যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে হুমকিদাতা গ্রেফতার
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে হুমকিদাতা এক যুবক অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে। ‘যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত জামায়াতের চার নেতাকে ঈদের আগে মুক্তি না দিলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হবে। ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ লোকদের ওপরও হামলা চালানো হবে।’ গত ২৫ আগস্ট ই-মেইলে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শাহিনুর ইসলামকে এ ধরনের হুমকি দিয়েছিল নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার নতুন বাবুপাড়া এলাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মারুফ রায়হান। এ ঘটনার পর তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনে। ছড়িয়ে পড়ে আতংক। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। অনুসন্ধানের পর গত সোমবার নীলফামারী থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে মারুফ রায়হানকে। উদ্ধার করা হয়েছে মারুফ রায়হানের ব্যবহƒত ব্যক্তিগত কম্পিউটার। মারুফকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার একেএম শহীদুল হক বলেন, ওই হুমকির কারণে জনসাধারণের মাঝে আতংক দেখা দেয়। বিষয়টি জানার পরই রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, স্থান ও যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে জড়িত বিচারকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার পর হুমকিদাতার অবস্থান জানতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বার্তা প্রেরণকারীর ব্যাপারে নিবিড় তদন্ত শুরু করে ডিবি। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার ডিবি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানের নেতৃত্বে একটি দল সৈয়দপুর থানার নতুন বাবুপাড়া সাদ্দাম মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মারুফ রায়হানকে গ্রেফতার করে । প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ রায়হান ই-মেইলটি পাঠানোর কথা স্বীকার করেছে। তার ই-মেইল আইডি পরীক্ষা করে আরও কয়েকটি মেইল পাঠানোর প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দারা।
মারুফ পেশায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। নিজ বাসার দোতলায় ‘অকটেক কম্পিউটার’ নামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।
মারুফকে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সৈয়দপুরের রাবেয়া ফিশ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মনিরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত শত্রæতা রয়েছে। মূলত তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সে ই-মেইলটি পাঠিয়েছে। এজন্য ওই প্রতিষ্ঠানের নামে একটি নতুন ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে সে এ মেইলগুলো পাঠায়। এর পেছনে অন্য কোনও কারণ নেই।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে মারুফের কোন সংশিøষ্টতা আছে কি-না এবং অন্য কোনও অপরাধের সঙ্গে সে জড়িত কিনা তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে। গত ২৫ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে এই হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনার পর রমনা থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
Keywords/Tags: arrest, conspiracy against war crime trial, Daily Ittefaq, international crime tribunal, sabotaz, war crime tribunal, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, গ্রেফতার, দৈনিক ইত্তেফাক, নাশকতা, যুদ্ধাপরাধ বিচারবিরোধী কার্যক্রম, যুদ্ধাপরাধের বিচার ট্রাইবুনাল









Leave your response!