যুদ্ধাপরাধের বিচার রাজনৈতিক কারণে\ এটি ব্যুমেরাং হতে বাধ্য
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ২ অক্টোবর নিউইংল্যান্ড বিএনপির দ্বিতীয় মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দু:শাসন-অপশাসনের জন্যে আওয়ামী লীগকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে এজন্যে ধৈর্য ধরতে হবে আরো দু’টি বছর। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্ট গণজোয়ারে আওয়ামী লীগের পতন ঘটবে সামনের নির্বাচনে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমালোচনা করে বলেন, তা করা হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে। এটি বুমেরাং হতে বাধ্য।
সাউথ বস্টনে হলিডে ইন এক্সপ্রেস হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কাজী নূরুজ্জামান এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সোহরাব খান। বিশেষ অতিথি এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন যথাক্রমে সাবেক এমপি হাসনা মওদুদ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গিয়াস আহমেদ ও তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাদল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইংল্যান্ড বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন খান। উল্লেখ্য যে, বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে দু’মাসের ফেলোশীপ প্রোগ্রামে ব্যারিস্টার মওদুদ গত এক মাস যাবত বস্টনে রয়েছেন। বলেন, ভারত ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তর্জাতিক কোন মিত্র নেই। বাংলাদেশেও শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে এক ঘরে করতে হবে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বাংলাদেশের ৮০% মানুষই সরকারের দু:শাসনে অতীষ্ঠ। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু অতি সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনের নামে ৭ -এর ‘খ’ ধারা যুক্ত করে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহাজোট সরকার এবার যা করলো তার পরিবর্তন করা যাবে না। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, তাহলে জনগণ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী-এ বিষয়টি অটুট থাকলো কীভাবে? তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারের স্বৈরাচারি মনোভাবের বহি:প্রকাশ ঘটেছে এবং এই একটি মাত্র কারণেই পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটাই বাতিল হয়ে যাবে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলেন, প্রধান বিরোধীদলকেও পাত্তা দিতে চান না। এমনকি বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার গভীর একটি ষড়যন্ত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে সরকারের আচরণে। এহেন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যে দেশ-বিদেশে দুর্বার আন্দোলন রচনা করতে হবে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, তারেক রহমান অর্থ পাচার করেছেন বলে মামলা দেয়া হয়েছে। অথচ বিদেশে তার কোন একাউন্টও নেই। তিনি তার এক বন্ধু মামুনের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন ‘এডিশনাল’ গ্রাহক হিসেবে। সেই ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে হয়তো জেল-জরিমানা করা হবে। কিন্তু সেটি টিকবে না। বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসবে তখন আমরা মাননীয় আদালতে ‘বিলম্ব মার্জনা’র অধীনে আপিল করবো এবং সে সব রায় বাতিল হয়ে যাবে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চালানোর অভিজ্ঞতা যাদের নেই-তাদের বানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এভাবেই বাংলাদেশকে প্রতি পদে খাটো করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের মত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন মানুষকে অপমানিত করে বর্তমান সরকার গোটা বাংলাদেশকেই অপসানিত করেছে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায় এবং আমার যদি সামর্থ্য থাকে তবে ড. ইউনূসকে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় বিশেষ দূত নিয়োগ করে আন্তর্জাতিক লবিংয়ে পাঠাবো।
এ সম্মেলনে সকলের অনুমতিসাপেক্ষে কাজী নূরুজ্জামানকে পুনরায় সভাপতি এবং সোহরাব খানকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক করে নিউইংল্যান্ড বিএনপির নতুন নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।
Keywords/Tags: bnp, Moudud Ahmed, war criminal trial is a farce








