TwitterFacebook

সব অভিযোগ মিথ্যা || ভারতীয় রাজাকাররাই আমাকে রাজাকার বলে -মাওলানা সাঈদী

  • Written by:

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেশবরেণ্য আলেমে দ্বীন ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বলেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আনিত ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ২০টির সব ক’টি অভিযোগই মিথ্যা আর সাক্ষী মিথ্যা। আমি ১৯৭১ সালে রাজাকার, আল-বদর, আল-শাম্স কিছুই ছিলাম না, কমান্ডার হওয়া তো অনেক দূরের কথা। ভারতীয় রাজাকাররাই আমাকে রাজাকার বলে। আর বলে কিছু কলামিস্ট, যারা মিডিয়াকে ব্যবহার করে চরম মিথ্যাচার করছে।’’ তিনি মিথ্যা অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে অনুরোধ জানান।

গতকাল সোমবার বিচারপতি নিজামুল হক, বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির ও বিচারপতি এ কে এম জহিরের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২০টি মানবতাবিরোধী অভিযোগ চার্জ গঠনের আদেশ পড়ে

শুনানোর পর এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে চাইলে মাওলানা সাঈদী উপরোক্ত কথা বলেন। প্রায় ১ ঘণ্টাব্যাপী আদেশ দেওয়ার সময় মাওলানা সাঈদী ছিলেন পিছনের কাঠগড়ায় বসা। অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার পর তাকে নিয়ে আসা হয় সামনে সাক্ষীর কাঠগড়ায়। সেখানে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক তার কাছে জানতে চান, আমরা ইংরেজিতে অর্ডার দেয়েছি। আপনার সুবিধার্থে বাংলায় বলছি। এসময় মাওলানা সাঈদী বলেন, ‘‘আমি ইংরেজিটাই বুঝেছি। বাংলায় বলার প্রয়োজন নেই।’’ তিনি দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আপনি বসেই বলুন।’’ মাওলানা সাঈদী যেভাবে কুরআনের তাফসীর করতেন দেশে-বিদেশে ঠিক সেইভাবেই নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারিম… বলে বক্তব্য শুরু করেন। ৫/৬ মিনিটের বক্তব্য আদালত কক্ষে উপচেপড়া আইনজীবী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, আইনশৃক্মখলাবাহিনীসহ সবাই তন্ময় হয়ে শোনেন। অনেকেই বক্তব্য শুনে আফসোস করতে থাকেন।

মাওলানা সাঈদী এ সময় আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান তখন বলেন, ‘‘এ ধরনের কোনও সুযোগ নেই।’’ এর জবাবে সাঈদী বলেন, ‘‘সুযোগ না থাকলে আমি দু’তিন কথায় এর জবাব দেব।’’

তিনি প্রথমে সবাইকে সালাম দিয়ে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘‘মাননীয় বিচারক, সেদিন আপনি প্রথম হজ্জ করে এসেছেন। আপনার মাথায় টুপি ছিলো, তখনও আপনার মুখ থেকে নূরানি আবা মলিন হয়নি। আমাকে এখানে আনার পর একজন প্রসিকিউটর আমার নাম বিকৃত করে বলেছিলো। আমি আশা করেছিলাম আপনি এর প্রতিবাদ জানাবেন। কিন্তু আপনি সেটা করেননি। আপনি আদেশ দেয়ার সময় একই বিকৃত নাম বলেছেন।’’ সুরা হুজরাতের ১১নং আয়াতের কথা উল্লেখ করে সাঈদী বলেন, ‘‘ওই সুরাতে নামের বিষয়ে বলা আছে, ‘কোনও মানুষকে বিকৃত করে ডেক না।’ আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর আরশের নীচে ৭ শ্রেণীর মানুষ ছায়া পাবে। তার মধ্যে ন্যায় বিচারকরা প্রথমেই রয়েছেন। আপনার (ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান) কাছ থেকে সেই ন্যায়বিচার আশা করি।’’

তিনি বলেন, ‘‘দ্বিতীয় কথা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক যুগের বেশি সময় আমাকে নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ১৯৮০ সালে আমি যখন জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরার সদস্য হই তখনই আমাকে নিয়ে অভিযোগ ওঠে। ১৯৯৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে সরকার গঠন হয় তখন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই আমি ২০ মিনিটের বক্তব্য দিয়ে বলেছিলাম, ‘‘আমি রাজাকার নয়। সেই ২০ মিনিটের বক্তব্যের একটি কথাও এক্সপাঞ্জ করা হয়নি।’’ ঐ বক্তব্য কেউ এখন পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে একটি রচনা ছাড়া আর কিছুই নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন মিথ্যা। এমন মিথ্যা প্রতিবেদনের জন্য আল্লাহর আরশ কাঁপবে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে যারা এমন প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাদের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসবে, আমি সেই লানত দেখার অপেক্ষায় আছি।’’

পিনপতন নিরবতার মধ্যে মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদী আরো বলেন, ‘‘একাত্তরে আমি কোনও অপরাধ করেনি। কোনও বাহিনীর কমান্ডার তো দূরের কথা পদেও ছিলাম না। আমি রাজাকার, আল-বদর, আল-সাম্ম কিছুই ছিলাম না।’’ তিনি বলেন, ‘‘মানবতাবিরোধী নয় মানবতার পক্ষে আমি বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে বক্তব্য দিয়ে এসেছি।’’ তিনি বলেন, ‘‘এখানে যাদেরকে স্বাক্ষী হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে তাদের সব কথাই মিথ্যা। কুরআন শরীফে আছে, ‘যারা মিথ্যা বলে তাদের ওপর আল্লাহর লানত পড়বে’।

মাওলানা সাঈদী বলেন, ‘‘একটি মিথ্যা রচনার ভিত্তিতে বিচারের নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। আমি ১৯৭১ সালের কোন ঘটনার সাথে জড়িত ছিলাম না। পাকবাহিনীর সাথে বৈঠক তো দূরের কথা তাদের সাথে আমার দুরতম কোন সম্পর্ক ছিল না। সুরা ইবরাহিমের একটি আয়াত তেলাওয়াত করে তিনি বলেন, ‘‘আমি নিরীহ মানুষ। অথচ আমার বিরুদ্ধে পাহাড়সম চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে আমাকে অভিযুক্ত করা হলে আল্লাহর আরশ কাঁপবে। আমাকে জনসম্মুখে হেনস্থা করা, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর অন্তত এক যুগেও আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরার সদস্য হওয়ার পরই কিছুসংখ্যক বুদ্ধিজীবী কলামিস্ট আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার শুরু করে।’’ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগকে মিথ্যা, মিথ্যা এবং মিথ্যা বলে অভিহিত করে বলেন, ‘‘আমি নির্দোষ। আমাকে এসব অভিযোগ থেকে রেহাই দেয়া হোক।’’

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us