TwitterFacebook

২০টি অভিযোগে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত || ৩০ তারিখ থেকে বিচার শুরু

  • Written by:

স্টাফ রিপোর্টার : ২০টি অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অভিযোগের চার্জ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত দীর্ঘ আদেশ প্রদান করেন। আগামী ৩০ অক্টোবর এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারকার্য শুরু করার দিন ধার্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দেড় বছর পর গতকাল সোমবার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৩১টি অপরাধের অভিযোগ এনেছিলো। তবে এর মধ্যে ২০টি অভিযোগ গ্রহণ করে তার ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন হয়েছে।

কাঠগড়ায় একটি চেয়ারে বসা মাওলানা সাঈদী অবশ্য অভিযোগ গঠনের সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা। সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বয়ান দিতে

যুদ্ধাপরাধ তদন্ত সংস্থাকে লিখতে হয়েছে ৪ হাজার ৭৪ পৃষ্ঠা। ১৫ খন্ডের একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে তারা।

একাত্তরে ৩ হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয় জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর এবং একশ’ থেকে দেড়শ’ হিন্দুকে ধর্মান্তরে বাধ্য করার অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। কারাগার থেকে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাঈদীকে পুরনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

প্রসিকিউশন বিভাগের পক্ষে আদালতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান, সৈয়দ হায়দার আলী, জেয়াদ আল মালুম প্রমুখ। সাঈদীর পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমীন, মিজানুল ইসলাম প্রমুখ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযোগ গঠনের আদেশ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে সাঈদীকে আদালতে আনা হয়।

অভিযোগ গঠনের সময় মুক্তিযুদ্ধের পটভুমি ও ইতিহাস তুলে ধরে ২০টি ঘটনা উল্লেখ করে আদালত বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী সাঈদী রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের জোর করে ধর্মান্তর করানো, লুটতরাজসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অপরাধ সংঘটিত হয় বরিশাল জেলার তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমায়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ ফিরিস্তি সম্বলিত অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়ার পর মাওলানা সাঈদীকে সামনে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বিচারপতি নিজামুল হক অভিযোগ বাংলায় পড়া শুরু করলে সাঈদী বলেন, ‘‘যা বলা হয়েছে, আমি ইংরেজিতেই বুঝেছি।’’

এর পর আদালত কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সাঈদীকে প্রশ্ন করেন বলুন, আপনি দোষী কি না? তখন সাঈদী বলেন, ‘‘আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই।’’ এ পর্যায়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই জানানোর পর তিনি কিছুক্ষণ বক্তব্য দেয়ার সুযোগ চান আদালতের কাছে। আবেদন গৃহীত হলে প্রায় আট মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি।

মাওলানা সাঈদী বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে চার সহস্রাধিক পৃষ্ঠার একটি রচনা তৈরি করা হয়েছে। এর প্রতিটি লাইন মিথ্যা, প্রতিটি শব্দ মিথ্যা। এটি সব মিথ্যা, মিথ্যা এবং মিথ্যা।’’ এরপর আদালত ২০টি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করে। আগামী ৩০ অক্টোবর এ মামলার শুনানি শুরুর তারিখ নির্ধারণ করে আদালত। এর মধ্যে অভিযুক্ত এবং প্রসিকিউশন পক্ষকে তাদের সাক্ষীদের তালিকা জমা দিতে বলা হয়।

তবে সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ সময়ের মধ্যে আমাদের ‘ডিফেন্স’ প্রস্তুত করা সম্ভব না। সাঈদীকে গ্রেফতারের পর এক বছর তদন্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারের আগে আরো ছয় মাস তদন্ত করা হয়েছে। মাত্র ২৭ দিনে এর ডিফেন্স প্রস্তুত করা সম্ভবপর নয়।’’ তাজুল অভিযোগ গঠন পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের কথাও জানান। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখেই এ বিষয়টি উত্থাপন করতে তাকে বলেন।

সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন প্রশ্নে গত ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক চলে। এরপর ৩ অক্টোবর আদেশের দিন রাখে ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার করা হয় সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা সাঈদীকে। চলতি বছর ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

পরে প্রেস ব্রিফিংএ এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ আনার জন্য প্রসিকিউশন পক্ষ দেড় বছর সময় পেয়েছে। অভিযোগ খন্ডনের প্রস্তুতির জন্য আমাকে মাত্র ২৭ দিন সময় দেয়া হয়েছে। এটা অবাস্তব। কয়েক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগের জবাবে ২৭ দিনে তৈরি করা অবাস্তব ব্যাপার। দুনিয়ার যত স্থানেই এধরনের ট্রাইব্যুনাল হয়েছে সেখানে অভিযুক্তকে এক বছর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। মাওলানা সাঈদী সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা তা তিনি নিজেই বলেছেন। ট্রাইব্যুনাল আগেই বলেছিলেন যে, তারা অভিযুক্ত পক্ষকে সময় দেবেন। এখন সময় না দিলে আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। বিচারের নামে হবে প্রহসন। তিনি আরও জানান, আজ যে আদেশ দেয়া হলো তার বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার সুযোগ আছে। আমরা রিভিউ আবেদন করবো। ৩০ তারিখ আমরা অবশ্যই সময়ের আবেদন করবো।

প্রেস ব্রিফিং-এ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ লুটপাটসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছে সাঈদীর বিরুদ্ধে। ৩০ তারিখ থেকে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে।

সব সুযোগই পেয়েছেন
আইন অনুযায়ী সব সুবিধা নিশ্চিতের পরই দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিবন্ধক শাহিনুর ইসলাম। তিনি বলেন, যেহেতু বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাই এ বিষয়ে কেউ কোন বক্তব্য দিবেন না বলে আশা করি। গতকাল সোমবার সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উভয় পক্ষকে যথাযথ ও পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে সব কার্যক্রম উন্মুক্তভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামীতেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

শাহিনুর ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে কোনো মামলায় কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হলো। প্রসিকিউসন পক্ষ শুনানিকালে ৩১টি অপরাধে চার্জ গঠনের প্রস্তাব করলে ট্রাইব্যুনাল সার্বিক পর্যালোচনায় সাঈদীর বিরুদ্ধে মোট ২০টি অভিযোগ গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ গঠন মানে এক জনকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়। এ পর্যায়ে অভিযুক্তের নির্দোষিতার সমর্থনে যেসব যুক্তি রয়েছে বলে ডিফেন্স মনে করেছেন তা-সহ প্রাসঙ্গিক জুরিসপ্রুডেন্সিয়াল ডেভেলপমেন্টের বিষয়টি বিচারকালেও উত্থাপন করা যাবে।

ট্রাইব্যুনালের মুখপাত্র বলেন, আজকের এ আদেশের মাধ্যমে এখন বলা যায়, এ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে ৩০ অক্টোবর। ট্রাইব্যুনাল এ পর্যায়ে বিবেচনার আলোকে প্রাথমিকভাবে মনে করেছেন যে কথিত সময়ে, স্থানে ও প্রকারে ১৯৭৩ সালের আইনের ৩ (২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগগুলো সংঘটিত হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়।

১৯৭৩ সালের আইন অনুসারে ডিফেন্স প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে ২১ দিন সময় দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম মুলতবি ছাড়াই চলার কথা। শাহিনুর জানান, গত ১৪ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ১০ আগস্ট অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য প্রথম দিন ধার্য করা হয়। এভাবে ডিফেন্সকে বক্তব্য উপস্থাপনের সব ও পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে ২৭ অক্টোবর চার্জ গঠনের জন্য প্রথম ধার্য তারিখের ২ মাস ১৭ দিন পর শুনানি শেষ হয়।

যেহেতু মামলার বিচার শুরু হচ্ছে, তাই এ পর্যায়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এমন কোনো বক্তব্য না দিতে সবার প্রতি আহবান জানান ট্রাইব্যুনালের নিবন্ধক।

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us