Home » Bangladesh, Bangladesh 1971 Trials, Bengali, Crimes Against Humanity, Dhaka, Genocide, History, Human Rights, International Crimes Tribunal (ICT), International opinion, International response, Liberation War of Bangladesh, News, Public Reaction, প্রথম আলো

যুদ্ধারাধীদের বিচার ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন দাবি করে

20 February 2012 Original Source: Link

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাংলাদেশের উদ্যোগ ব্যাপক আন্তর্জাতিক সংহতি ও সমর্থন দাবি করে। এই লক্ষ্যে বিশ্ব বাঙালি সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, একাত্তরের গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এই বিচারের জন্য জাতি ৩০ লাখ শহীদ ও অগণিত নির্যাতিত মানুষের কাছে দায়বদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেঙ্গলি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত প্রথম ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন’ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বাংলা সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকতর বিকাশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাঙালি, বাংলা ও বাংলাদেশ—একই সূত্রে গাঁথা তিনটি স্তম্ভ। প্রতিটিই একে অপরের পরিপূরক। একটি ভাষা একটি দেশ—বিশ্বে এমন উদাহরণ বিরল। এটাই আমাদের বিশেষত্ব ও আমাদের গর্ব। তিনি বলেন, আজ থেকে ৬০ বছর আগে রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষা বাংলাকে মর্যাদার আসনে বসিয়ে বাঙালি জাতি তার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
শেখ হাসিনা ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠাসহ জাতির প্রতিটি অর্জনে প্রবাসী বাঙালিদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রখ্যাত ব্রিটিশ কবি এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গবেষক উইলিয়াম রাদিচে, বেঙ্গলি ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি শামসুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বেনু ভূষণ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বাসস।
বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের সেমিনার: আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন উদ্বোধনের পর গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের প্রথম সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্রিটিশ কবি উইলিয়াম রাদিচে। ‘বিশ্বে বাঙালির অবদান’ শীর্ষক প্রবন্ধে রাদিচে বলেন, ‘বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংগীত অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আমি ইংরেজ কবি হয়েও মুগ্ধ হয়ে বাংলা সাহিত্যের রস আস্বাদনের চেষ্টা করছি। আপনারা আমাকে বলতে পারেন অবাঙালি বাঙালি।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, মধুসূদন দত্ত থেকে শুরু করে আধুনিক কবি শামসুর রাহমানের বিভিন্ন কবিতা উদ্ধৃত করেন রাদিচে। তিনি বলেন, ‘অমি দেখেছি, দীর্ঘদিন ধরে যেসব বাংলাদেশি বিদেশে আছেন, তাঁদের অনেকের ছেলেমেয়েরা বাংলা বলতে পারে না। অনেকে আবার বাংলা বুঝতেও পারে না। কিন্তু তাদের বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আছে। কাজেই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নইলে ভাষাও হারিয়ে যাবে।
মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যে মাহাত্ম্য, রাদিচে তা তুলে ধরেছেন। রাদিচে বলতে চেয়েছেন, সংস্কৃতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভাষা। কাজেই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আজকে শিক্ষিত দুজন বাঙালি যখন কথা বলে, তারা ইংরেজির মিশ্রণ ও আঞ্চলিকতা দুষ্ট ভাষায় কথা বলে। এটি উচ্ছৃঙ্খলতা। এ ছাড়াও আছে হিন্দির আগ্রাসন। দেশে এখন চলছে তিন ধারার শিক্ষা। এগুলো সবই বাংলা ভাষার ক্ষতি করছে।

Keywords/Tags:

Added by: anandi

Leave your response!

Add your comment below, or trackback from your own site. You can also subscribe to these comments via RSS.

Be nice. Keep it clean. Stay on topic. No spam.

You can use these tags:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

This is a Gravatar-enabled weblog. To get your own globally-recognized-avatar, please register at Gravatar.