TwitterFacebook

আগে নিজের ঘরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তারপর অন্য দিকে তাকান : খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, আগে নিজের ঘরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করুন। তার পর অন্য দিকে তাকান। আপনার সামনে-পেছনে, ডানে-বামে যুদ্ধাপরাধীদের রেখে অন্যের বিচার করলে জনগণ তা মানবে না। তিনি বলেন, আপনারা সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করুন। তারাই বলবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় কারা তাদের সহযোগিতা করেছিল। সে পদক্ষেপ নিলে আমরাও সমর্থন দেবো। গত রাতে গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের সময়ে বঙ্গবìধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চাকরিচ্যুত চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পর কেন তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছিল, ক্ষমা করা হয়েছিল। এখন সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করলে তাদের যুদ্ধাপরাধী কিংবা সন্ত্রাসী জঙ্গি বানিয়ে দেবে। তাদের বিচার ও নির্যাতন করা হবে। সেটা চলবে না। আর এটা করে সরকার বেশি দিন সুবিধাও পাবে না। সরকারের বিপরীত চরিত্রের কথা তুলে ধরে বলেন, রাজাকার আওয়ামী লীগ করলেই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায় আর আর অন্য কোনো দল করলে মুক্তিযোদ্ধা হলেও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের চরিত্র। তারা এক দিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে প্রহসন করছে, অন্য দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরিচ্যুত করছে।
মহাজোট সরকারের দুই বছরের নানা চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতাসীন সরকারের অর্জন কেবল ব্যর্থতা, ব্যর্থতা আর ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতা নিয়ে সরকার আর কত দিন চলবে। জনগণ আর এ সরকারের পেছনে নেই। জনগণ আমাদের কাছে জানতে চাচ্ছে, কখন আন্দোলন করব। তবে আমরা রাতারাতি জঙ্গি আন্দোলন নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি, করে যাবো। তবে আওয়ামী লীগের চরিত্র জনগণের বুঝতে হবে, উপলব্ধি করতে হবে। আওয়ামী লীগকে চিনতে হবে নতুন প্রজন্মের। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আমাদের আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন করেই নিজেরা বাঁচব, দেশকে বাঁচাব।
খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার অযোগ্য ও অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর কারণে দেশে আজ কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ধ্বংস হয়ে যাবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংসদের স্পিকার, উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, পুলিশের আইজি’র দায়িত্ব পালন করছেন। এক ব্যক্তির কথায় সব হচ্ছে। সে ব্যক্তি আবার অন্য কারো কথায় চলছে। তিনি বলেন, এখন দেশের স্বাধীনতা কেবল নামকাওয়াস্তে। কার্যত দেশে বাকশালী শাসন চলছে। দেশের কোথাও আজ গণতন্ত্র নেই।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের অবৈধ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে নিজেরাই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। তারা রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীসহ মানুষের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করেছে। ফলে তারা ভালো কিছু করতে পারেনি। উল্টো সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের বিদেশী প্রভুরা যখন সেটা বুঝতে পেরেছে তখনই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। তিনি বলেন, বিএনপি দেশবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না জেনেই তাদের স্বার্থ উজাড় করে নিতে পছন্দের সরকার ক্ষমতায় এনেছে।
এর আগে বর্তমান সরকারের সময় চাকরিচ্যুত চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন খালেদা জিয়া। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন। তারা বিএনপি সরকারের সময়ে স্বাস্খ্য মন্ত্রণালয় ও ড্যাব নেতৃত্বের কিছু ভুল-ত্রুটির কথাও তুলে ধরেন। জবাবে খালেদা জিয়া উপস্খিত ড্যাব নেতৃবৃন্দের কাছে এর ব্যাখ্যা চান। ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিষয়গুলোর মূল্যায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের সময় বঙ্গবìধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ১৩ জন অধ্যাপক, ১০ জন সহযোগী অধ্যাপক, ১৫ জন সহকারী অধ্যাপক, পাঁচজন চিকিৎসক, ছয়জন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হন। এ ছাড়াও ১৬ জন চিকিৎসক-কর্মচারী এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন শিক্ষকের পদাবনতি করা হয়। এর মধ্য একজন চাকরিচ্যুতির খবরে হতাশায় আত্মহত্যাও করেছন।

5 comments

  1. আবদুস সালাম

    আচ্ছা, এইডা কি হেই খালেদা জিয়া যার পোলার নাম আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে আর সিঙ্গাপুরের আদালতের রায়ে আইছে? যার পোলার টাকা সামলাইতে গিয়া সিঙ্গাপুরের একজনের জেল হইছে?
    চোরের মায়ের বড় গলা!

  2. জামাল শরীফ

    ”খালেদা জিয়া বলেন, সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পর কেন তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছিল, ক্ষমা করা হয়েছিল। এখন সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করলে তাদের যুদ্ধাপরাধী কিংবা সন্ত্রাসী জঙ্গি বানিয়ে দেবে। তাদের বিচার ও নির্যাতন করা হবে। সেটা চলবে না।”
    এইসব প্রশ্নের জবাব খালেদা জিয়ার জানা আছে। তার স্বামী কুখ্যাত সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমানই তাদের ছেড়ে দিয়েছিল, তাদের যাতে বিচার না করা হয় সে জন্যে দালাল আইন বাতিল করেছিল।
    খালেদা জিয়া কি এমন একজনকেও দেখাতে পারবে, যে সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের সমালোচনা করায় যুদ্ধাপরাধী হয়েছে? গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী, সাকা চৌধুরীরা কি যুদ্ধাপরাধী না? আওয়ামী লীগ যখন সরকারে ছিল না, তখনও মানুষ তাদের যুদ্ধাপরাধী বলত। প্রকৃত সত্য হলো, যুদ্ধাপরাধীর খাতায় নাম কাটানোর জন্যেই যুদ্ধাপরাধীরা সরকারবিরোধী রাজনীতিক সেজে দেশপ্রেমিক সেজে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে।
    ঠিকই বলেছেন আবদুস সালাম, চোরের মায়ের বড় গলা।

  3. জীবন

    ‘আগে নিজের ঘরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তারপর অন্যদিকে তাকান’-খালেদা জিয়ার এ কথার মানে কি? আর কার ঘরে কোন যুদ্ধাপরাধী আছে মুখ খুলে বলেন না ম্যাডাম।
    আপনার পার্টির পক্ষ থেকে তো কেবল একজন যুদ্ধাপরাধীর কথাই বলা হয়েছে। তিনি আবার আপনার এককালের আদরের দেবর-এরশাদ। তিনি একসময় আপনাকে ভাবী বলতে বলতে মুখে ফেণা তুলে ফেলতেন। বিএনপি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কেবল একজন ব্যক্তির নামই বলেছে, তিনি এরশাদ।
    এরশাদ যুদ্ধাপরাধী কি না, আমরাও তা জানতে চাই। তার যুদ্ধাপরাধেরও কোনও বিবরণ আপনারা দেননি। কেন? যারা সাকা চৌধুরীকে, গোলাম আযমদের যুদ্ধাপরাধী বলছে, তারা তো অনেক ঘটনার বিবরণ ও উদাহরণ দিয়েই বলছে। এরশাদের ঘটনার উদাহরণ ও বিবরণ দিতে আপনার অসুবিধা কোথায়? না কি দেবরের গুণকীর্তন করতে ভালো লাগে না?
    আপনার মুখপত্র দেলোয়ার, ফখরুল, রিজভীদের একবার বলেন না এরশাদ ১৯৭১ সালে কী কী করেছে। তা হলে অনেক সুবিধা হয়। আমরা ক্লু খুঁজে পাই।
    আর কার ঘরে কোন যুদ্ধাপরাধী আছে, খোলাসা করে বলেন। বলেন, আর কারও ঘরে কি সাকা চৌধুরীর মতো কুখ্যাত জঘন্য খুনী আছে, যুদ্ধাপরাধী আছে?
    চোরের মার বড় গলা, চোরের মা এখন যুদ্ধাপরাধীদের রাণী।

  4. সিরাজুর

    খালেদা জিয়া বলছেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে এনে বিচার করতে। তার মানে তার উর্বর মস্তিষ্কে শুধু এটাই রয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধের পর যে-সব পাকিস্তানি কর্মকর্তারা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানে চলে গেছে কেবল তারাই যুদ্ধাপরাধী।
    পাকিস্তানে যে-সব যুদ্ধাপরাধী কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের বিচার আমরাও চাই। কিন্তু খালেদা জিয়া কি ভুলে গেছেন যে,ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে কী বলা হয়েছিল? নাকি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা জানা নেই তার? অবশ্য তার মতো গোবর্ধন নেত্রীর না জানারই কথা।
    তা হলে শুনুন, ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল নয়াদিলি্লতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তির আলোকেই ১৯৫ জন যুদ্ধবন্দিকে পাকিস্তানে ফেরৎ দেয়া হয়। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামালের ভাষ্যমতে, পাকিস্তান নিজেদের দেশে বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার কারণে এবং উপমহাদেশে শান্তিপূর্ণ স্থিতাবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তাদের ফেরৎ দেয়া হয়।
    এরপরও তাদের ফেরৎ আনার আন্দোলন করা যেতে পারে। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করতে কি রাজি হবেন? তিনি তো এখনই মেউ মেউ করে বলছেন, ফিরিয়ে আনুন… আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন কোন শক্তিতে? তিনি নিজেই তো পাকিস্তানি ভাবাদর্শে পরিপুষ্ট।
    খালেদা জিয়া কথায় কথায় আন্দোলনের কথা বলেন। আসেন না, দেশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে আনার জন্যেও আন্দোলন করি।
    কি, রাজি আছেন? নাকি মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত? আপনার দৌড় চোর সন্তানদের বাঁচানো পর্যন্ত?

  5. আবদুস সালাম

    খালেদা জিয়া কি চাকরিচ্যুত ডাক্তারগারে সঙ্গে কতা কইতেছিলেন, নাকি তার দলীয় ডাক্তারগারে লগে কতা কইতেছিলেন?
    এই ডাক্তারগারে কি আদপেই পিজি হাসপাতালে চাকরি করার যোগ্যতা আছিল?
    বাংলার মানুষ জানে, ম্যাডাম।
    আর এরা তো চাকরিচ্যুত হয় নাই। ঠ্যালায় পইড়া নিজেগারে অযোগ্যতা ঢাকার জইন্যে নিজেরাই চাকরি ছাইড়া দিছে। আগে চাকরিতে থাইকা টুয়েন্টিফোর আওয়ার পলিটিক্স কইরতো, এহন চাকরি ছাইড়া দিয়া পলিটিক্স কইরতেছে।
    সাকা চৌধুরী নাকি পিজিতে চিকিৎসা নিতে রাজি হয় নাই। কারণ ওইখানে তো এহন আর এই কুতুবগুলা নাই যে ফালতু সার্টিফিকেট আর রিপোর্ট বানায়া দিবো। আর হেই রিপোর্ট দেখাইয়া বিএনপির পাণ্ডারা হইচই করার সুযোগ পাইব।
    খালেদা দেহি কইছেন যে,’আমরা রাতারাতি জঙ্গি আন্দোলন নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি, করে যাবো।’ তার মানে কি উনি রাতারাতি না, ধাপে ধাপে জঙ্গি আন্দোলন করার অংশ হিসাবে এহনকার আন্দোলন কইরতেছেন?
    ও রে, তোরা সাবধান, চোরের মায়ের বড় গলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us