Home » Bangladesh, Bangladesh 1971 Trials, Bengali, Crimes Against Humanity, Dhaka, Indictment hearing, International Crimes Tribunal (ICT), Muhammad Kamaruzzaman, News, War Crimes Trial, War Criminal, প্রথম আলো

কামারুজ্জামানের পরিকল্পনায় সোহাগপুর গ্রামে গণহত্যা

20 March 2012 Original Source: Link

একাত্তরের ২৫ জুলাই শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে আলবদরের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরুষদের হত্যা ও নারীদের ধর্ষণ করে। গ্রামটিতে গণহত্যা করা হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. কামারুজ্জামানের পরিকল্পনা ও পরামর্শে। সেদিন একসঙ্গে ১২০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। ৪০ বছর ধরে গ্রামটি ‘বিধবাপল্লি’ নামে পরিচিত।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপনকালে আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ এ তথ্য জানায়। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। ২৫ মার্চ আসামিপক্ষের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের (এক সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন) ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুর আগেই কামারুজ্জামানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে নয় ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উপস্থাপন করেছে। সেগুলো হলো: হত্যা, গণহত্যা, দেশান্তরে বাধ্য করা, নির্যাতন, ধর্ষণ, ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালানো, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংঘটনের ষড়যন্ত্র, উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া এবং উচ্চপর্যায়ের নেতা হওয়ায় সব ধরনের অপরাধের দায়।
দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযোগ উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সাইফুল ইসলাম বলেন, সোহাগপুর গ্রামে গণহত্যার শিকার অনেকের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, শেরপুরের বাসিন্দা কামারুজ্জামান একাত্তরে ময়মনসিংহ জেলায় ইসলামী ছাত্রসংঘের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও আলবদরের প্রধান সংগঠক ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ময়মনসিংহ অঞ্চলে দ্রুত আলবদর বাহিনী গড়ে ওঠে এবং তারা নানা স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে। জুন মাসের প্রথম দিকে শেরপুরের মৃধানারায়ণপুর গ্রামের এমদাদুল হক ভারতে চলে গেলে কামারুজ্জামানের সহযোগিতায় আলবদর তাঁর বাড়িতে ক্যাম্প স্থাপন করে। আলবদর ওই গ্রামের অনেকের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ শেষে এমদাদুল হক বাড়ি ফিরে এসে ভিটি খুঁড়তে গেলে চার ব্যক্তির হাড়গোড় বেরিয়ে আসে।
অভিযোগ উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আলবদর ও ছাত্রসংঘের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম-এর একটি খবর উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী ‘কিলিং স্কোয়াড’ হিসেবে আলবদর বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল। একাত্তরের ১৬ মে ছাত্রসংঘের ৪৭ জনকে সাত থেকে ১২ দিনের সম্মিলিত সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁদের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র চালানো, মাইন নিষ্ক্রিয় করা, বিমানবিধ্বংসী কামান চালানো শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তাঁদের আলবদর বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এই বাহিনী সূর্যদি, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, জগত্পুর প্রভৃতি এলাকায় ব্যাপক গণহত্যা চালায়।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, সাংগঠনিক কাঠামোতে কামারুজ্জামান উচ্চপর্যায়ের নেতা ছিলেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং অধীন কর্মীরা সেই নির্দেশ পালন করেছে। এ জন্য অধীন কর্মীদের অপরাধের দায় কামারুজ্জামানের ওপর বর্তায়।
অভিযোগ উপস্থাপন শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। ট্রাইব্যুনাল পরে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৫ মার্চ দিন ধার্য করেন।

Keywords/Tags: , , , , ,

Added by: Arundhati Zilee

Leave your response!

Add your comment below, or trackback from your own site. You can also subscribe to these comments via RSS.

Be nice. Keep it clean. Stay on topic. No spam.

You can use these tags:
<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

This is a Gravatar-enabled weblog. To get your own globally-recognized-avatar, please register at Gravatar.