রাতে দুধ-মুরগি খাচ্ছেন গোলাম আযম
লিটন হায়দার
অপরাধ বিষয়ক প্রধান প্রতিবেদক
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকা, জানুয়ারি ১৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক গোলাম আযমকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বাইরের খাবার সরবরাহের অনুমতি না থাকায় ৮৯ বছর বয়সী গোলাম আযমকে তার পছন্দের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
রোববার সকালে গোলাম আযমকে দেওয়া হয় ডিম, সঙ্গে ছিল পাউরুটি, কলা ও দুধ- তার পছন্দ অনুযায়ী সকালের নাস্তা হিসেবে এ খাবার সরবরাহ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দুপুরে দেওয়া হয় ভাত, মাছ, সবজি ও সালাদ।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে তার চাহিদা অনুযায়ী রাতের খাবার হিসেবে দেওয়া হয়েছে রুটি, মুরগির মাংস, সবজি ও সালাদ। পুষ্টিবিদের পরামর্শে বিশেষ ব্যবস্থায় দেওয়া হয়েছে দুধ ও স্যুপ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, রোববার সকালে হাসপাতালের খাবারের একটি তালিকা গোলাম আযমের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই তালিকায় খাবারের নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে তিনি নিচে স্বাক্ষর করে দেন।

“এরপর এই তালিকা অনুযায়ী তাকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এরপর থেকে পরের দিনের খাবারের জন্য আগের দিন তালিকা পাঠিয়ে টিক চিহ্ন নেওয়া হবে,” যোগ করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ্য বিভাগের পুষ্টিবিদ তৃপ্তি চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বাইরের খাবারের অনুমতি না থাকায় গোলাম আযমের চাহিদা অনুযায়ী খাবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে।
কারাবন্দি গোলাম আযমের স্বাস্থ্যগত কিছু পরীক্ষার বিষয়ে চিকিৎসকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় তিনি এখনো বিএসএমএমইউ হাসপাতালেই রয়েছেন। বর্তমানে এ হাসপাতালেরই প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে গোলাম আযমকে, যার বিরুদ্ধে আগামী ১৫ ফেব্র“য়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানি করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতাকারী গোলাম আযমকে গত ১১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পর ওই দিনই চিকিৎকদের পরামর্শে হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার তীব্র বিরোধিতাকারী গোলাম আযম ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন, যাদের সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আযম সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও প্রকাশ্যে তদবির চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৯৭১ থেকে ৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করার পর ১৯৭৮ এ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে আবার বাংলাদেশে আসেন এই জামায়াত নেতা। ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশে ফেরার পর দীর্ঘদিন তার নাগরিকত্ব না থাকলেও বিগত বিএনপি সরকারের সময় উচ্চ আদালতের আদেশে নাগরিকত্ব ফিরে পান গোলাম আযম।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএইচ/আরএ/১৮২৮ ঘ.
Keywords/Tags: Ghulam Azam, গোলাম আযম









Leave your response!