বাংলাদেশে ‘যুদ্ধাপরাধীদের’ মৃত্যুদণ্ড দিতে কলকাতায় শাহরিয়ার কবীরের তদবির
বাংলাদেশের লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট শাহরিয়ার কবীর এখন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের দাবি জোরদার করতে ভারতে প্রচারণা অভিযান শুরু করেছেন। কলকাতা প্রেস ক্লাবে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির ব্যানারে এ জন্য গত শনিবার এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে শাহরিয়ার কবীর লিখিত একটি বইও প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা দৈনিক স্টেটসম্যান সম্পাদক মানস ঘোষ, উপদেষ্টা সম্পাদক অচিন রায়, কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উপরাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান, ইতিহাস লেখক জয়ন্ত রায় প্রমুখ।
শাহরিয়ার কবীর ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের যে তালিকা তৈরি করেছেন, শাহরিয়ার কবীর ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে বলে দাবি তোলেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে ভারতেও সরাসরি মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিরুদ্ধে যে মনোভাব গড়ে উঠেছে, তা স্মরণে রেখে শাহরিয়ার কবীর কলকাতা প্রেস ক্লাবে ওই অনুষ্ঠানে বলেন, আমিও বিশ্বাস করি, মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত খুব সতর্কতার সাথে নেয়া উচিত। কিন্তু সাধারণ ক্রিমিনাল ও যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে, যারা হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতে হবে।
তিনি জানান, ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, তার সদস্য কানাডার একজন জুরিও মৃত্যুদণ্ড প্রদানের পক্ষেই অভিমত দিয়েছেন। শাহরিয়ার কবীর বলেন, মৃত্যুদণ্ড না হলে ভবিষ্যতে যে সরকারগুলো আসবে তারা ওই অপরাধীদের মুক্তি দেয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে। শাহরিয়ার কবীর অবশ্যই এ কথাও স্বীকার করেন যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসছে।
সভায় উপস্থিত ভারতীয় বুদ্ধিজীবীরাও শাহরিয়ার কবীরের বক্তব্য ও দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। মানস ঘোষ বলেন, শাহরিয়ার কবীর ভারতের অকৃত্রিম বন্ধু। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে শাহরিয়ার কবীর যে প্রচারণা চালান, তাতে বাংলাদেশে জনমত গঠিত হয়। আর এই জনমত ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে অচিন রায় গত তিন দশক ধরে ভারতের মানবিকতাকে বিসর্জন দিয়ে মানব হত্যার যেসব নারকীয় ঘটনা ঘটছে, তার সাথেও যুদ্ধাপরাধের বিষয়টির প্রাসঙ্গিক তুলনা করেন। শাহরিয়ার কবীর পরে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ও তার সহযোগীদের চিহ্নিত করা যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে জনমত গঠন করবেন।
Keywords/Tags: international crimes trial, naya diganta, Shariar Kabir, war crimes trial









Leave your response!