TwitterFacebook

কোনো আইন সংশোধনের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য ও চরিত্র বদলে দেয়া যায় না -সালাউদ্দিন; ট্রাইব্যুনালের বিচারক বললেন, আমাদের হাত-পা বাঁধা

Published/Broadcast by :
Date : Tuesday, 28 February 2012
Author :
Content :

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা খারিজ, জামিনে মুক্তি প্রদান ও আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন অনুসরণ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার অনুষ্ঠানসহ ৫টি আবেদনের ওপর রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। পিটিশনারের পক্ষে এডভোকেট আহসানুল হক হেনা ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম গতকালও আড়াই ঘণ্টা শুনানি করেন। গত রোববার থেকে এই শুনানি শুরু হয়। গতকালের শুনানিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজেই বলেন, আই সিটি এ্যাক্ট ১৯৭৩ সালে করা হয়েছিল সম্পূর্ণই পাকিস্তানী সশস্ত্রবাহিনী ও সহযোগী বাহিনীর বিচারের জন্য। আর সহযোগীদের বিচারের জন্য তার আগেই কলাবরেটর্স এ্যাক্ট বা দালাল আইন করা হয়েছিল ১৯৭২ সালে। এই দু’টি আইনের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটির সাথে আরেকটির কোনো সম্পর্ক নেই। সংসদ আইন সংশোধন করতে পারে কিন্তু সংশোধনের সাথে মূল আইনের চরিত্র পাল্টে দিতে পারে না। সেক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, বিচারকসহ সব পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য এসোসিয়েশন আছে। কিন্তু রাজনীতিবিদদের দুর্ভাগ্য।

তার আইনজীবী এডভোকেট হেনা বলেন, কিছু মিডিয়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার। এজন্য তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক গল্প বানানো হয়েছে। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লোকও ছিলেন না, রাজাকার বা কোনো সহযোগী বাহিনীরও সদস্য ছিলেন না। ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিজেই বলেছেন, আমাদের হাত-পা বাধা। পূর্ব দিনের শনানির জের ধরে গতকাল বেলা ১২টায় পুনরায় শুরু হয় খারিজ আবেদনের ওপর শুনানি।

শুনানিতে এডভোকেট আহসানুল হক হেনা বলেন, আমি দূর থেকে দর্শন করেছি-দংশন করি নাই। এমন অভিযোগ আনা হয়েছে যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তাকে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রার্থী করা হয়েছিল। তিনি প্রো পাকিস্তানী, প্রো আমেরিকান, প্রো চায়না কোন কিছুই না। তবে যেসব মিডিয়া তার বিরুদ্ধে সোচ্চার তারা একটি দেশের প্রো হয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, তার  বিরুদ্ধে সহযোগীর অভিযোগ আনা হয়েছে যা করা হয়েছিল তার পিতার বিরুদ্ধে। তার নিজ বাড়িতে এবং আশপাশে যাই হিন্দুপাড়া আছে। তা বাদ দিয়ে তিনি রাউজান, বাঙ্গুনিয়ার গিয়ে হিন্দুদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছেন বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা শুধু কাল্পনিকই নয় পাগলের প্রলাপ। তিনি বলেন, যারা ২০১০ সালে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তারা স্বাধীনতার পরে ক্ষমতায় ছিল। তখন মামলা হয়নি।

জামিন আবেদনের শুনানিতে তিনি বলেন, তদন্ত কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন বলে তাকে আজো জামিন দেয়া হয়নি। এখন যেহেতু তদন্ত শেষ। যেহেতু এখন আর ঐ গ্রাউন্ড নেই। সুতরাং একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য।

ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। কাজেই আন্তর্জাতিক সদনসমূহ মানতে বাধ্য সরকার। কিন্তু যে আইনে বিচার হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক সব আইন ও রাজনীতি বিরোধী।

আদালতের অনুমতি নিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমার বাবা চেয়েছিলেন যে আমি ল’য়ার হই। কিন্তু আল্লাহপাক আমাকে বানিয়েছেন ল’মেকার। আমি এরশাদের মন্ত্রিসভায় ছিলাম। ১৯৮৮ সালে যখন তিনি একতরফা নির্বাচন করতে চাইলেন তখন আমি লা কুম দ্বীনুকুম ওয়ালীয়াদ্বীন বলে পদত্যাগ করেছি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যেসব প্রশ্ন করতো তার ৯৫ ভাগ আপনারা নিজেরাই করে ফেলেছেন। ফলে প্রসিকিউশনের কাজ অনেক কমে গেছে।

বিচারপতি ফজলে কবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুন সিনেমা হলের মামলা করতে গিয়ে আপনারা ৫ম সংশোধনী বাতিল করেছেন। এখন কলাবরেটর্স এ্যাক্ট পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সহযোগীর অভিযোগ থাকলে সেই আইন অনুমান করুন। বিচারপতি ফজলে কবির এ পর্যায়ে ঐ মামলার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আমাদের হাত-পা বাঁধা। আমরা ২০০৯ সালের সংশোধিত আই সিটি এ্যাক্ট অনুসরণ করতেই এখানে বসছি।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। আমার ঢাকায় ও চট্টগ্রামে ব্যবসা আছে। তার দু’টোরই ম্যানেজার দু’জন হিন্দু। চট্টগ্রামে ১৯৫৯ সাল থেকে বাড়ি দেখাশুনা করেন মানিক বাবু। তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন আমি হিন্দু বিদ্বেষী বা হিন্দুদের ওপর অত্যাচারী কি না।

তার বক্তব্যের পর জিয়াদ আল মালুম যুক্তিখন্ডন করে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। তবে ৫ মিনিট পরই শুনানি মুলতবী করা হয় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে। আজ মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।


Published at (city) :
Country concerned :
Regarding Justice process :
Keywords : , ,
Language :
Entry Type : News, Report, Staff Report, Uncategorized
Source : http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=78627
Uploaded By : অনার্য
This item has been recorded here as part of ICSF's Media Archive Project which is a crowd sourced initiative run by volunteers, a not for profit undertaking to facilitate education and research. The objective of this project is to archive media items generated by different media outlets from around the world - specifically on 1971, and the justice process at the International Crimes Tribunal of Bangladesh. This archive also records items that contain information on commission, investigation and prosecution of international crimes around the world generally. Individuals or parties interested to use content recorded in this archive for purposes that may involve commercial gain or profit are strongly advised to directly contact the platform or institution where the content is originally sourced.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Facebook Comments

comments

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us