গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানি ৬ মার্চ
![]() |
| ছবি: রুবেল /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা : মানবতাবিরোধী অভিযোগে আটক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগের উপর পরবর্তী শুনানি ৬ মার্চ ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
ওইদিন প্রসিকিউটররা অভিযোগের উপর শুনানি করবেন। অপরদিকে আগামী ১২ মার্চ শুনানি করবেন গোলাম আযমের আইনজীবীরা।
সোমবার চেয়ারম্যান নিজামুল হকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এর আগে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন ঘটনার সিডি ও ডিভিডিওসহ ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটাররা।
পরে গোলাম আজমের উপস্থিতিতে এসব ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়।
এর আগে বুধবার চতুর্থ দিনে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান নিজামুল হকের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের বাকি পৃষ্ঠাগুলো পড়েন প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম ও নুরজাহান আক্তার মুক্তা।
পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেন আদালত।
ওইদিন বিকেলে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ১৯১ পৃষ্ঠার ফরমাল চার্জ ইতোমধ্যে উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এখন ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হবে। ডকুমেন্টের মধ্যে রয়েছে- সিডি ও ডিভিডিও। ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট, গণহত্যা ও ধর্ষণের বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদ আমরা সংগ্রহ করেছি।
এর সংখ্যা প্রায় এক হাজারের মতো। তবে আমরা সবগুলো সংবাদ উপস্থাপন করবো না।
এছাড়া যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর এটলার্জ স্টিফেন জে র্যাপ আমাদেরকে কিছু দালিলিক তথ্য দিয়েছেন। সেগুলোও আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে প্রথম দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ উপস্থাপন শুরু করেন প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। ১৯১ পৃষ্ঠার মধ্যে ওইদিন প্রায় ৪৪ পৃষ্ঠা পড়ে শোনানোর পর ট্রাইব্যুনাল ১৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় অভিযোগ উপস্থাপনের সময় নির্ধারণ করেন। কিন্তু ওই দিন সময় না পাওয়ায় উপস্থাপন হয়নি।
পরে ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। গোলাম আযমের অনুপস্থিতিতে অভিযোগ উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত, জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ, একেএম সাইফুল ইসলাম ও নুরজাহান মুক্তা।
এদিকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে গোলাম আযমের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আদালতে ৬টি আবেদনের শুনানি করেন।
এর মধ্যে ৩টি আবেদন আদালত গ্রহণ করেন এবং প্রসিকিউশনকে তার মামলার নথির অষ্পষ্ট ২৫ পৃষ্ঠা ডিফেন্স পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৬২টি অভিযোগের মধ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা ও তাদের সঙ্গে চক্রান্ত করার জন্য ছয়টি, তাদের সঙ্গে পরিকল্পনার তিনটি, উস্কানি দেওয়ার ২৮টি, তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ২৪টি এবং ব্যক্তিগতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের একটি অভিযোগ রয়েছে।
গোলাম আযম ১১ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠান।
বাংলাদেশ সময় : ১২১৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১২
Keywords/Tags: Ghulam Azam, golam azam, hearing, tribunal










Leave your response!