TwitterFacebook

৩ বছরেও মিললো না যুদ্ধাহতদের ভিআইপি মর্যাদা

৩ বছর পেরিয়ে গেলেও খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিআইপি) ঘোষণার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার। অথচ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোটের এটি অন্যতম প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহারেও এ প্রতিশ্রুতি ছিল। সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এবিএম তাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর এর নানাদিক বিবেচনা করে দেখছে। এরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে ৫ হাজার ৬৬৬ জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্বা রয়েছেন। আর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন। এদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পান-৭, বীর উত্তম-৬৮, বীরবিক্রম-১৭৫ এবং বীর প্রতীক খেতাব পান ৪১৬ জন। তবে এদের মধ্যে এখনও কতজন বেঁচে আছেন তার কোনো পরিসংখ্যান নেই মন্ত্রণালয়ে।

এদিকে, প্রস্তাবনাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এর প্রভাব বিবেচনা করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপির মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণাও দেন।

সরকারের ৩ বছরে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় এতে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা। তারা হতাশা প্রকাশ করে বলছেন, মনে হয় না সরকার তার মেয়াদ শেষ করার আগে মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার স্বপ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

এছাড়া সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে রেল, বাস ও লঞ্চে বিনা খরচে চলাচল করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহারে।

প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসের এক অনুষ্ঠানে ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাতে রয়েছে।

তবে সরকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়িয়েছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে ১৯ হাজার টাকা আর সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।

ব্যাপারটি নিয়ে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেন বাংলানিউজের কাছে। অনেকেই মারা গেছেন। অনেকের বয়স হয়ে গেছে। আর হয়তো বেশিদিন বাঁচবেন না। তাদের শেষ ইচ্ছে, যে দেশের জন্য জীবনকে তুচ্ছ করে যুদ্ধ করেছেন, সে দেশের কাছ থেকে মৃত্যুর আগে সর্বোচ্চ এ স্বীকৃতি পাবেন।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগকে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। সেই দলটিই এখন রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারলো না এখনো। আমরা বেঁচে থাকতে এ সম্মান আর পাবো বলে তো মনে হয় না।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে কথা হয় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলী আজগরের সঙ্গে।

তিনি বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। কিছু পাবো বলে তো আর যুদ্ধ করিনি। দেশকে স্বাধীন করতেই যুদ্ধ করেছিলাম। আজ স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায়। আশা করি তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা মেয়াদের শেষ দিকে হলেও পূরণ করবে। বেঁচে থেকেই পাবো রাষ্ট্রীয় এ সম্মান। এর বেশি চাওয়া নেই আমাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us