেছেন, জাতীয় শোক দিবস এবং ২১ আগস্টের হতাহতদের স্মরণে গতকাল পল্লবী ১২/ডি ঈদগাহ মাঠে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলে ড. হাছান মাহমুদ ছাড়া কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, শাহিদা তারেক দিপ্তী এমপি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামাল মাস্টার, আজিজুর রহমান বাচ্চুসহ মহিলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নারী-পুরুষসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মাগরিবের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। দিপ্তী দাবি করেন, তার গাড়িতে বোমা হামলা হতে পারে তার কাছে এমন একটি সতর্ক বার্তাও ছিল। তিনি এ ঘটনায় কারা জড়িত তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন। দিপ্তী বলেন, ইফতারের পর ড. হাছান বক্তব্য শুরু করতেই বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মহিলা আওয়ামী লীগের ফরিদা হাসান, সেলিমা জাফর ও লাকীসহ ১০ জন স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন। দিপ্তী আরো বলেন, অনুষ্ঠানে ইলিয়াছ মোল্যা এমপিকে অতিথি করা হলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। দিপ্তীর অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী ও দুজন এমপি উপস্থিত থাকলেও সেখানে কোনো পুলিশ ছিল না।
পল্লবী থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, বোমা হামলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে যান, এরপর র্যাব সদস্যরাও সেখানে পৌঁছান। তিনি বলেন, বোমার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কারা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা অক্ষত রয়েছেন। মিরপুর আধুনিক হাসপাতালে ৪ জন এবং সেলিমা জাফর নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
থানার এসআই মইনুল কবীর বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইফতার সেরে চলে যাওয়ার পর সেখানে একটি চকোলেট বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে লিপি নামে এক তরুণী আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইফতার নিয়ে দুগ্রুপের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে কারা কী উদ্দেশ্যে এ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর পেছনে জামাত বা জঙ্গিদের যোগসূত্র রয়েছে কি না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
Keywords/Tags: Awami League, bhorer kagoj, bomb attack, pallabi, আওয়ামী লীগ, পল্লবী, বোমা হামলা, ভোরের কাগজ









Leave your response!