সিলেটে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে মিশে গেছে হিজবুত তাহরির কর্মীরা
সিলেটে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে মিশে গেছে হাজারেরও বেশি নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরিরের সদস্য। তারা অধিকাংশই শিবিরের রাজনীতির প্রশিক্ষণ নিয়ে হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিল। হিজবুত নিষিদ্ধ করে দেয়ার পর তারা আবার ছাত্রশিবিরে ফিরেছে। ছাত্রশিবিরে থেকেই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ‘ঘরের ছেলেদের’ বেলায় অত্যন্ত সহনশীল। হিজবুত জঙ্গি ও ছাত্রশিবির ক্যাডাররা মিলে এখন পরিস্থিতি মোকাবেলায় মরিয়া। শনিবার রাতে হিজবুত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আলাদা সংবিধানসহ সিলেটে আটক হিজবুত জঙ্গি আলী আহমদ ও এর আগে গ্রেফতার জুম্মান চৌধুরী এবং মেহেদী হাসান পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ও রিমান্ডে এমন তথ্য দিয়েছে। গ্রেফতারকৃত আলী কানাইঘাট উপজেলার পারকুল গ্রামের আজির আলীর পুত্র ও নগরীর আম্বরখানা ওয়েভস ৯৬’র বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত এই তিন হিজবুত জঙ্গি অত্যন্ত চতুর ও প্রশিক্ষিত। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তথ্য বিভ্রাট ঘটানোর প্রবণতা তাদের মধ্যে বেশি। তাছাড়া তসবিহ জপ, জিকির-আজগারের ভান করে তথ্য গোপনের চেষ্টা করে। গ্রেফতারকৃত আলী আহমদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে সোমবার পুলিশ আদালতে আবেদন জানিয়েছে। আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আদালতে পাঠানোর আগে গ্রেফতারকৃত আলী পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, আগে গ্রেফতার হওয়া তার দুই সহকর্মী জুম্মান ও মেহেদীই তাকে হিজবুত খেলাফত প্রতিষ্ঠার সংবিধানের কপি দিয়েছিল। আলী নিজেকে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র দাবি করলেও ছদ্মবেশে পান দোকান নিয়ে বসত নগরীর পয়েন্টে। ওখান থেকে পুলিশ-র্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা মনিটরিং করত হিজবুত ও জামায়াত-শিবিরের কাছে। ৯ আগস্ট সিলেট নগরীতে জামায়াত-শিবিরের বের করা আকস্মিক জঙ্গি মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশ সদস্যদের রক্তাক্ত জখম করার মূল নায়ক ছিল আলী। ওই হামলার ঘটনার তোলা ছবি দেখে পুলিশ গত এক মাস ধরে নগরীতে অনুসন্ধান শুরু করে। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পায় ছবির সঙ্গে এক পান দোকানির চেহারার মিল রয়েছে। ওই তথ্যের সূত্র ধরে আলীকে শনিবার গ্রেফতার করা হয়।
Keywords/Tags: জঙ্গীবাদ, জামায়াত, শিবির, হিজবুত তাহরির








