Blog, সচলায়তন »
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত কবে থেকে অংশগ্রহন করেছিল? আমরা জানি ভারত পাকিস্তানের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে জড়ায় ডিসেম্বরের ৩ তারিখে। কিন্তু ১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের ৩ তারিখের আগে কি ভারতীয় সামরিক বাহিনী বাংলাদেশ সেক্টরে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করেনি? আমরা জানি এর আগে ভারত পাকিস্তানের সাথে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ করেনি বটে কিন্তু অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধ চলেছে আরো অনেক আগে থেকেই। ভারত বাংলাদেশ থেকে আগত মুক্তিবাহিনীকে ট্রেনিং দিচ্ছিল, অস্ত্র সরবরাহ করছিল, রসদ যোগাচ্ছিল এমনকি অঘোষিতভাবে অপারেশনেও অংশ নিচ্ছিল। তাই শেষ পর্যায়ে এসে ভারতের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধে জড়ানো ছাড়া কোন উপায় ছিলনা।
ভারতের উপর এক কোটির …
Blog, সচলায়তন »
ব্যক্তি হিসেবে না, জামায়াত ইসলাম দলগতভাবেই মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিলো। এখন জামায়াতের যেসব নেতারা বলেন যে দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই বা জামায়াত ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, তারাই দলীয়ভাবে যুদ্ধাপরাধে নেতৃত্ব দিয়েছিলো। তথ্য প্রমাণের অভাবে তাদের অনেক কথারই জবাব দেওয়া যায় না। তাই চেষ্টা করলাম আবেগ বহির্ভূতভাবে শুধু তথ্যসূত্র সম্বল করে জামায়াত ইসলামের যুদ্ধাপরাধের কিছু নমুনা তুলে ধরতে। এখানে কিছু দেওয়া হলো। আরো অনেক আছে, ধীরে ধীরে এই পোস্টে আরো কিছু নমুনা (অবশ্যই তথ্যসূত্রসহ) যোগ করার আশা রাখি। সবার প্রতিই অনুরোধ রইলো মন্তব্যের ঘরে যোগ করে দিন আপনার …
Blog, সচলায়তন »
(সৌজন্যে ডা: এম এ হাসান , আহবায়ক ,ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি )
রাজাকারদের নামের তালিকা
ঢাকা বিভাগ
ঢাকা জেলা:
রাজাকার আকবর- শাঁখারী বাজার, ঢাকা
রাজাকার তোতা মিয়া- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রাজাকার ঈমান আলী- রায়েরবাজার, ঢাকা
রাজাকার হেদায়েত উল্লাহ (মৃত)- রায়েরবাজার, ঢাকা
গাজীপুর জেলা
রাজাকার আলাউদ্দীন-গ্রাম-মুদাফা, থানা-টঙ্গী, গাজীপুর
রাজাকার আওয়াল- জয়দেবপুর, গাজীপুর
রাজাকার এমপি নওয়াব আলী- জয়দেবপুর, গাজীপুর
রাজাকার হাকিম উদ্দীন- মাধববাড়ি, জয়দেবপুর, গাজীপুর
রাজাকার আহাদ আলী, মাধববাড়ি, জয়দেবপুর, গাজীপুর
রাজাকার মনু- মাধববাড়ি, জয়দেবপুর, গাজীপুর
টাঙ্গাইল জেলা:
রাজাকার আনিস-ছাব্বিশা, ভূয়াপুর, টাঙ্গাইল
রাজাকার সাজু-কালামাঝি, মধুপুর, টাঙ্গাইল
রাজাকার মওলানা লুৎফর- কালামাঝি, মধুপুর, টাঙ্গাইল
রাজাকার শাজাহান- কালামাঝি, মধুপুর, টাঙ্গাইল
রাজাকার রশীদ- কালামাঝি, মধুপুর, টাঙ্গাইল
রাজাকার সামাদ- কালামাঝি, মধুপুর, টাঙ্গাইল
রাজাকার দুদু মিয়া- কালামাঝি, মধুপুর, টাঙ্গাইল
রাজাকার মনসুর- …
Blog, সচলায়তন »
আজ থেকে ৩৩ বছর আগে এদিনে মানে ১১ ই নভেম্বর ১৯৭৫ রোজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের সোলাকিয়া গ্রামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয় মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী বীরসেনানী লে ক এ টি এম হায়দার বীর উত্তমকে ।
বাংলাদেশে (তত্ কালীন পুর্ব পাকিস্তান ) প্রথম পাক সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের কর্মকর্তা হায়দার কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে পালিয়ে ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধে যোগদেন এবং শুরু থেকেই ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ এর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে মেলাঘরে অবস্থিত প্রশিক্ষন ক্যাম্পে সকল মুক্তিযুদ্ধাকে কমান্ডো বিস্ফোরক ও গেরিলা ট্রেনিংসহ করাতেন । কিশোরগঞ্জ -ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর তারের ঘাটপুল ও মুসল্লি রেলপুল, …
Blog, সচলায়তন »
৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সকাল ৯ টায় মিত্রবাহিনীর অধিনায়ক কর্নেল রাও আমাদের ক্যম্পে এসে নির্দেশ দিলেন সন্ধা ৭টায় পাক বাহিনীর শক্তিশালী ঘাটি পানিহাতা আক্রমন করতে হবে। তার নির্দেশ শুনে আমার কোম্পানির যোদ্ধারা কিছুটা ভড়ঁকে গেল । কারণ, কিছুদিন আগে উক্ত ঘাঁটি আক্রমন করতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীর একজন কোম্পানি কমান্ডার সহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছে ।
যা হোক, দেশ স্বাধিন করতেই হবে যে কোন মুল্যে, পিছুপা হলে চলবে না । আমি সকলকে একত্র হতে আদেশ দিয়ে ব্রিফিং দিলাম । সবাই “জয় বাংলা ” বলে অপারেশনে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করল । সন্ধায় কর্নেল রাও …
Blog, সচলায়তন »
এমএ মঞ্জুর, বীরউত্তম।
একাত্তরে ১৬ ডিসে ঢাকায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তার ৯ দিন আগেই যশোর সেনানিবাসের পতন হয়েছিল ৭ তারিখে যশোর সেনানিবাসের পাকিস্তান ট্যাংক রেজিমেন্টের একটি দল আত্মসমর্পণ না করে খুলনার শিরোমনিতে পজিশন নেয়। কথিত আছে যে, তারা ৭ম নৌবহরের আশায় খুলনা হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণের মুখে পাকবাহিনীর ট্যাংক রেজিমেন্টের ওই দলটি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। ওই অপারেশনটির নাম ‘ব্যাটল অব শিরোমনি’ এবং অপারেশনের কমান্ডার যিনি দুই হাতে দুই এসএলআর উঁচিয়ে ফায়ার করতে করতে ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলেন …
Blog, সচলায়তন »
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ -বাঙ্গালীর হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জল দিন । শত সমালোচনা , শত দুর্বলতা , শত নেতিবাচক দিক সত্ত্বেও এটা সুর্যের মত দেদীপ্যমান যে, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ,এদিনই বাঙ্গালী সর্বপ্রথম যথার্থভাবেই বাংলাদেশের শাসনভার পরিচালনার পর্যায়ে উপনিত হয়েছিল।
বিখ্যাত ইতিহাসবেত্তা ড.নীহার রায় রচিত “বাঙ্গালীর ইতিহাস” থেকে জানা যায় যে, একমাত্র রাজা শশাঙ্ক এবং জালালুদ্দিন যদু ছাড়া আর কোনো বাঙ্গালীই বঙ্গ বা বাংলাদেশ শাসন করেননি । পাল ও সেন বংশও ছিল বহিরাগত। মুসলিম আমলের ইসলাম খা ,শায়েস্তা খা, মীর জুমলাসহ সকল শাসকই ছিলেন অবাঙ্গালী। নবাব আলীর্বদী খাঁ ও এসেছিলেন দাক্ষিণাত্য থেকে। …
Article, Blog, সচলায়তন, সমকাল »
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার বিখ্যাত নারী নামক কবিতায় বলেছেন যথার্থভাবেইঃ
”জগতের যত বড় বড় জয় বড়বড় অভিযান
মাতা ভগ্মী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।
কতমাতা দিল হৃদয় উপাড়ি ত বোন দিল সেবা,
বীরের স্মতিস্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?”
এই উদ্ধৃতিটি বিশ্বের ইতিহাসেও যেমন সত্য তেমনি সত্য আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসেও। আমরা ক’জন জানি, ২১শে ফেব্রয়ারী,৫২ সালে যখন পুলিশ গ্রেফতারী এ্যাকশন শুরু করে তখন নারীরাই প্রথম মিছিল বের করেছিল? এ নিয়ে আলোচনা লেখালেখি হয়নি বললেই চলে। আর ভূমিকা নয় আসুন ঘটনাপঞ্ছির আলোকে জেনে নেই ভাষা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা।
১৯৪৭ সালের ১৫ ই নভেম্বর তারিখে কেন্দ্রীয় …
Blog, সচলায়তন »
৩ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় পার্লামেন্টারী পার্টিসমূহের নেতৃবৃন্দের এক গোল টেবিল বৈঠক আহ্বান করেন । কিন্তু শেখ মুজিব এই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন ।
এই দিন বিকেলে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে পলটন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা। এই সভায় সিরাজপন্থী ছাত্রলীগ তথা স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের পক্ষে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ পাঠ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার । ঘোষণা আকারে প্রস্তাব পাঠ করা হয়েছিল -‘৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগলিক এলাকার সাত কোটি মানুষের জন্য আবাসভুমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাস্ট্রের নাম বাংলাদেশ । এই দেশ …
Blog, সচলায়তন »
১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিস্টকালের জন্য পরিষদ অধিবেষন স্থগিত ঘোষণা করেন । প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ১ মার্চের ঘোষণার ফলে পুর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারী পার্টির সাথে আলোচনা করে গান্ধীজীর কায়দায় অর্থাৎ অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসন আদায়ে বদ্ধপরিকর হলেন । তিন ৬ দিনব্যাপী এক কর্মসুচি ঘোষণা করলেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী , সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব ও জি এস আবদুল কুদ্দুসের মাখনের সমন্নয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্র সংগ্রাম …
Blog, সচলায়তন »
৬ মার্চ লে জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খানকে অপসারণ করে লে জেনারেল টিক্কা খানকে পুর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় । এই উত্তপ্ত সময়ে নৃশংস বলে কুখ্যাত টিক্কা খানকে পুর্ব পাকিস্তানে প্রেরণের উদ্দেশ্য যে মিলিটারী বুটের নিচে পুর্ব পাকিস্তানের গণ আন্দোলনকে দাবিয়ে দেয়া এটা উপলব্ধি করতে পেরে ঢাকা হায়কোর্টের প্রধান বিচারপতি জনাব বি এ সিদ্দিকী টিক্কা খানের শপথনামা পরিচালনা করতে অস্বীকার করেন । ফলে সৃষ্টি হলো এক অচলাবস্থার । এদিকে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বাধীন ‘নিউক্লিয়াস’ শেখ মুজিবের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যাতে তিনি ৭ …
Blog, সচলায়তন »
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যাদের ভূমিকার জন্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা যেতে পারে তাদের বিরূদ্ধে অন্য দেশে বিচার চাওয়ার ব্যাপারে সম্প্রতি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। তার পরবর্তীতে এই ব্যাপারটি নিয়ে কেউ কেউ ব্যক্তিগত মেইল দিয়ে আমাকে তাদের চিন্তা-ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। তাদের চিন্তা-ভাবনা ও জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কীভাবে হওয়া উচিত তার নীতিমালা নিয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নীতিমালা ও আংশিক কার্যধারা নিয়ে যদি আমার ভাবনাগুলোকে সাজাই তাহলে মোটামুটি এমন হয়ঃ
১. যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়টি কোন দল বা গোষ্ঠীর নয়। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই বিচার জরুরী, …
