TwitterFacebook

চাঁদাবাজ ভুঁইফোড় সংগঠনের ছড়াছড়ি – ক্ষুণ্ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি

Published/Broadcast by :
Date : Saturday, 4 July 2015
Author : অমরেশ রায়
Published at (city) :
Country concerned :
Keywords : ,
Language :
Entry Type : Feature, Report
Source : http://www.samakal.net/2015/07/04/147459
Content :

২১ জুন ২০১৪। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল ‘বাংলাদেশ দেশরত্ন পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন। সভার শুরুতে মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা নিজেকে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে বেশ কিছু দলিলপত্র তুলে ধরেন। পরক্ষণেই চিত্তরঞ্জন দাস নামে আরেক আওয়ামী লীগ ‘নেতা’ নিজেকে সংগঠনটির সভাপতি ও সভার আয়োজক হিসেবে দাবি করলে বেধে যায় তুমুল হট্টগোল। এক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার উপস্থিতিতেই হৈচৈ, ধাক্কাধাক্কির পাশাপাশি এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে সভাস্থল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ কোনো নতুন ঘটনা নয়। আলোচনা সভা, গোলটেবিল বৈঠকসহ নানা কর্মসূচির নামে কয়েকটি ভুঁইফোড় ও নামসর্বস্ব সংগঠন গত ক’বছর ধরে প্রায়ই
এমন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। ‘মিডিয়া কাভারেজ’ ছাড়াও অর্থবাণিজ্যই এসব সংগঠন গড়ার পেছনের কারণ বলে জানা গেছে।
এসব ভুঁইফোড় সংগঠন অবাধে আওয়ামী লীগের নাম ও কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে চললেও দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা খুব কমই নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি কয়েকটি অনুষ্ঠানে ভুঁইফোড় এসব সংগঠন ও নেতাদের ‘মৌসুমি চাঁদাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় বলেন, ‘সবচেয়ে ব্যথিত হই বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে চিহ্নিত চাঁদাবাজ-ধান্দাবাজ, টাউট-বাটপাড়দের ছবি দেখলে। বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে এসব ভূমি দখলকারী ও লুটপাটে জড়িতদের ছবি আর দেখতে চাই না। নেতাকর্মীদের বলব, এগুলো ছিঁড়ে ফেলুন।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ সমকালকে বলেছেন, ‘এ নিয়ে বহু লেখালেখি হলেও কোনো কাজ হয়নি। এ বিষয়ে কিছু বলতেও চাই না।’ আওয়ামী লীগের এ দুই নেতার উচ্চারণ অরণ্যে রোদন মাত্র। যেন কারও কিছু করার নেই।
সম্প্রতি ভুঁইফোড় এসব সংগঠনের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। অনুসন্ধানে এ ধরনের শতাধিক সংগঠনের অপতৎপরতা দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই এসব সংগঠনের একাধিক অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সাইডলাইনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাসহ দল সমর্থক কিছু ব্যবসায়ী নিয়মিত হাজির হচ্ছেন। মিডিয়া কাভারেজ প্রত্যাশী এসব ব্যক্তি যেমন অর্থের বিনিময়ে কর্মসূচিগুলোতে প্রধান কিংবা বিশেষ অতিথি হচ্ছেন, তাদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিও চলছে। ‘পদক’ কিংবা ‘সংবর্ধনা’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উঠতি কিছু নেতা ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েও ‘পদক বাণিজ্যে’ লিপ্ত কয়েকটি সংগঠন।
আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদের সাড়ে ছয় বছরের মাথায় ভুঁইফোড় সংগঠন নেতাদের অনেকে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছেন। কারও কারও বিরুদ্ধে কর্মসূচির নামে চাঁদাবাজির পাশাপাশি টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়ারও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এখন ওপেন সিক্রেট। কর্মসূচির আমন্ত্রণপত্রে মন্ত্রী কিংবা নেতার নাম ছাপিয়ে দাবি করা হচ্ছে চাঁদা। সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কোনো নেতার নাম জুড়ে দিয়ে সহজে চাঁদা আদায়ও করা হচ্ছে।
অনেকগুলোয় প্যাড ও চিঠিতে সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে আওয়ামী লীগের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা রয়েছে। এ ব্যাপারে দল থেকেও বাধা আসছে না। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের আশপাশেও কয়েকটি সংগঠনের ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। এ ছাড়া অনেক সংগঠনের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও থানা কমিটির নেতার নামে বড় বড় ব্যানার ও পোস্টার টানানো হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। সংগঠনগুলোর সাইনবোর্ড, ব্যানার-পোস্টারে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার হচ্ছে।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম নয়টি সংগঠনের বাইরে অন্য কোনো সংগঠনের দলীয় পরিচয় ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই। সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পূর্বানুমোদনও বাধ্যতামূলক। মুক্তিযুদ্ধের নামে কোনো সংগঠন গড়তে চাইলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হয়। ভুঁইফোড় সংগঠনের বেলায় এসব কিছুই মানা হচ্ছে না। তাই সংগঠনের নামকরণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ রাসেল, শেখ কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে আসছে অহরহ। এ ছাড়া ‘আওয়ামী’, ‘লীগ’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযোদ্ধা’, ‘স্বাধীনতা’, ‘নৌকা’, ‘জয়বাংলা’ ও ‘প্রজন্ম’সহ নানা শব্দও ব্যবহার হচ্ছে অবাধে। হালে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানের অনুকরণে সংগঠনের নামের আগে ‘ডিজিটাল’ শব্দের ব্যবহারও বেড়েছে।
বঙ্গবন্ধু নামের সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে_ বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় লেখক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, চেতনায় মুজিব, আমরা মুজিব সেনা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ প্রভৃতি।
বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামের সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে_ রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি, শেখ রাসেল শিশু পরিষদ, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, জননেত্রী পরিষদ, দেশরত্ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, ড. এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন প্রভৃতি।
‘আওয়ামী’, ‘লীগ’ ও ‘নৌকা’ শব্দ ব্যবহার করে গড়ে তোলা সংগঠনগুলো হচ্ছে_ আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ (চার ভাগে বিভক্ত), আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী হকার্স লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী শিশু যুব সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, রিকশা মালিক লীগ, রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, আমরা নৌকা প্রজন্ম, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী লীগ, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী, নৌকার নতুন প্রজন্ম, নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, ঘাট শ্রমিক লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ প্রভৃতি।
মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে_ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণমুক্তি আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি প্রতিরোধ কমিটি, প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধ সমাজকল্যাণ যুব সংঘ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থা, আমরা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ প্রভৃতি। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ডিজিটাল’ শব্দযুক্ত কয়েকটি সংগঠন ও নেতাদের নামেও রাজধানীতে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে_ ডিজিটাল আওয়ামী লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ ও ডিজিটাল ছাত্রলীগ।
এ ছাড়া রয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরিষদ, বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন, সাধনা সংসদ, জাতীয় মুক্তিবাহিনী ‘৭৫, জনতার প্রত্যাশা, ‘৭৫-এর ঘাতক নির্মূল কমিটি, ২১ আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি, ডিজিটাল বাংলাদেশ, পরিবর্তন ফাউন্ডেশন, সোনার বাংলা গঠন পরিষদ, সম্মিলিত যুব-পেশাজীবী পরিষদ, অরোরা ফাউন্ডেশন প্রভৃতি।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুল হক সবুজ এ ধরনের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের একজন পৃষ্ঠপোষক, যিনি একাই অন্তত ৪০টি সংগঠনের উপদেষ্টা। ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরিষদের’ সভাপতি ছাড়াও ২২টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোটের চেয়ারম্যানও তিনি। আবদুল হক সবুজ এসব সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকারও করেননি। সমকালকে তিনি বলেছেন, ‘যাদের দিয়ে কর্মসূচি চালানো যায়, তাদের দিয়েই চালাই। আমি রাজপথের লোক। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজপথ দখলে রেখেছি। অনেকে বদনাম করে, প্রশংসাও করে। প্রশংসা করার লোকের সংখ্যা অবশ্য কম।’
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক এম এ করিমও অনেকগুলো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ‘জনতার প্রত্যাশা’র সভাপতি এম এ করিম একাধিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, কেউ ডাকলে সেই সংগঠনের অনুষ্ঠানে যান তিনি।
বঙ্গবন্ধু একাডেমির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিজি সংগঠনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় কর্মসূচিগুলো চালিয়ে নেন তিনি। বাড়তি কোনো সুবিধাও তিনি নেন না।


Uploaded By : Rayhan Rashid
This item has been recorded here as part of ICSF's Media Archive Project which is a crowd sourced initiative run by volunteers, a not for profit undertaking to facilitate education and research. The objective of this project is to archive media items generated by different media outlets from around the world - specifically on 1971, and the justice process at the International Crimes Tribunal of Bangladesh. This archive also records items that contain information on commission, investigation and prosecution of international crimes around the world generally. Individuals or parties interested to use content recorded in this archive for purposes that may involve commercial gain or profit are strongly advised to directly contact the platform or institution where the content is originally sourced.

Facebook Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook Comments

comments

Archive I: Media Archive

Archives news reports, opinions, editorials published in different media outlets from around the world on 1971, International Crimes Tribunal and the justice process.

Archive II: ICT Documentation

For the sake of ICT’s legacy this documentation project archives, and preserves proceeding-documents, e.g., judgments, orders, petitions, timelines.

Archive III: E-Library

Brings at fingertips academic materials in the areas of law, politics, and history to facilitate serious research on 1971, Bangladesh, ICT and international justice.

Archive IV: Memories

This archive records from memory the nine-month history of 1971 as experienced and perceived by individuals from all walks of life.