Home » BNP-Jamaat, Bangladesh, Bengali, Dhaka, News, কালের কন্ঠ

‘নাশকতা’ নাকচ করল বিএনপি, মাঠে থাকার ঘোষণা জামায়াতের

28 January 2012 Author: মোশাররফ বাবলু Original Source: Link

আগামীকালের কর্মসূচিতে নাশকতা করার ষড়যন্ত্রের কথা নাকচ করে দিয়ে বিএনপি বলেছে, গণমিছিল হবে শান্তিপূর্ণ। তবে এতে বাধা দেওয়া হলেই কেবল বিএনপি কঠোর কর্মসূচিতে যাবে। তাদের ভাষ্য, হয়তো গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। এ ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।
২৯ জানুয়ারির গণমিছিলে নাশকতার পরিকল্পনা আঁটা হয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে কালের কণ্ঠের কাছে এই ভাষ্য দেওয়া হয়েছে। গণমিছিল আহ্বানকারী চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বানচাল করতেই সরকার ও প্রশাসন এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে জামায়াত বলেছে, অতীতের মতো এবারও বিএনপির পাশাপাশি তাদের নেতা-কর্মীরা মাঠে উপস্থিত থাকবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ডাকা আগামীকাল রবিবারের গণমিছিলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলো। ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শান্তিপূর্ণ গণমিছিল করতেও পুলিশের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে বিএনপির। গণমিছিলে বাধা দেওয়া হলে ‘অবস্থান ধর্মঘট’সহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে সূত্র জানায়। গত ৯ জানুয়ারি রোডমার্চ শেষে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে তিনি ২৯ জানুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশের বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে গণমিছিল এবং ‘ঢাকা চলো’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে আগামী ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা দেন। ঢাকায় গণমিছিলের নেতৃত্ব দেবেন খালেদা জিয়া। জানা গেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ গণমিছিলের পুরো নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
রবিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে কাকরাইল, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির সামনে দিয়ে শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামোটর জহুরা মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হবে। আজ শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণমিছিল সফল করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন খালেদা জিয়া। ইতিপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন বিভাগ অভিমুখে রোডমার্চ করেছে বিএনপি। একই দাবিতে রবিবার ঢাকাসহ বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে গণমিছিল করবে তারা। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা শহরে গণমিছিলে নেতৃত্ব দেবেন দলের স্থানীয় নেতারা।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাশকতা সৃষ্টি হবে এমন কিছু আমরা দেখছি না। আমরা সব সময়ই শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিল করতে চাই।’
নাশকতার ষড়যন্ত্রের কথা শুনে সরকারপ্রধান জরুরি বৈঠকও করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হয়তো গোয়েন্দাদের তথ্য নিয়ে তাঁরা বৈঠক করতে পারেন। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। কারণ আমরা কোনো ধরনের নাশকতায় বিশ্বাসী নই। এর আগে আমাদের রোডমার্চ সফলভাবে করেছি। গণমিছিলসহ ভবিষ্যতে যত কর্মসূচি দেওয়া হবে, সবই শান্তিপূর্ণভাবে করতে চাই। তবে কোনো বাধা এলে এর সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এর প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন একটাই দাবি, নির্বাচব কমিশন পুনর্গঠনের আগে সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামীতে সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, সারা দেশের মানুষ এই সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছে। এ সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। গত নির্বাচনে যে অঙ্গীকার নিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছিল, এর একটি ওয়াদাও পূরণ করতে পারেনি সরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি বানচালের ষড়যন্ত্র করছে সরকার। আমরা হরতাল দিতে চাই না। কিন্তু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোলাটে করলে হরতাল, অবস্থান ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে।’
নাশকতার প্রশ্নে জামায়াতের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ কালের কণ্ঠকে জানান, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে প্রশাসন যেভাবে নাশকতার আশঙ্কা করছে, তা শুধুই অমূলক ও আজগুবি চিন্তাভাবনা। গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত ও বানচাল করতেই সরকার এ ধরনের অপপ্রচার ছাড়াচ্ছে এবং সরকারের মন্ত্রী, নেতা-কর্মীরা এ ধরনের আজগুবি বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোট অসংখ্য গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করেছে, তাতে মানুষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু কোনো কর্মসূচিতেই নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। আগামী ২৯ জানুয়ারি গণমিছিল ও ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন খালেদা জিয়া। অতীতের মতো এবারও বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি থাকবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
গণমিছিল সফল করতে ঢাকার আশপাশের জেলা ও উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জসহ মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা ব্যাপক লোক সমাগম ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক সপ্তাহ ধরে গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব প্রতিনিয়ত দফায় দফায় বৈঠক করেন। একটাই লক্ষ্য- গণমিছিল সফল করা। দলের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিল সফল করতে চাই।’ রোডমার্চে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি, গণমিছিলও যেন সফল হয়। কেউ যাতে কোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে চোখ-কান খোলো রেখে গণমিছিলে অংশ নিয়ে সফল করে তুলতে দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া। গণমিছিল চলাকালে বাধা এলে তাৎক্ষণিক কী ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা যায় তা নিয়েও জোটের ও সমমনা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
মহানগর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন : শান্তিপূর্ণ গণমিছিল করতেও পুলিশের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের জন্য দলের প্রতিনিধিরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়ে সহায়তা চান। এবারে গণমিছিলের ঘোষণা গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড থেকে চেয়ারপারসন দিয়েছিলেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক এই কর্মসূচি পালনের জন্য ঢাকার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আওয়ামী লীগ সভা করে ঘোষণা দিয়েছে, একই দিন তারা ঢাকায় সমাবেশ করবে। সরকারের এই ফ্যাসিবাদী হিংসাত্মক আচরণের পরিণতি শুভ হবে না।
পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ : যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গণমিছিলের প্রচারের অংশ হিসেবে পোস্টার লাগানোর সময় পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন শাহবাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম স্বপন, বাবুপুরা ইউনিটের সহসভাপতি আলমগীর হোসেন, মফিজুল ইসলাম, আবদুল মোতালেব ও আবুল কালাম। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানিয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, মিছিল করতে পুলিশের অনুমতি লাগে না। তবে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম, সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, সহতথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম, মহিলা দলের সভাপতি নুরী আরা সাফা, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।
জামায়াত, শরিক ও সমমনা দলের আহ্বান : রবিবারের গণমিছিল সফল করতে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোটসহ চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলো। গতকাল শুক্রবার ন্যাপ কার্যালয়ে এক যৌথ সভায় দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ২৯ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ও সমমনা দলগুলোর গণমিছিলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বলেন, অভ্যুত্থানের নামে নতুন নাটকের জন্ম দিচ্ছে সরকার। দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে রক্ষায় দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম সারওয়ার খান, সুব্রত বারুরী, ব্যারিস্টার মশিউর রহমান গনি, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মাস্টার, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, দপ্তর সম্পাদক মো. নুরুল আমান চৌধুরী টিটো প্রমুখ।

Keywords/Tags: ,

Added by: Khan Muhammad

Leave your response!

Add your comment below, or trackback from your own site. You can also subscribe to these comments via RSS.

Be nice. Keep it clean. Stay on topic. No spam.

You can use these tags:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

This is a Gravatar-enabled weblog. To get your own globally-recognized-avatar, please register at Gravatar.