বীর কন্যাদের প্রশ্ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে কবে?
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গ্যালারির দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন আলোকচিত্র। সামনে বসে আছেন সাতজন বীরাঙ্গনা। এই বীর কন্যারা হলেন সূর্য বেগম, রাজুবালা, নূরজাহান বেগম, আছিয়া বেগম, জোসনা বানু, মাহেলা বেগম ও রাহেলা বেগম। তাঁদের সবার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। তাঁদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কবে হবে? কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ দিনটির কথা বলেন। বললেন, সব কষ্ট ভুলতে পারতাম, যদি বেঁচে থাকতে দেখে যেতে পারতাম এ দেশে রাজাকারদের বিচার হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ এ বছর নাট্য-আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখায় একুশে পদকে ভূষিত হন। পদকপ্রাপ্তি উপলক্ষে দেওয়া গণসংবর্ধনায় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, পদকপ্রাপ্তির এক লাখ টাকা একাত্তরের বীরাঙ্গনাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বুধবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সমুদয় অর্থ সিরাজগঞ্জের বীরাঙ্গনাদের হাতে তুলে দেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
গতকাল সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাসির উদ্দীন ইউসুফ ছাড়াও বক্তব্য দেন মফিদুল হক, গোলাম কুদ্দুছ, ইমাম বারী ও সাফিনা লোহানী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। বীরাঙ্গনাদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁরা বীরাঙ্গনাদের জাতীয় বীর ঘোষণার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য লাখো শহীদের কাছে জাতি দায়বদ্ধ এবং সেই দায় মোচনে সরকার কালবিলম্ব না করে পদক্ষেপ নেবে, সে প্রত্যাশা গোটা জাতির। এ সময় উপস্থিত বীরাঙ্গনাদের হাতে সংস্কৃতিকর্মীরা ঈদের উপহার হিসেবে নতুন শাড়ি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নাসির উদ্দীন ইউসুফের পদকপ্রাপ্তির এক লাখ টাকা সিরাজগঞ্জের বিশজন বীরাঙ্গনাকে দেওয়া হবে।
Keywords/Tags: বীরাঙ্গনা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার









Leave your response!