TwitterFacebook

মাওলানা সাঈদী ওআইসি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি এবং লন্ডন আমেরিকা থেকে আল্লামা খেতাব পেয়েছেন

Published/Broadcast by :
Date : Thursday, 19 April 2012
Author : শহীদুল ইসলাম
Content :

৭ম দিনের মত ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ববরেণ্য মোফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২৮তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন গতকাল বুধবার ৭ম দিনের মতো জবানবন্দী দিয়েছেন। গতকালের জবানবন্দী প্রদানকালে তিনি একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত ‘একুশের চোখ’ নামের একটি অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করেন। এই প্রতিবেদনে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী মাহবুবুল আলম হাওলাদার ও মানিক পসারীর সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। সেই সাথে এই মামলায় অন্য কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষাৎকার দেখানো হয়। অথচ এই মামলার বাদী দু’জনই সাক্ষ্য প্রদানের পর জেরার সময় বলেছিলেন যে একুশে টিভির সাথে তারা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কি না তা মনে নেই। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল ইসলাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, এত বড় সাক্ষাৎকার দেওয়ার পরও যে সাক্ষী প্রকাশ্য আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেলেন তার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বিধায় তার সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে একুশে টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানটিই বিশ্বাসযোগ্য নয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলে রায় দিয়েছেন। সুতরাং তাদের কোন প্রতিবেদনও বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রসিকিউশন তাদের ফর্মাল চার্জে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীকে সিম্পল আলেম পাস এবং মাওলানা বা আল্লামা শব্দ নামের সাথে যুক্ত করার মত কোন ডিগ্রি তার নেই বলে অভিহিত করলেও গতকাল তদন্ত কর্মকর্তা একুশে টিভির যে প্রতিবেদন দেখিয়েছেন তাতে উল্লেখ রয়েছে যে, ১৯৫৭ সালে ছারছিনা মাদরাসা থেকে দাখিল এবং ১৯৬০ সালে বারইপাড়া সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে আলিম পাস করেন। এরপর তিনি খুলনায় ও পাকিস্তানে লেখাপড়া করেছেন। ওআইসি থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং লন্ডন, উত্তর আমেরিকা থেকে আল্লামা খেতাব পেয়েছেন।

বিচারপতি নিজামুল হক, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও এ কে এম জহির আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এজলাসে বসলে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ৭ম দিনের মত জবানবন্দী শুরু করেন। ১ ঘণ্টা মধ্যাহ্ন বিরতিসহ বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত চলে তার জবানবন্দী রেকর্ড করা। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পুরো সময়টাই ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় বসে কুরআন অধ্যয়ন করেন। প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী ও সাইদুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী গ্রহণ করেন। অন্যদিকে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম, এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার তানভীর আল আমিন, ব্যারিস্টার মুনশী আহসান কবির প্রমুখ। আজ বৃহস্পতিবারও তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দী দেবেন।

৭ম দিনের মত গতকাল বুধবার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের ২৮তম ও সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

গতকাল তিনি ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে রাজাকার অর্ডিন্যান্স-এর সংশোধনী গেজেট নতুন করে দাখিল করতে চাইলে বিতর্ক বাঁধে শুরুতেই। এডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, অনুলিপি না ফটোকপি সত্যায়িত বলছেন আপনি। সেটা কে সত্যায়িত করেছে। কারো স্বাক্ষর নেই। ট্রাইব্যুনালের বিচারকরাও এ নিয়ে প্রশ্ন করলে সদুত্তোর দিতে পারেননি প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। তিনি পূর্ব দিনের গেজেটের সাথে যুক্ত করতে চাইলে তা বিধি সম্মত নয় বলে উল্লেখ করেন মিজানুল ইসলাম। পরে তা নতুন করে বলতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দেন বিচারকরা।

তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি শুরু করে বলেন, ১৯৭১ সালের রাজাকার গেজেট আমি দাখিল করেছি। আজ গেজেট রিগার্ডিং রাজাকার অর্ডিন্যান্স ‘১৯৭১ মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্স, রাওয়াল পিন্ডি, দি ৭ সেপ্টেম্বর’ ১৯৭১ গবর্নমেন্ট অফ পাকিস্তান বিজ্ঞপ্তি নং- ৪৮৫৭, তাং- ৮/৫/পিএস-১এ/৩৬৫৯/ডি-২এ দাখিল করিলাম। উক্ত গেজেটের সাথে পে এন্ড এ্যালাউন্সেস ফর রাজাকারস হেড লাইনে একটি পত্রের অনুলিপি যাতে আমার সত্যায়িত স্বাক্ষর আছে দাখিল করিলাম। প্রদর্শনী-২৫২ (২)।

সাক্ষীদের প্রদত্ত জবানবন্দিতে দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে প্রচারিত তথ্য, ইন্টারনেটের তথ্য, মামলা সংক্রান্তে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস ও সংস্থা হইতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ওপর আমি নিবিড়ভাবে তদন্ত করি। তদন্তকালে প্রত্যেকটি ঘটনাস্থলের স্থির ও ভিডিও চিত্র ধারণ করি। গোপন ও প্রকাশ্য তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, আসামী দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেলু ওরফে দেইল্লা পিতা মৃত ইউসুফ আলী সিকদার, সাং- সাউথখালী, থানা- ইন্দুরকানি, জেলা- পিরোজপুর ১৯৪০ সালের (দাখিল পরীক্ষার সার্টিফিকেট অনুসারে) সাউথখালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৭ সালে ছারছিনা দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া মাদরাসা হইতে দাখিল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ঐ সময় দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আলিম শ্রেণীতে চার বৎসর লেখাপড়া করিতে হইতো। ফলে দাখিল পাসের মান ছিল ৮ম শ্রেণীর সমান। দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি উক্ত মাদরাসাতে আলিম শ্রেণীতে ভর্তি হইয়া অধ্যয়ন করিতে থাকেন। কিছু দিনের মধ্যে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ আসে যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জামায়াতে ইসলামের ছাত্র রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। উক্ত অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের পর সত্য প্রমাণিত হইলে ছারছিনা মাদরাসা হইতে তাহাকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে বারইপাড়া সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদরাসা হইতে ১৯৬০ সালে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ইহার পর তিনি আর কোথায়ও হইতে কোন ডিগ্রি লাভ করেন নাই বলিয়া জানা যায়। নামের সাথে আল্লামা এবং মাওলানা লেখার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন প্রমাণ তদন্তকালে পাওয়া যায় নাই। তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব হইতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেলু ওরফে দেইল্লা পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানাধীন পারেরহাট বন্দরের পাশে তাহার শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে অবস্থান করিয়া পারেরহাট বাজারের রাস্তার ওপর বসিয়া লবণ, মরিচ, তৈল ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবসা করিতেন।

আসামী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেলু ওরফে দেইল্লার নেতৃত্বে অন্যান্য শান্তিকমিটি ও সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৫ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজেরা এককভাবে আবার কখনো পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহায়তায় পিরোজপুর এলাকায় নিরীহ নিরস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, হিন্দু সম্প্রদায়সহ সাধারণ জনগণের ওপর গণহত্যা, হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন চালাইতে থাকে। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী তাহাদের সহযোগি শান্তিকমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনী পিরোজপুরে অন্তত ৩০ হাজার দেশপ্রেমিককে হত্যা এবং কয়েক শত মহিলাকে ধর্ষণ করে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের বিভিন্ন নদীতে শত শত মৃতদেহ ভাসিতে দেখা গিয়াছে যা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাহাদের সহযোগী বাহিনী, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল বদর ও আল শামস বাহিনী হত্যা করিয়া নদীতে ফেলিয়া দিয়াছে। তাহাদের অত্যাচার নির্যাতনে পিরোজপুর জেলার হাজার হাজার মানুষ জীবন বাঁচানোর জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করে।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, মুনশী এ কে এম ইউসুফ এবং পিরোজপুর শান্তি কমিটির প্রেসিডেন্ট খান বাহাদুর সৈয়দ মোহাম্মদ আফজালদের (বর্তমানে মৃত) পরিকল্পনা ও নির্দেশ মোতাবেক জামায়াতে ইসলামীর নেতা সেকেন্দার সিকদার (বর্তমানে মৃত), দানেশ মোল্লা (বর্তমানে মৃত), দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেলু ওরফে দেইল্লা এবং আরো অনেককে লইয়া পারেরহাটে শান্তিকমিটি গঠন করে। উক্ত শান্তিকমিটির সদস্যরা পরবর্তীতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেলু ওরফে দেইল্লা ও বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও স্বাধীনতা বিরোধী অন্যান্য সংগঠনের সমন্বয়ে পারেরহাটে ১৯৭১ সালের মে মাসের শুরুতেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী বাহিনী (অক্সিলারী ফোর্স) রাজাকার বাহিনী গঠন করে। রাজাকাররা পারেরহাট বন্দরে ফকির দাসের বিল্ডিং দখল করিয়া সেখানে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করে।

এ সময় ঐ বাড়িটির ছবি স্ক্রীনে দেখানো হয়। তিনি বলেন, আমি অফিসিয়াল ক্যামেরা দিয়ে এই ছবি তুলি এবং তা সংরক্ষণ করি। এতে আমার স্বাক্ষর আছে।

৩ মে ১৯৭১ বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় পিরোজপুরের স্বাধীনতাকামী মানুষকে দাবাইয়া দেয়ার লক্ষ্যে কর্নেল আতিক, মেজর নাদের পারভেজ, ক্যাপ্টেন এজাজ এবং অন্যান্য সেনা সদস্যসহ পিরোজপুর জেলার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাহারা পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যাম্প স্থাপন করে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পিরোজপুরে আসার পরেই শান্তি কমিটির লোকদের সাথে মিটিং করে। সৈয়দ আফজাল হোসেন পিরোজপুরের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি পিরোজপুরের শান্তি কমিটিসহ রাজাকার, আল বদর ও আল শামস বাহিনী গঠন করিয়া পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পক্ষ অবলম্বন করিয়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, তাহাদের পরিবারবর্গ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনসহ সাধারণ মানুষের ওপর গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধ করিতে শুরু করে। পাকিস্তানী হানাদারদের সহিত শান্তি কমিটির মিটিং-এ শান্তি কমিটির লোকজন পিরোজপুর সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ অস্ত্রাগার হইতে অস্ত্র সংগ্রহ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ও অন্যান্য সকল তথ্য তাহাদের সরবরাহ করে। সহযোগী বাহিনী (Auxiliary force) হিসেবে তাহারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে লইয়া পিরোজপুর শহরসহ বিভিন্ন থানা এলাকাতে গিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ৩(২) এবং ৪(১) ধারায় অপরাধ করিতে থাকে। মামলার তদন্তে ও প্রমাণাদিতে আসামী দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেলু ওরফে দেইল্লা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার নামে দখলদার সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য শান্তি কমিটিতে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পরিকল্পনা মোতাবেক পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনী (অক্সিলারী ফোর্স) রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করেন।

আসামী দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেলু ওরফে দেইল্লা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৬ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দখলদার পাকিস্তানী সশস্ত্র সেনাবাহিনী, শান্তি কমিটি ও সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীকে সঙ্গে লইয়া পিরোজপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্ট ১৯৭৩ -এর ৩(২) এবং ৪ (১) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করে বলিয়া প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। অপরাধগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

(১) ৪ মে ১৯৭১ তারিখ পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর সদর থানাধীন মধ্য মাছিমপুর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে ২০ জন নিরীহ, নিরস্ত্র লোককে গুলী করিয়া হত্যা করার অপরাধ। অফিসিয়াল ক্যামেরায় আমি ক্যাম্প ও মাছিমপুর বাসস্ট্যান্ডের ঘটনাস্থলের ছবি তুলি। মামলা তদন্তকালে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের যেখানে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ছিল এবং পিরোজপুর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে ঘটনাস্থলের ছবি তুলি। তা আজ প্রদর্শন করা হলো। এ সময় স্ক্রীনে ছবি দেখানো হয়।

(২) ৪ মে ১৯৭১ তারিখ দিনের বেলায় পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর সদর থানাধীন মাছিমপুরে হিন্দু পাড়ায় লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং ১৩ জন নিরীহ-নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে গুলী করিয়া গণহত্যা করার অপরাধ। আমি ঘটনাস্থলের ছবি তুলি যা আজ প্রদর্শন করা হলো।

(৩) একই দিন অর্থাৎ ৪ মে ১৯৭১ তারিখে পিরোজপুর জেলার সদর থানাধীন পিরোজপুর শহরের কয়েকটি হিন্দু পাড়ায় লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করিয়া সম্পূর্ণ ধ্বংস করার অপরাধ।

(৪) ৪ মে ১৯৭১ তারিখে পিরোজপুর জেলার সদর থানাধীন ধোপা বাড়ির সামনে এলজিইডির পেছনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কজনকে গণহত্যা করা হয়।

(৫) ৫ মে ১৯৭১ তারিখে পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর সদর থানাধীন পিরোজপুর শহর হইতে সাইফ মিজানুর রহমান ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রাজ্জাক এসডিও ইনচার্জসহ ৩ জন সরকারি কর্মকর্তাকে অবৈধ আটক, অপহরণ ও হত্যা করিয়া বলেশ্বর নদীতে লাশ ফেলিয়া দেয়া হয়। আমি ঘটনাস্থলের ছবি তুলি যা প্রদর্শন করা হলো।

(৬) ৭ মে ১৯৭১ তারিখ পিরাজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানাধীন পারেরহাট বন্দর বাজারে ৩০/৩৫টি দোকান ও বাড়ি লুণ্ঠন এবং একই দোকান হইতে ২২ সের সোনা ও রূপা লুণ্ঠন করার অপরাধ। পারেরহাট বাজারের বিভিন্ন দোকানের ছবি আমি তুলেছি। ভিডিও করেছি। প্রদর্শন করা হলো।

(৭) ৮ মে ১৯৭১ তারিখ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের সময় পিরোজপুর জেলায় সদর থানাধীন পাতুরিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম সেলিমের বাড়ি লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং তাহার পিতা নূর ইসলামকে (বর্তমানে মৃত) অন্যায়ভাবে আটক ও নির্যাতন করার অপরাধ। ছবি প্রদর্শন।

(৮) ৮ মে ১৯৭১ তারিখ বিকেল অনুমান ৩টার সময় পিরোজপুর জেলার সদর থানাধীন চিথলিয়া গ্রামের মানিক পসারীর বাড়িতে আক্রমণ করিয়া লুণ্ঠন, অগ্নিংযোগে সম্পূর্ণ ধ্বংস, ইব্রাহিম ওরফে কুট্টি এবং মফিজ উদ্দিনকে উক্ত বাড়ি হইতে অবৈধ আটক, অপহরণ, ইব্রাহিম ওরফে কুট্টিকে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানাধীন পারেরহাট বন্দরের থানাঘাটে গুলী করে হত্যা এবং মফিজকে রাজাকার ক্যাম্পে অবৈধভাবে আটক রাখিয়া অমানুষিক নির্যাতন করার অপরাধ। এই ঘটনাস্থলের ৬টি ছবি তুলি। আজ তা প্রদর্শন করা হলো। বিচারক জিজ্ঞেস করেন ছবি আপনি তুলেছেন। জবাবে বলেন, সব আমি তুলি নাই। সহকারী তদন্ত কর্মকর্তাও তুলেছেন। এই ছবিতে তদন্ত কর্মকর্তার ছবিও রয়েছে বিষয়ে এই প্রশ্নের উদ্রেক হয়।

মামলার তদন্তকালে আমি একুশে টেলিভিশনের একুশের চোখ নামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন সংগ্রহ করিয়া তাদের টেলিভিশনে বিভিন্ন সময় প্রচার করে। ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের ওপর এই তথ্য চিত্রটি তৈরি করা হয়। আমি সেটা সংগ্রহ করে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি। এই সেই প্রতিবেদন। ছবিটি প্রদর্শন করা হয় যার ব্যাপ্তি ছিল প্রায় ১ ঘণ্টা।

একুশের চোখ অনুষ্ঠানের এই প্রতিবেদনে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী মাহবুবুল আলম হাওলাদার ও মানিক পসারী এবং মোস্তফাসহ কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্য প্রচার করা হয়।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর আবার শুরু হয় তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের জবানবন্দী।

তিনি বলেন, (৯) ২ জুন ১৯৭১ তারিখ সকাল অনুমান ৯টার সময় পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানাধীন নলবুনিয়া গ্রামের আব্দুল হালিম বাবুলের বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন করার পর আগুন দিয়া পোড়াইয়া সম্পূর্ণ ধ্বংস করিয়া দেওয়ার অপরাধ।

(১০) ২ জুন ১৯৭১ তারিখ সকাল অনুমান ১০টার সময় পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানাধীন ওমেদপুর গ্রামে হিন্দুপাড়ার ২৫টি বাড়ি লুণ্ঠন করার পর আগুনে পোড়াইয়া সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং বিশা বালীকে আটক করিয়া গুলী করিয়া হত্যা করার অপরাধ।

এই ঘটনাগুলোর মোট ১৪টি ছবি তুলি। ছবিগুলো প্রদর্শন করা হলো। আমি এই ঘটনাস্থলের ভিডিও চিত্রও ধারণ করি যাহা সিডিতে আছে। ভিডিও চিত্রটিও প্রদর্শন করা হয়।

(১১) ২ জুন ১৯৭১ তারিখ সকাল অনুমান বেলা ১২টার সময় পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানাধীন টেংরাখালি গ্রামের মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়িতে ঢুকিয়ে লুণ্ঠন এবং তাহার বড় ভাইকে নির্যাতন করার অপরাধ। আমি এই ঘটনাগুলোর স্থির ও ভিডিও চিত্র ধারণ করি। যাহা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করি এবং তা প্রদর্শন করা হলো।

(১২) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একদিন পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার পারেরহাট হিন্দুপাড়া হইতে ১৪ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষকে অবৈধভাবে আটক ও অপহরণ করিয়া পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নিকট তুলিয়া দিয়া গণহত্যা করার অপরাধ। এই ঘটনাস্থলের স্থির ও ভিডিও চিত্র আমি সরকারি ক্যামেরায় ধারণ করি এবং সিডিতে সংরক্ষণ করিয়া ট্রাইব্যুনালে দাখিল করিয়াছি যা এখন প্রদর্শন করা হইল।

যে ১৪ জন হিন্দুকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছি তার একজন ছিলেন হরলাল মালাকার তার স্ত্রী উষারানী মালাকার এই মামলার সাক্ষী। তিনি অসুস্থ বিধায় তার অবস্থা জানানোর জন্য আমি তার ছবি তুলে এনেছি। এই সেই উষারানী মালাকারের ছবি।

এ পর্যায়ে এডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, ফর্মাল চার্জের কোথাও বলা হয়নি যে উষারানী মালাকার অসুস্থ। বিচারপতি নিজামুল হক বলেন তিনি অসুস্থ দেখেছিলেন। এতটুকু বলতে পারেন। তার বেশি নয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আমি তদন্ত করার সময় তাকে অসুস্থ দেখেছি। ঘটনাস্থলের স্থির ও ভিডিও চিত্র আমি ক্যামেরায় ধারণ করি যা আজ প্রদর্শন করা হলো। প্রদর্শিত ছবিতে মামলার অন্যতম সাক্ষী মিজানুর রহমান তালুকদারকেও দেখা যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, (১৩) ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার ৩/৪ মাস পর একরাতে অনুমান ৩টার সময় পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার নলবুনিয়া গ্রামের আজহার আলীকে (মৃত) নির্যাতন করিয়া গুরুতর জখম করা এবং তাহার ছেলে সাহেব আলীকে অপহরণ করিয়া পিরোজপুরে লইয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহায়তায় হত্যা করিয়া লাশ নদীতে ফেলিয়া দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের স্থির ও ভিডিও চিত্র সরকারি ক্যামেরায় আমি ধারণ করি এবং সিডিতে সংরক্ষণ করিয়া বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করি। উক্ত ধারণকৃত স্থির ও ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হইল।

(১৪) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার হোগলাবুনিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় শেফালী ঘরামীকে ধর্ষণ করার অপরাধ। উক্ত ঘটনাস্থলের স্থির ও ভিডিও চিত্র সরকারি ক্যামেরায় আমি ধারণ করি এবং সিডিতে সংরক্ষণ করিয়া ট্রাইব্যুনালে দাখিল করি যা এখন প্রদর্শন করা হইল।

(১৫) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার হোগলাবুনিয়া গ্রামে ১০ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন ও অপহরণ করিয়া পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়া গণহত্যা করা হয়। উক্ত ঘটনাস্থলের স্থির ও ভিডিও চিত্র আমি সরকারি ক্যামেরায় ধারণ করিয়া সিডিতে সংরক্ষণ করি এবং ট্রাইব্যুনালে দাখিল করি। এই স্থির ও ভিডিও চিত্র এখন প্রদর্শন করা হইল।

(১৬) ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুর জেলায় ইন্দুরকানি থানার পারেরহাট বন্দরে গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা তাহার ৩ বোন (১) মহামায়া, (২) অনন্য রানী ও (৩) কমলা রানীকে অবৈধভাবে আটক এবং অপহরণ করিয়া পিরোজপুরে পাকিস্তানী দখলদার সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে তুলিয়া দিয়া ধর্ষণ করানোর অপরাধ। ঘটনাস্থল গৌরাঙ্গ সাহার বাড়ি স্বাধীনতার পরে নদীতে বিলীন হইয়া গিয়াছে যাহার ফলে তাহার বর্তমান বাড়ি পারেরহাট বন্দরের স্থির ও ভিডিও চিত্র ধারণ করা হইয়াছে।

(১৭) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুর জেলার পারেরহাট বন্দরে বিপদ সাহার মেয়ে ভানুসাহাকে আটক করিয়া ধর্ষণ করার অপরাধ। ঐ বাড়ির ছবি আমি ধারণ করেছি। তবে তা নষ্ট হয়ে গেছে।

(১৮) ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুর জেলার সদর থানাধীন বাগমারা গ্রামে শহীদ ভাগিরথির স্বামী প্রিয়নাথকে নির্যাতন করিয়া পিরোজপুরে ভাগিরথি চত্বরে হত্যার অপরাধ। এর স্থির ও ভিডিও চিত্র আমি ধারণ করেছি।

এই ছবি দেখাতে যেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন তদন্ত কর্মকর্তা এবং প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। বেশ কিছুক্ষণ পর আবার জবানবন্দী শুরু হয়।

(১৯) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৬ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ইন্দুরকানি থানাধীন পারেরহাট বন্দর বাজারসহ আশপাশের ১০০/১৫০ জন হিন্দুকে মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার অপরাধ। তাহাদের মধ্য হইতে ৩ জনের ছবি ক্যামেরায় ধারণ করি। তা সিডিতে সংরক্ষণ করিয়া আদালতে প্রদান করি। মধু সুধন ঘরামী, গৌরাঙ্গ সাহা ও অজিত কুমার শীল এই ৩ জনর পোট্রেট ছবি দেখানো হয়। এই ৩ জনই এই মামলার সাক্ষী।

(২০) ১৯৭১ সালের নবেম্বর মাসে ১ দিন পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানাধীন তালুকদার বাড়িতে ৮৫ জন নিরীহ, নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, নির্যাতন এবং মহিলাদের ধর্ষণ করানোর অপরাধ। আমি ঘটনাস্থলের স্থির ও ভিডিও চিত্র সরকারি ক্যামেরায় ধারণ করি। সিডিতে সংরক্ষণ করিয়া ট্রাইব্যুনালে দাখিল করি। এসব ছবি এখন প্রদর্শন করা হইল।

(২১) পিরোজপুরের মে মাসে এসডিপিও ফয়েজ আহমদসহ অন্যান্যদের অপহরণ ও হত্যা করিয়া বলেশ্বর নদীতে লাশ ফেলিয়া দেয়ার অপরাধ। পিরোজপুরের এসডিপিও অফিস, বলেশ্বর নদীর বধ্যভূমির স্থির ও ভিডিও চিত্র আমি সরকারি ক্যামেরায় ধারণ করি। সিডিতে সংরক্ষণ করিয়া ট্রাইব্যুনালে দাখিল করি যাহা প্রদর্শন করা হইল।

(২২) মে ১৯৭১ সালের ১৭/১৮ তারিখে আলহাজ আব্দুল মান্নান তালুকদার পিতামৃত আব্দুল মজিদ তালুকদার, থানা- ইন্দুরকানি, জেলা-পিরোজপুর আটক করিয়া নির্যাতন করার অপরাধ।

(২৩) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পারেরহাট বাজারের মদন সাহার দোকান ও বসতবাড়ি লুট, লুণ্ঠিত মালামাল নিজে মাথায় বহন করিয়া ৫ তহবিল অফিসে জমা করার অপরাধ। উল্লেখিত মদন সাহার দোকান ও ৫ তহিবল অফিসের স্থির ও ভিডিও চিত্র আমি অফিসের ক্যামেরায় ধারণ করিয়া ট্রাইব্যুনালে দাখিল করি।


Published at (city) :
Country concerned :
Regarding alleged perpetrator :
Regarding Justice process :
Keywords : , , , , ,
Language :
Entry Type : News, Report, Uncategorized
Source : http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=83118
Uploaded By : Rayhan Rashid
This item has been recorded here as part of ICSF's Media Archive Project which is a crowd sourced initiative run by volunteers, a not for profit undertaking to facilitate education and research. The objective of this project is to archive media items generated by different media outlets from around the world - specifically on 1971, and the justice process at the International Crimes Tribunal of Bangladesh. This archive also records items that contain information on commission, investigation and prosecution of international crimes around the world generally. Individuals or parties interested to use content recorded in this archive for purposes that may involve commercial gain or profit are strongly advised to directly contact the platform or institution where the content is originally sourced.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Facebook Comments

comments

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us