TwitterFacebook

সাকার বাঁকা স্বভাব ছিল ট্রাইব্যুনালেও

Published/Broadcast by :
Date : Tuesday, 28 July 2015
Author : অশোকেশ রায় ও ইলিয়াস সরকার
Published at (city) :
Country concerned :
Regarding alleged perpetrator :
Regarding Justice process :
Keywords : ,
Language :
Entry Type : Feature
Source : http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/412539.html
Content :

ঢাকা: ‘দুই বছর জেলে রাখছস, বাইর হইয়া নেই’- এভাবেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হুমকি দিয়েছিলেন সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানি চলাকালে এজলাসকক্ষেই প্রকাশ্যে এ হুমকি দেওয়া ছাড়াও অকথ্য ভাষায় গালিও দেন সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তাকে।

তবে জেল থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের। বরং ওই হুমকির নয়মাসের মাথায় (২০১৩ সালের ১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির এই সাবেক সংসদ সদস্যের আপিল মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে বুধবার (২৯ জুলাই)।

২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রত্যুষে গ্রেফতার করা হয় সাকা চৌধুরীকে। ১৯ ডিসেম্বর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। পরে ৩০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে প্রথমবারের মতো সাকা চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

তারপর থেকে পৌনে তিন বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে এবং রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, প্রসিকিউটরদের হুমকি, আসামির কাঠগড়ায় বসে বিচারকাজ, সাক্ষী ও চলমান রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা, আইনজীবীকে বাদ দিয়ে নিজেই মামলা পরিচালনা করাসহ এজলাসে বহু নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

কখনো অট্টহাসিতে পুরো এজলাস কক্ষ কাঁপিয়েছেন, কখনো প্রসিকিউটরদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন, কখনো খোদ বিচারপতিদেরও হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ঘরে-বাইরে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য কুখ্যাত সাকা চৌধুরী । অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তাকে। আর বার বারই বিচারকাজে বাধা দান করেছেন তিনি। সেনাবাহিনী নিয়েও বাজে মন্তব্য করেছেন।

বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম দিকে ২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালের বিচারককে হুমকি দিয়ে সাকা চৌধুরী বলেছিলেন, ‘চোখ রাঙাবেন না’। সে সময় তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি রাজাকার। আমার বাপ রাজাকার। এখন কে কি করতে পারেন করেন’।

আবার ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না। অনেক আইন আমি করেছি। এ আইনও (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন’১৯৭৩) আমার করা। আপনি তো আমার করা এ আইন পড়েও দেখেননি’।

২০১৩ সালের ১৭ জুন নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সময় পুরো ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করেই বলে ওঠেন, ‘আমাকে ফাঁসি তো আপনারা দেবেনই, কিন্তু আমি পরোয়া করি না’। ওইদিন এমনকি সাক্ষ্য দেওয়া শুরুর আগে আইন অনুসারে শপথ নিতেও অস্বীকার করেন বারবার বিচারক ও ট্রাইব্যুনালকে হেয় করে আসা এই যুদ্ধাপরাধী। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমি একজন সংসদ সদস্য। আমি কেন এখানে শপথ নেবো?’। পরে শপথ ছাড়াই সাক্ষ্য দিতে শুরু করেন সাকা চৌধুরী।

সাক্ষ্যের এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের জন্ম। তাই এদেশের সংবিধান রক্ষা করাও আপনাদের কর্তব্য। আপনারা সংবিধান রক্ষা করেই বিচার করবেন’।

২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর সে সময়কার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে ‘চোর’ বলে চরম ঔদ্ধত্যও প্রকাশ করেন সাকা চৌধুরী। তার স্কাইপি কথোপকথন বিষয়ে তাকে ও অন্য দুই বিচারপতি এবং প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমকে নিয়ে অবমাননা ও মানহানিকর নানা আবেদন করেন সাকা চৌধুরী। এসব আবেদনের শুনানিতে তিনি বলে ওঠেন, ‘আদালতের আদেশ দেখে মনে হয়, যারা চুরি করেছেন, তাদের বিচার হবে না। বিচার হবে চোর যারা ধরেছেন তাদের, কেন চোর ধরা হয়েছে?’

বিভিন্ন সময়ে প্রসিকিউটরদের হেয় করে কথা বলেছেন বাঁকা স্বভাবের সাকা, বলেছেন ‘পার্সিকিউটর’। বলেছেন, গত আড়াই বছর ধরে আমার সঙ্গে যা করা হয়েছে তাতে কি ‘পার্সিকিউটর’ বলবো না তো কি হাজী সাহেব বলবো?

২০১৩ সালের ২ জুলাই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের একদিন ফাঁসিতে ঝুলতে হতে পারে বলে পরোক্ষ ভয় দেখান সে সময়কার সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরী। প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড় করিয়েছেন আর আমি কথা বলতে পারবো না? ভবিষ্যতে আপনাদেরও এখানে দাঁড়াতে হতে পারে’।

সেদিন নিজের পক্ষে শেষ দিনের সাফাই সাক্ষ্য দানকালে জেয়াদ আল মালুমকে এ হুমকি দিয়ে প্রকাশ্যে বাদানুবাদে জড়ান তিনি।

নয়দিনের সাফাই সাক্ষ্যের পুরোটাই ইংরেজিতে দেন সাকা চৌধুরী। এর সপক্ষে নিজেকে বাঙালি নয়, চাটগাঁইয়া বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তাকে বলেন, ‘আপনি বাংলায় সাক্ষ্য দিলে এতো সময় লাগতো না। তার চেয়েও বেশি কথা বলতে পারতেন’।

জবাবে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমি বাংলায় সাক্ষ্য দিতে পারবো না, ইংরেজিতেই দেবো। কারণ, আমি বাঙালি না চাটগাঁইয়া। বাংলায়তো আমি ভালো বলতে পারতাম না। টেকনিক্যাল প্রবলেম হতো’। এ সময় ভাষার প্রতি চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলে ওঠেন, ‘আমার মাতৃভাষা বাংলা নয়, চাটগাঁইয়া’।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার সাক্ষ্যে এ দাবিও করে বসেন, তিনি পছন্দসূত্রে বাংলাদেশি, জন্মগতভাবে নন। এ নিয়ে তাকে গর্ববোধ করতেও দেখা যায়।

সাক্ষ্যে নিজেকে মুসলিম উম্মাহ’র একজন সদস্য দাবি করে এ কারণে কমিউনিস্ট ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের গঠন করা ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হচ্ছে বলেও কটূক্তি করেন সাকা।

ট্রাইব্যুনালের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে-বসে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও বাক্যবাণ ছুড়ে এজলাসকক্ষের পরিবেশও বেশ কয়েকবার উত্তপ্ত করে তোলেন সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী। স্বভাবসুলভভাবে সব সময়ই বিচারকাজ চলাকালে গোঁয়ার্তুমিও করে গেছেন। অনেক সময় বিচার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করায় তাকে ছাড়াও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে একবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিৎকার করে কথা বলে শুনানির কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করায় সাকা চৌধুরীকে মধ্যাহ্ন বিরতির পর এজলাস কক্ষে আনতে নিষেধও করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

আর করবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে ফের এজলাসকক্ষে আসতে হয়েছে তাকে।

তারপরও তিনি চিৎকার-চেচামেচি করেই গেছেন। ট্রাইব্যুনাল সাকাকে অসংখ্য দিন বলেছেন, ‘আপনি সহযোগিতা করছেন না। আপনি অসংলগ্ন আচরণ করছেন’।

বিভিন্ন সময়ে সাকা চৌধুরী তার উদ্ধত আচরণ এবং অশালীন কথার জন্য সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। আবার এজলাস কক্ষে হাসির খোরাকও জুগিয়েছেন। কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও। বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জের মেয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তীক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন। তিনি আমার জন্য এই অ্যাক্ট (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন’১৯৭৩) সংশোধন করেছেন’।

রায় ঘোষণার দিন ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিচারক, ট্রাইব্যুনাল, সরকার ও সাক্ষীদের সম্পর্কে বিভিন্ন কটূক্তি করেন। তার এসব উদ্ধত বক্তব্য থেকে রক্ষা পায়নি নিজ দল বিএনপি এমনকি নিজ পরিবারের সদস্যরাও।

চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।

দু’দিন আগে সাকার আইনজীবী ও স্ত্রী-পুত্র মিলে ‘রায়ের খসড়া’ ফাঁস করে ইন্টারনেটে প্রকাশ করেন। রায়ের দিন খসড়ার বাইন্ডিং কপি গণমাধ্যমকে দেখান এবং সেসব নিয়েই ট্রাইব্যুনালে ঢোকেন। এ অভিযোগে তারাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। সাকাও ওই ‘রায়’ আগে থেকেই জেনে ফেলেছেন বলে দাবি করতে থাকেন অযাচিতভাবে বিভিন্ন কটূক্তির মাধ্যমে। শুরুতেই তার মন্তব্য ছিল, ‘রায় কি হবে, গতকালইতো পেয়ে গেছি’।

সাকার বিরুদ্ধে ৩ নম্বর অভিযোগ চট্টগ্রামের গহিরা শ্রী কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মালিক অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যার বিষয়ে রায় পড়ার সময় বিচারপতি আনোয়ারুল হককে তিনি বলেন, ‘৩০ লাখ তো মারা গেছে। বলে দিলেই হয়, আমিই ৩০ লাখ মেরেছি’।

রায় পাঠ করার সময় বিচারপতি আনোয়ারুল হক বিদেশি আইন সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে বলতে থাকলে তাকেসহ ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘এতো দিন শুনেছি বাংলাদেশি আইন। আইনমন্ত্রীও বলেছেন দেশি আইন। আর এখন বিদেশে চলে গেছেন’।

রায়ে ৬টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া প্রসঙ্গে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘মাত্র ৬টায় ফেল করছে। সব ভুলে গেছে, আর তোরাও জজ হইছস’।

ট্রাইব্যুনাল সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন রায়ের দ্বিতীয় অংশ পড়া শুরু করলে সাকা চৌধুরী আবারো বিচারপতিদের উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন, ‘ইলেকশন করতে না দেওয়ার জন্য এতো কষ্ট করছে বেচারারা’। চেয়ারে বসে সাকা মন্তব্য করেন, ‘আমাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অযোগ্য করতেই এইসব’।

এরপর সাকা বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে লাখ লাখ লোকের রায় দিলাম’। এ সময় তিনি বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে একটি তুচ্ছ সম্বোধন করে বলেন, ‘রায়ের জন্য এখানে বসে থাকতে হবে। নির্বাচন না করতে দেওয়ার জন্য এতো কষ্ট’। এরপর তার মন্তব্য, ‘আমার কবিরা গুনাহ হলো বিএনপিতে যোগ দেওয়া’।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর রায় পড়ার এক পর্যায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে লুটপাটের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করলে তার পরিবারকে উদ্দেশ্য করে সাকা অশ্লীল মন্তব্য করেন। তিনি সাক্ষী সোনাউল্লাহ মিয়াকে নিয়েও অশ্লীল মন্তব্য করেন। বিচারককে তিনি বলেন, ‘তোমার বোনকে বিয়ে করার কথা ছিলো, সেটা বল না? এতো অভাব হইছে আমার যে, ধানের কল চুরি কইরা নিছি। হু ধানের কল চুরি করছি, ঘরে ঢুকছি, তারপর কি করছি বল?’ সোনাউল্লাহ মিয়া সম্পর্কে তিনি একই বিচারককে বলেন, ‘লাল মিয়া, সোনা মিয়া বল, পাঁচ কেটে ছয় করার দরকার? মিয়া তো ঠিকই আছে’।

চার নম্বর অভিযোগ চট্টগ্রামের জগৎমল্লপাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে ৩২ হিন্দু নারী-পুরুষকে গণহত্যার বিষয়ে রায় পড়া শুরু হলে সাকা বলেন, ‘প্রতিটি শব্দ মিলে যাচ্ছে। প্রতিটি শব্দ একই’।

পাঁচ নম্বর অভিযোগ সুলতানপুরে নেপাল চন্দ্র ও অপর তিনজনকে হত্যার বিষয়ে আদেশ পড়া শুরু করলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাকা চৌধুরী ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গত ২ দিন ধরে তো এসব অনলাইনে চলেই এসেছে। পড়ার দরকার নাই’। তিনি ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আবারো বলেন, ‘দুই দিন আগেই এসব প্রকাশ পেয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘এগুলো তো অনেক আগেই অনলাইনে চলে এসেছে’। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘তোমরা দেখো নাই’? পরে আরেক প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘গত পরশু দিন থেকে রায় পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে। পাও নাই?’

ইংরেজিতে রায় পড়া ও তাদের উচ্চারণ নিয়ে বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে করে সাকা বলেন, ‘বাংলা ভালো কইরা কইতে পারে না। রায় লিখে আনছে বেলজিয়াম থেকে’।

আজানের কারণে রায় পড়া বন্ধ রাখা হলে তা নিয়ে সাকা চৌধুরী মন্তব্য ছিল, ‘নাস্তিকেরা এভাবে মুখ বন্ধ করে ফেললো?’

সাকা বলেন, ‘সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা বাদ দিয়েছে সে। বিচারপতি খায়রুল হকের সঙ্গে সেও (বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে উদ্দেশ্য করে) ছিল। আর এখন বসে বসে আজান শুনে’।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান তার রায়ের মূল অংশে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা যেসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে সেসব অভিযোগের নম্বর উল্লেখ করলে সাকা মন্তব্য করেন, ‘দিয়ে দাও ফাঁসি তাড়াতাড়ি। সাঈদী সাহেবের মতো লোককে ফাঁসি দিছে, আর আমি তো বড় গুণাহগার’।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘কাদেরকে ফাঁসি দিয়েছে ‘কসাই কাদের’ হিসেবে। আর উত্তরাধিকার হিসেবে আমার রায়। আমাকে দেবে ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে হিসেবে’।

নিজের ফাঁসির রায় শুনে কাঠগড়া থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেও ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে সাকা চৌধুরী বলছিলেন, এটা তো (রায়) মিনিস্ট্রি থেকে বেরিয়েছে, ইন্টারনেটে আছে তো। আইন মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ দিলাম। এ সময় স্বভাবসুলভ বিকৃত হাসিও ছিল তার মুখে।

রাজনীতির মাঠে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার স্বভাবসুলভ গোঁয়ার্তুমির কারণে বরাবরই আলোচিত নাম। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি হয়েও তার স্বভাবে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আইন পেশায় সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাইব্যুনালও তাকে বলেছেন, ‘আমরা আপনাকে সুযোগ দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। অনেক বেশি কথা বলার অভ্যাস আপনার রয়েছে। কারণ, আপনি অনেক বেশি জানেন, দয়া করে উত্তেজিত হবেন না’।

শুধু সাকা চৌধুরী নন, তার আইনজীবী ও স্বজনেরাও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে কথা বলেছেন, বাজে মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ ঘণ্টা, জুলাই ২৮, ২০১৫
ইএস/ এএসআর


Uploaded By : Rayhan Rashid
This item has been recorded here as part of ICSF's Media Archive Project which is a crowd sourced initiative run by volunteers, a not for profit undertaking to facilitate education and research. The objective of this project is to archive media items generated by different media outlets from around the world - specifically on 1971, and the justice process at the International Crimes Tribunal of Bangladesh. This archive also records items that contain information on commission, investigation and prosecution of international crimes around the world generally. Individuals or parties interested to use content recorded in this archive for purposes that may involve commercial gain or profit are strongly advised to directly contact the platform or institution where the content is originally sourced.

Facebook Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Comments

comments

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.