Home » Archive

Articles in the সচলায়তন Category

Blog, সচলায়তন »

[28 Jan 2010 | Comments Off ]

এমএ মঞ্জুর, বীরউত্তম।
একাত্তরে ১৬ ডিসে ঢাকায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তার ৯ দিন আগেই যশোর সেনানিবাসের পতন হয়েছিল ৭ তারিখে যশোর সেনানিবাসের পাকিস্তান ট্যাংক রেজিমেন্টের একটি দল আত্মসমর্পণ না করে খুলনার শিরোমনিতে পজিশন নেয়। কথিত আছে যে, তারা ৭ম নৌবহরের আশায় খুলনা হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণের মুখে পাকবাহিনীর ট্যাংক রেজিমেন্টের ওই দলটি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। ওই অপারেশনটির নাম ‘ব্যাটল অব শিরোমনি’ এবং অপারেশনের কমান্ডার যিনি দুই হাতে দুই এসএলআর উঁচিয়ে ফায়ার করতে করতে ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলেন …

Blog, সচলায়তন »

[28 Jan 2010 | Comments Off ]

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ -বাঙ্গালীর হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জল দিন । শত সমালোচনা , শত দুর্বলতা , শত নেতিবাচক দিক সত্ত্বেও এটা সুর্যের মত দেদীপ্যমান যে, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ,এদিনই বাঙ্গালী সর্বপ্রথম যথার্থভাবেই বাংলাদেশের শাসনভার পরিচালনার পর্যায়ে উপনিত হয়েছিল।
বিখ্যাত ইতিহাসবেত্তা ড.নীহার রায় রচিত “বাঙ্গালীর ইতিহাস” থেকে জানা যায় যে, একমাত্র রাজা শশাঙ্ক এবং জালালুদ্দিন যদু ছাড়া আর কোনো বাঙ্গালীই বঙ্গ বা বাংলাদেশ শাসন করেননি । পাল ও সেন বংশও ছিল বহিরাগত। মুসলিম আমলের ইসলাম খা ,শায়েস্তা খা, মীর জুমলাসহ সকল শাসকই ছিলেন অবাঙ্গালী। নবাব আলীর্বদী খাঁ ও এসেছিলেন দাক্ষিণাত্য থেকে। …

Article, Blog, সচলায়তন, সমকাল »

[28 Jan 2010 | Comments Off ]

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার বিখ্যাত নারী নামক কবিতায় বলেছেন যথার্থভাবেইঃ
”জগতের যত বড় বড় জয় বড়বড় অভিযান
মাতা ভগ্মী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।
কতমাতা দিল হৃদয় উপাড়ি ত বোন দিল সেবা,
বীরের স্মতিস্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?”
এই উদ্ধৃতিটি বিশ্বের ইতিহাসেও যেমন সত্য তেমনি সত্য আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসেও। আমরা ক’জন জানি, ২১শে ফেব্রয়ারী,৫২ সালে যখন পুলিশ গ্রেফতারী এ্যাকশন শুরু করে তখন নারীরাই প্রথম মিছিল বের করেছিল? এ নিয়ে আলোচনা লেখালেখি হয়নি বললেই চলে। আর ভূমিকা নয় আসুন ঘটনাপঞ্ছির আলোকে জেনে নেই ভাষা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা।
১৯৪৭ সালের ১৫ ই নভেম্বর তারিখে কেন্দ্রীয় …

Blog, সচলায়তন »

[28 Jan 2010 | Comments Off ]

৩ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় পার্লামেন্টারী পার্টিসমূহের নেতৃবৃন্দের এক গোল টেবিল বৈঠক আহ্বান করেন । কিন্তু শেখ মুজিব এই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন ।
এই দিন বিকেলে ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে পলটন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল ছাত্র জনসভা। এই সভায় সিরাজপন্থী ছাত্রলীগ তথা স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের পক্ষে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ পাঠ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার । ঘোষণা আকারে প্রস্তাব পাঠ করা হয়েছিল -‘৫৪ হাজার ৫০৬ বর্গ মাইল বিস্তৃত ভৌগলিক এলাকার সাত কোটি মানুষের জন্য আবাসভুমি হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাস্ট্রের নাম বাংলাদেশ । এই দেশ …

Blog, সচলায়তন »

[28 Jan 2010 | Comments Off ]

১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিস্টকালের জন্য পরিষদ অধিবেষন স্থগিত ঘোষণা করেন । প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ১ মার্চের ঘোষণার ফলে পুর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারী পার্টির সাথে আলোচনা করে গান্ধীজীর কায়দায় অর্থাৎ অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসন আদায়ে বদ্ধপরিকর হলেন । তিন ৬ দিনব্যাপী এক কর্মসুচি ঘোষণা করলেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী , সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব ও জি এস আবদুল কুদ্দুসের মাখনের সমন্নয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্র সংগ্রাম …

Blog, সচলায়তন »

[28 Jan 2010 | Comments Off ]

৬ মার্চ লে জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খানকে অপসারণ করে লে জেনারেল টিক্কা খানকে পুর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় । এই উত্তপ্ত সময়ে নৃশংস বলে কুখ্যাত টিক্কা খানকে পুর্ব পাকিস্তানে প্রেরণের উদ্দেশ্য যে মিলিটারী বুটের নিচে পুর্ব পাকিস্তানের গণ আন্দোলনকে দাবিয়ে দেয়া এটা উপলব্ধি করতে পেরে ঢাকা হায়কোর্টের প্রধান বিচারপতি জনাব বি এ সিদ্দিকী টিক্কা খানের শপথনামা পরিচালনা করতে অস্বীকার করেন । ফলে সৃষ্টি হলো এক অচলাবস্থার । এদিকে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বাধীন ‘নিউক্লিয়াস’ শেখ মুজিবের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যাতে তিনি ৭ …

Blog, সচলায়তন »

[20 Jan 2010 | Comments Off ]

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যাদের ভূমিকার জন্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা যেতে পারে তাদের বিরূদ্ধে অন্য দেশে বিচার চাওয়ার ব্যাপারে সম্প্রতি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। তার পরবর্তীতে এই ব্যাপারটি নিয়ে কেউ কেউ ব্যক্তিগত মেইল দিয়ে আমাকে তাদের চিন্তা-ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। তাদের চিন্তা-ভাবনা ও জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কীভাবে হওয়া উচিত তার নীতিমালা নিয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নীতিমালা ও আংশিক কার্যধারা নিয়ে যদি আমার ভাবনাগুলোকে সাজাই তাহলে মোটামুটি এমন হয়ঃ
১. যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়টি কোন দল বা গোষ্ঠীর নয়। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই বিচার জরুরী, …

Article, Bengali, Blog, Dhaka, History, Politics, War Crime, War Criminal, সচলায়তন »

[6 Jan 2010 | Comments Off ]

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সদ্য ক্ষমতায় আগত মহাজোট সরকারের মুখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ কয়েক ডেসিবেল নিচে নেমে বাজতে থাকে। এ কথা খুব দূর অতীতের নয় যে মহাজোট যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জনগণকে দিয়ে বিপুল ভোটে জিতে সরকার গঠন করেছে। ক্ষমতায় আসতে না আসতেই সেনাবাহিনীর ৫৪ জন অফিসার [মেজর জেনারেল থেকে শুরু করে ক্যাপ্টেন পর্যন্ত]সহ ৭৪ জনের মৃত্যু এবং পিলখানায় বিডিআর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ সরকারের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করে। কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায়, এ হত্যাযজ্ঞে বেনিফিশিয়ারিদের তালিকায় যুদ্ধাপরাধীরা রয়েছে।
পুনরায় মানুষের মুখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের …

Bengali, Blog, Dhaka, Freedom Fighter, History, সচলায়তন »

[2 Jan 2010 | No Comment ]

 ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস জাতীয় জীবনের সর্বোচ্চ গৌরবের ইতিহাস। সেই ইতিহাস নিয়ে আমাদের গর্ব আছে, আছে পূর্বসূরীদের প্রতি এই প্রজন্মের গভীর সন্মানবোধ। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে এই পর্যন্ত জাতীয়ভাবে তৈরি করা হযেছে মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচটি তালিকা (সূত্র দৈনিক প্রথম আলো, ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত সংবাদ)। সেই তালিকার সঙ্গে শহীদদের তালিকাও করা হয়েছে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে দফায় দফায় তৈরি হওয়া শহীদদের নামের তালিকাতে নারী শহীদদের নাম খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জেলা শহরে শহীদদের নাম-ধামের উল্লেখ করে যেসকল স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হযেছে সেখানেও স্থান …

Blog, সচলায়তন »

[29 Dec 2009 | Comments Off ]

জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৭১ সালের ৭ই ডিসেম্বরে একটি প্রস্তাবনাকে সামনে রেখে এক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবনার বিষয়বস্তু: যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহার। পাকি বাহিনী যখন মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সৈন্যদের কাছে পরাজয়ের মুখোমুখি, এমনি এক পরিস্থিতিতে এই বাস্তববিবর্জিত প্রস্তাবটি পেশ করা হয়। এটি পেশ করা হয় এমনি এক পক্ষ থেকে, যারা পাকিস্তানের অখন্ডতার ধূঁয়া তুলেছে বারবার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে পারলে হয়তো হানাদাররা নিজেদেরকে পরাজয়ের আগে আরেকবার গুছিয়ে নেবার সুযোগ পেতো। প্রস্তাবনার পক্ষে ১০৪, বিপক্ষে ১১ টি ভোট পড়ে। ১০ টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে। পাকিস্তান ও ভারতীয় প্রতিনিধির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের …

Blog, সচলায়তন »

[19 Dec 2009 | Comments Off ]

১.
আমরা ব্লগ এবং নানান জায়গায় বছরের পর বছর ধরে চিৎকার করেই যাচ্ছি যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমাদের নেই। প্রতিবার সরকার চোখ পাল্টি দেন।
একটা কথা মেঘমুক্ত দিবাকাশে সূর্যের মতোই স্পষ্ট যে সরকারের আশায় বসে থাকলে আমরা জীবনেও আমাদের জাতীয় ইতিহাস পাবো না। সবই হবে দলীয় ইতিহাস।
(শুধু যদি এই দলগুলোর জীবদ্দশা নিয়ে তামাশা চলতো, তাহলেও নাহয় কথা ছিলো, কিন্তু আমরা বিগত জোট সরকারের আমলে দেখেছি বাঙ্গালী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ভিন্নধারা দেখাতে আমাদের এই ভূখণ্ডের ইতিহাস নিয়েও তারা নাড়াচাড়া করেছে। মুক্তিযুদ্ধকে দূর্বল প্রমাণ করতে পলাশী যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লাফাইতে দেখছি)
তো যাহোক, বিষয়টা এখন একেবারেই …

Bengali, Blog, History, War Crime, সচলায়তন »

[18 Dec 2009 | No Comment ]

ইতিহাস নিজের মতো করে লেখার চর্চা বহুদিন থেকে চালু আছে বাংলাদেশে । এই বছরদুয়েক আগে পর্যন্ত এই স্বরচিত ইতিহাস সীমাবদ্ধ ছিলো পাঠ্যপুস্তকে, রাজনীতিদের বুলিতে রাষ্ট্রিয় প্রচার যন্ত্রের চাপাবাজিতে । এই ইতিহাস বিকৃতির ক্ষেত্রগুলো ছিলো কিছু ঘটনাকে অস্বীকার (denial) বা কোন ঘটনা নিজের মতো করে সংশোধন (revision) করার মাধ্যমে । নিজামীর দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই দাবি প্রথম প্রকারের উদাহরন হিসেবে দেখা যায় । স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করেনি – এটা দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ ।
ইতিহাস বিকৃতির এই চর্চা একমাত্র বাংলাদেশেই চালু নেই । ইউরোপ জুড়ে এই চর্চা চালু আছে অনেকদিন …