ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরী নন-মুসলিমের মুখে কালেমা আপত্তির বিষয়
09 Jul 2012
‘‘বিধর্মীদের মুখে কালেমা মানায় না, এটি আপত্তির বিষয়’’ বলে মন্তব্য করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাকা চৌধুরী ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘নন-মুসলিমের মুখ দিয়ে এই কালেমা বের হওয়া ঠিক না।’’
ওই সময় তিনি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘‘এটি সাক্ষীর জবানবন্দিতে তালিকাভুক্ত করা রুচির ব্যপার। আপনার যদি রুচি হয় তবে লিখুন।’’ পরে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, ‘‘এই রেকর্ড শত বছর পর্যন্ত থাকবে মাই লড। সাক্ষী শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তিনি যা বলবেন, তাই লেখা হবে।’’
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী পরে আবার ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘আপনি তো কালেমা লিখতে পারেন। আপনি লিখলে লেখেন, আমার কোনো আপত্তি নেই।’’
এ সময় সাক্ষী নির্মল চন্দ্র শর্মা বলেন, ‘‘আমি সে সময় কালেমা না শিখলে জানে বাঁচতাম না। টুপি মাথায় না দিলে রাস্তা পার হতে পারতাম না। জান বাঁচানো ফরজ। আমি হাজার হাজার মানুষের সামনে বলতে পারি লা– ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’’
এর আগে ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ৬ষ্ঠ সাক্ষী নির্মল বলেন, ‘‘১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল। সেদিন রাস্তায় গাড়ির প্রচÐ চাপ থাকায় আমি ও আমার ভাই বিমল রাঙ্গামাটির রাস্তা পার হতে পারিনি। পরে ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ন’টার দিকে আমাদের বাড়ির উত্তর পাশে আলিম চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেই। আমরা তাকে দানু চাচা বলে ডাকতাম।’’
‘‘ওইরাত তার বাড়িতে কাটিয়ে পরের দিন ফজরের নামাজের সময় আমাদের দুই ভাইয়ের মাথায় দু’টি টুপি পরিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখন নামাজের সময় তোমরা পালিয়ে যাও। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলবে, আমরা মুসলমান। এসময় তিনি আমাদের একটি কালেমা শিখিয়ে দেন। কারেমাটি হল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। দানু চাচা আমাদেরকে বাড়ি থেকে প্রায় আধা মাইল পথ এগিয়ে দেন।’’
এ বর্ণনা দেওয়ার সময় সাক্ষী নির্মল তার মুখে কালেমা উচ্চারণ করলে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা আপত্তি করে বলেন, ‘‘এটা ধর্মের ব্যাপার, সাম্প্রদায়িক ব্যাপার। কেন আদালতে ধর্মের ব্যাপার আসবে?’’ এসময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘‘এখানে কোনোভাবে সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন নেই। সাক্ষী এটা মুখে উচ্চারণ করেছেন। এটা যাবে।’’
এর সঙ্গে সঙ্গেই পেছনের কাঠগড়ায় বসা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীও আপত্তি তুলে দাঁড়িয়ে ওপরের কথাগুলো বলেন।
তাদের থামিয়ে ট্রাইব্যুনাল সাকা চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনার আপত্তিসহ সাক্ষীর কথাগুলো রেকর্ড করেন।
এ বিষয়ে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী হেনার কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘বিধর্মী কেন তার মুখে কালেমার শব্দ উচ্চারণ করবেন? ধর্ম কোর্টে না আসাই ভালো। এখানে আইনের কথা হবে। সাক্ষীর কথা হবে। ধর্মের কথা থাকবে কোর্টের বাইরে।’’
প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী অ্যাডভোকেট নির্মল চন্দ্র শর্মা তার সাক্ষ্যে কালেমা পাঠ করায় তিনি (সাকা) যে আচরণ করেছেন, তা সাম্প্রদায়িকতারই বহির্প্রকাশ।’’
সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারক নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী শহীদ পরিবারের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল চন্দ্র শর্মার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য শেষে তাকে জেরা শুরু করেছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। মঙ্গলবারও তাকে জেরা চলবে।
Keywords/Tags: Crime against humanity, International Crimes Tribunal, Jamaat-e-Islami, saka chowdhury, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, জামায়াতে ইসলামী, যুদ্ধাপরাধী বিচার, সাকা চৌধুরী









Leave your response!