TwitterFacebook

সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার সময় ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বাড়লো

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে আসামিপক্ষের জেরার সময়সীমা ১৩ আগস্ট সোমবার পর্যন্ত বাড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এছাড়া সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মুকুন্দ চক্রবর্তী মারা যাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া তার জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বুধবার এসব আদেশ দেন।

ইতিপূর্বে গত ১ আগস্ট এক আদেশে ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে জেরা বুধবার শেষ করতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বুধবার আসামিপক্ষ এ বিষয়ে আরো সময় চাইলে ট্রাইব্যুনাল ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেন। ওই দিন তাকে জেরা শেষ করতে হবে।

বুধবার তদন্ত কর্মকর্তাকে ৪৬তম দিনের মতো জেরা করেন সাইদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। জেরা শুরুর আগে সাঈদীর ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে ১৭ ও ১৯ মার্চ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া দু’টি পুলিশ প্রতিবেদনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানান আসামিপক্ষ। ট্রাইব্যুনাল এ আবেদন খারিজ করে দেন।

গত ৮ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাঈদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন সাক্ষ্য দেন ট্রাইব্যুনালে। এর পর ২৫ এপ্রিল থেকে তাকে জেরা করছেন আসামিপক্ষ।

এদিকে সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মুকুন্দ চক্রবর্তী মারা গেছেন। বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে এনে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তার দেওয়া জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৭ জন সাক্ষী সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে রাষ্ট্রপক্ষের বাকি ৪৬ জন সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানিয়েছিলেন প্রসিকিউটররা। তাদের মধ্যে ১৫ জনের জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রয়াত মুকুন্দ চক্রবর্তী বাকি ৩১ সাক্ষীর একজন।

ফলে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৬ জনের জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হলো।

অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে ইব্রাহীম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাঈদীর অনুপস্থিতিতেই তার বিচার কার্যক্রম চলছে। অসুস্থতার কারণে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর দায়ের করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে তার রাজধানীর শহীদবাগের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে ২ আগস্ট মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

গত বছরের ১৪ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল। ৩ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৯ নভেম্বর থেকে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন মামলা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা।

সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগ এবং ৭৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয় জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং একশ’ থেকে দেড়শ’ হিন্দুকে ধর্মান্তরে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১১ ঘণ্টা, আগস্ট ০৮, ২০১২
জেএ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.

Partners

Website Sections

External Resources

Tools

About Us

Follow Us